২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে ৩৪ হাজার ২৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫ হাজার ৮৮ কোটি টাকা বেশি। নতুন অর্থবছরে বরাদ্দের হার বাড়ছে ১৭ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে বরাদ্দ ২৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা।
এ ছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ২ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা; যা চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বেড়ে হয় ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ‘গ্রাম হবে শহর’ সেøাগান সামনে রেখে সরকার পল্লী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। নির্বাচনী ইশতেহারের ধারণাটির ভিত্তিতে গ্রামের সব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে গ্রামপর্যায়ে কৃষিযন্ত্র সেবাকেন্দ্র ও ওয়ার্কশপ স্থাপন, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, হালকা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাতকরণে ঋণসুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পল্লী এলাকায় আধুনিক অবকাঠামো স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনব্যবস্থার প্রবর্তন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং কম্পিউটার ও দ্রুত গতির ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানসহ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শহরের সব সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৪২টি গ্রাম সংগঠনের আওতায় ৬০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে সুসংগঠিত করে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ চলছে। ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৯৫ হাজার ৩৮৬টি সমিতি গঠিত হয়েছে যার অধীনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকারভোগী প্রায় ২ কোটি ১২ লাখ ৩৩ হাজার জন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পল্লী খাতে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নতুন সড়ক, ৩০ হাজার ৫০০ মিটার নতুন ব্রিজ-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ, ১৯০টি হাট-বাজার উন্নয়ন, ৬৪টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ১৩০টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে সড়ক, ফুটপাত, ড্রেন নির্মাণ, পয়োনিষ্কাশন সুবিধা সম্প্রসারণ, সড়ক মেরামত, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
