ওয়ার্নার-ফিঞ্চের দাপুটে ব্যাটিংয়ে টনটনে বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ২৪২ রানে পৌঁছে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৮২ রান করে ফিঞ্চ এবং ১১১ বলে ১০৭ রান করে ওয়ার্নার আউট হওয়ার পর, ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। ৬৫ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রানে গুটিয়ে যায় চ্যাম্পিয়নরা। পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় ওই ৩০৭ রানও হুমকিতে পড়ে গিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ৪১ রানে ম্যাচ জিতে নেয় অজিরা।
অথচ ওয়ার্নার যখন ব্যাট করছিলেন ধারণা করা হচ্ছিল, টনটনে সাড়ে তিনশো রানের গ-ি পেরিয়ে যাবে অ্যারন ফিঞ্চের দল। কিন্তু তা না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ওয়ার্নার। তিনি মনে করেন আরও রান করা উচিত ছিল তার। একদিনের ক্রিকেটে ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফেরা ওয়ার্নার। এ কারণেই আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে, ‘বেশ ভালো খেলেছি। রানও করেছি। তবে আমি আরও ভালো খেলতে পারতাম। আমি আউট হওয়ার পর আরও প্রায় ৭০ বল খেলা হয়েছে। আমি সেঞ্চুরির পর টিকে থেকে জুটি তৈরি করতে পারতাম। শেষে আমরা যেভাবে ভেঙে পড়েছি, তার জন্য কিছুটা আমিও দায়ী।’ ওয়ার্নার-ফিঞ্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে ১৪৬ রানের জুটি গড়েন। এ দুজন ছাড়া আর কোনো অজি ব্যাটসম্যান পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেননি।
কেপটাউন টেস্টের বল ট্যাম্পারিং বিতর্কের কারণে এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন ওয়ার্নার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন বিশ্বকাপেই। ফিরেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর উইন্ডিজের সঙ্গে ব্যর্থ হন। ভারতের বিপক্ষে ৫৬ আর সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তানের সঙ্গে। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকার কোনো ছাপ তার ব্যাটিংয়ে পড়েনি। ফিটনেসও আছে আগের মতোই। নিজের ফর্মের রহস্য সম্পর্কে ওয়ার্নার বলেছেন, ‘আমি নিজেকে যতদূর সম্ভব ফিট রাখার চেষ্টা করেছিলাম। যে কয়েকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলেছি তাতে যতটা সম্ভব রান করেছি।’ এটাই হয়তো বিশ্বকাপে ওয়ার্নারের রান পাওয়ার রহস্য।
