দুজনের চ্যাম্পিয়নের মতো ফেরা

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৯, ০২:০২ এএম

এভাবে একই সঙ্গে জ্বলে উঠলেন তারা, একই ম্যাচে! এতটা হয়তো কেউ ভাবেননি। একজন সেঞ্চুরি করলেন, অন্যজন নিলেন ৫ উইকেট। পারফরম্যান্সের তুলনায়-ওজনে দুটোই সমান। মাঠে নামার আগে ডেভিড ওয়ার্নার ও মোহাম্মদ আমির নিজেদের মধ্যে কি কথা বলেছিলেন? কোনো প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কি? মুখোমুখি হয়ে হয়তো আনুষ্ঠানিক কিছু করেননি। তবে একটি প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন মনে। বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়াÑ ভুল করাই হয় শোধরানোর জন্য। দুজনের মনের প্রতিজ্ঞা একবিন্দুতে মিলে গেল। তাই গতকালকের অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচে দুই দলকে ছাপিয়ে গেলেন এ দুজন। অপরাধের সাজা খেটে ক্রিকেটে ফেরা দুই ক্রিকেটার দেখিয়ে দিলেন, সমালোচকদের জবাব দিলেন।
বল ট্যাম্পারিং বিতর্কে জড়িয়ে এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। এই বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন। ওদিকে আমির স্পট ফিক্সিং করে নিষিদ্ধ ছিলেন প্রায় পাঁচ বছর। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ হয়েছিল তার। তবে ক্যারিয়ারে এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন। ওয়ার্নার-আমিরের জন্য এই বিশ্বকাপ তাই বিশেষ কিছু। অতীত ভুলিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ। এখানেও মিলে গেছে দুজনের চেষ্টা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দুই দলের হয়ে নিয়মিত হাসছেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৯ রান করেন ওয়ার্নার। লক্ষ্যটা বড় হলে ওই ম্যাচেই হয়তো সেঞ্চুরি করে ফেলতেন। পরের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যর্থ হলেও ভারতের সঙ্গে খেলেছেন ৫৬ রানের ইনিংস। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে গত ম্যাচে আগের আক্ষেপগুলো মিটিয়ে দিলেন। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে এটি ওয়ার্নারের প্রথম সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে ১৫তম। যেন ঘোষণা দিলেনÑ আমি সেই পুরনো ওয়ার্নার। মাঝের এক বছর ভুলে গেছি। তোমরাও ভুলে যাও।
আমিরের জন্য চ্যালেঞ্জটি ছিল আরও বড়। ওয়ার্নারের মতো দলে জায়গা পাকা ছিল না তার। বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলেই তো ঠাঁই হয়নি। কিন্তু টুর্নামেন্ট যে ইংল্যান্ডে, এখানেই তো নয় বছর আগে অন্ধকারে পা দিয়েছিলেন ১৬ বছরের আমির। শাপমোচনের একটা ব্যাপার আছে না! সেখানে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ হাতছাড়া হতে বসেছিল আমিরের। দল ঘোষণার কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকেন পক্স হওয়ায় ইংল্যান্ড সফররত দলের বাইরে চলে যেতে হলো। তখন মনে হচ্ছিল নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নয়, ভাগ্যই আমিরকে বিশ্বকাপে খেলতে দেবে না। অথচ সবাইকে ভুল প্রমাণ করে ভাগ্যই আমিরকে ঠেলে দিল বিশ্বকাপ দলে। অসুস্থতা-অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ইংল্যান্ডে ভালো করার অতীত বিবেচনায় সুযোগ পেয়ে গেলেন এই পেসার। এর পেছনে কারণ ছিল ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সেই শিরোপা প্রথমবার জয়ের পেছনে পাকিস্তানের নায়ক ছিলেন আমির। তাই আরও একবার ইংল্যান্ডের আসরে তাকে সুযোগ দিতে বাধ্য হলেন নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক।
দলের বাইরে থেকে একেবারে একাদশের এক নম্বর বোলার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জ্বলে উঠলেন আমির। দুর্দান্ত গতি-সুইং সব মিলিয়ে দুর্বোধ্য বোলিংয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। বোর্ডে রান কম থাকায় সেদিন করার কিছু ছিল না। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেট। দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে শীর্ষে। আর গত ম্যাচে উঠে গেলেন আরও উঁচুতে। ক্যারিয়ারসেরা স্পেল দেখিয়ে প্রথমবার ৩০ রানে নিলেন ৫ উইকেট। এতে ১০ উইকেটে অস্ট্রেলিয়া ইনিংস পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট তার দখলে। আর বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চতুর্থসেরা বোলিং স্পেলও উপহার দিলেন। শহিদ আফ্রিদি ও ওয়াসিম আকরামের পর সেরা বোলিং ফিগারটি এখন তার। গতকালের ভেন্যু ছিল টনটন, ২০১৬-তে এ মাঠেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আমির। সেই টনটনেই নিজের ক্যারিয়ারকে আরেকটি সুখকর মোড় এনে দিলেন কি!

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত