ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু ৩ বছর পার না হতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। এবার এই খানাখন্দ ঠিকঠাক ও রক্ষণাবেক্ষণে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানায়, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির কিছু কিছু জায়গায় মেরামত ও স্থানভেদে সংস্কারের জন্য এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পের কাজ মানসম্মত হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। এর আগে সড়কটির মেরামত বাবদ ৯৫০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব ফেরত পাঠালে এখন নতুন করে এই টাকার আবদার করছে তারা। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, সড়কটি জাতীয়ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানীর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বাড়াতে এটিকে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়। কিন্তু ৩ বছর পার না হতেই কেন রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। এতে বর্তমানে নির্মিতব্য সড়কগুলো আরও টেকসই করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে এখন তদারকি বাড়ানো হচ্ছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক সংস্কার, মেরামত করে সচল রাখতে ৫০০ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই প্রকল্প অনুমোদন পেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) চলতি বছর থেকে পরবর্তী ৪ বছরের জন্য সড়কটি নানা ধরনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করবে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৯২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়কের জন্য এই বরাদ্দ চেয়েছে বিভাগটি।
সওজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির উপযোগিতা দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কটির বেশ কয়েকটি স্থানে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ যানবাহনের চালক গাড়ি নিয়ন্ত্রণ রাখতে গতি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। কয়েক স্থানে সওজের পক্ষ থেকে ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় সড়কটির কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। এজন্য এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই ৪ লেন মহাসড়কটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। অথচ উদ্বোধনের তিন বছর না পেরোতেই ১৯২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গেছে। দেখা দিয়েছে খানাখন্দ। এখন বৃষ্টি কিংবা ভারী যানবাহনের দোহাই দিয়ে সংস্কারের নামে বড় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর আগে সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখতে সংস্কারের নামে ৯৪৪ কোটি টাকা চেয়েছিল সওজ। তখন বলেছিল, পরবর্তী ৫ বছর সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণে এই অর্থ প্রয়োজন। পরে অনেক বেশি বরাদ্দ চাওয়া হচ্ছে জানিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প ফেরত পাঠানো হয়। এখন ৪ বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫০০ কোটি ৬২ লাখ চাইছে। পরিকল্পনা কমিশন এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সওজের এই প্রস্তাাবিত প্রকল্প নিয়ে একাধিক মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া ফোরলেন মসৃণ রাখতে আলাদা প্রকল্প নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) জাকির হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে আছে। আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি চলাচলের উপযোগী করার জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটিতে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এখন এগুলো সংস্কারে উদ্যোগ না নিয়ে ৪ লেনটিতে আরও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সড়কটির ওপর যান চলাচলের চাপ বাড়ছে। ফলে এই প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ^ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নতুন সড়ক দ্রুতই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা দুঃখজনক। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রকল্পের মানসম্মত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে জনগণের টাকা অপচয় হতেই থাকবে। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
