সাহস নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতেন

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ১২:৫৭ এএম

গতকাল না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ভারতের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাড। তার সঙ্গে সখ্য ছিল অভিনেতা ও নির্দেশক তারিক আনাম খান-এর। পাভেল রহমান-এর কাছে সেই স্মৃতিচারণা করেছেন তিনি

প্রথম দেখা

সম্ভবত ১৯৭৬ সালের দিকে তাকে প্রথম দেখেছি। তখন আমি দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে পড়ছি। একটা নাট্যোৎসবে তিনি এসেছিলেন। এনএসডিতেই তার ‘তুঘলক’ নাটকটি প্রথম দেখেছিলাম এবং ভীষণ মুগ্ধ হয়েছিলাম। এরপর তার ‘হয়বদন’ নামের একটি নাটক দেখেছি। সেটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন তারই বন্ধু বিবিকারন্দ। এনএসডিতে ছাত্রাবস্থায় সৈয়দ জামিল আহমেদও ‘হয়বদন’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

গিরিশ কারনাডের সঙ্গে আড্ডা

সালটা ঠিক মনে নেই। সম্ভবত আশির দশকে ‘ম্যাকবেথ’ নাটক নিয়ে আমরা কলকাতা গিয়েছিলাম। অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের অডিটোরিয়ামে বসে তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা দিয়েছিলাম। তখন বাংলাদেশের থিয়েটার সম্পর্কে অনেক আলোচনা হয়েছিল। তাকে বাংলাদেশে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। সেই স্মৃতি এখন ভীষণভাবে মনে পড়ছে।

আমার নির্দেশনায় তার নাটক

আমাদের নাট্যদল ‘নাট্যকেন্দ্র’র দ্বিতীয় প্রযোজনা তার লেখা নাটক ‘তুঘলক’। আমি এই নাটকে তুঘলক চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। নব্বইয়ের দশকে নাটকটি বাংলাদেশে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। সারা দেশে ৩৭টির মতো প্রদর্শনী হয়েছিল।

তার মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি

গিরিশ কারনাডের নাটক আমাকে ভীষণ প্রভাবিত করেছে। তার সাহসিকতাও আমাকে প্রভাবিত করেছে। ভারতের যে কজন বুদ্ধিজীবী সাহস নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারতেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। মানুষের মৃত্যু তো স্বাভাবিক বিষয়। তার বয়স হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তবু তার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

ঢাকার মঞ্চে গিরিশের নাটক

বাংলাদেশে গিরিশ কারনাডের বেশ কয়েকটি নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। এর মধ্যে আমার নির্দেশনায় ‘তুঘলক’ ছাড়াও তৌকীর আহমেদের নির্দেশনায় ‘হয়বদন’ মঞ্চে এনেছিল নাট্যকেন্দ্র। ‘যযাতি’ নাটকটি মঞ্চে এনেছিল সময় নাট্যদল এবং আশীষ খন্দকারের নির্দেশনায় ‘অগ্নিজল’ মঞ্চে এনেছিল নাট্যধারা। ২০১২ সালের দিকে প্রাচ্যনাট স্কুলের প্রযোজনায় শাহেদ আলীর নির্দেশনায় ‘তুঘলক’ নাটকটি আবার মঞ্চে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত