প্রস্তাবিত বাজেট একটি ধারাবাহিক বাজেট বলে মন্তব্য করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে জানিয়েছে, এ ধরনের বড় বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য।
বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরকে আদায় করতে হবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় এত বড় রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং।
নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হবে, যা সহনশীল বলে মনে করছে ডিসিসিআই। তবে এজন্য বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ যেন কমে না যায় সেদিকেও সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।
আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এডিপি ব্যয় বৃদ্ধি অবকাঠামা উন্নয়নে গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিতে জোরারোপ করা হয়।
গত অর্থবছর বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মুদ্রানীতি অনুযায়ী বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের ৪৮ শতাংশ সরকারি ব্যাংক খাতের। বাজেটে ‘ইনসলভেনসি অ্যান্ড ব্যাংক্রাপসি ল’ শিরোনামে একটি আইন প্রণয়নের প্রস্তাবকে ঢাকা চেম্বার স্বাগত জানিয়েছে।
সরকারি ব্যাংকগুলোতে পুনঃঅর্থায়নে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বাজেট থেকে বরাদ্দ রাখতে হয়। ফলে রাজস্ব খাত থেকে আহৃত অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে প্রতিবছর খেলাপির কারণে ঋণে সুদের হার কমানো যাচ্ছে না। ফলে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। ব্যাংক খাতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যাংকিং কমিশন গঠন, মার্জার ও অ্যাকুইজিশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ডিসিসিআই।
নতুন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে সহায়ক হবে বলে ডিসিসিআই মনে করে। তবে এর আওতায় ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট না পাওয়া গেলে অতিরিক্ত ভ্যাটের বোঝা ভোক্তাকে বহন করতে হবে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করা যেতে পারে।
বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও করপোরেট কর কমানো না হলে সরকার প্রত্যাশিত বেসরকারি ও উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়বে না। এতে বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন কর্মসংস্থান সৃিষ্টর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে মনে করে ডিসিসিআই। তবে এর সুফল ভোগ করতে হলে কর্মসংস্থান সহায়ক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন।
নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য স্টার্ট আপ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি যোগ্য ও সম্ভাবনাময় এবং সৃষ্টিশীল উদ্যোক্তাদের এ ফান্ড প্রদান নিশ্চিত করার কথা জানায় ডিসিসিআই।
জাতীয় বাজেটে (২০১৯-২০) নতুন করে ৮০ লাখ করদাতা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। বর্তমানে করদাতার সংখ্যা ২০ লাখ। নতুন ৮০ লাখ যোগ হলে করদাতার সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি। করজাল বাড়ানোর এ উদ্যোগের প্রশংসা করে ডিসিসিআই।
প্রস্তাবিত বাজেটে জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনায় বিদ্যমান রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো ও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১ শতাংশ হারে ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদানের সিদ্ধান্তকে ঢাকা চেম্বার সাধুবাদ জানিয়েছে।
