দুর্বল হয়ে আসছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ১১:২২ পিএম

লিবার্টি আইল্যান্ডে এক হাতে মশাল নিয়ে, শিকলের শৃঙ্খল ভেঙে উঠে দাঁড়িয়ে আছেন এক নারী। আমেরিকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সবচেয়ে বড় নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি। গবেষকদের আশঙ্কা ১৩২ বছর ধরে আটলান্টিক সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্ট্যাচুটি হয়তো অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রিডার্স ডাইজেস্ট জানিয়েছে এই ভাস্কর্য সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ

 

এটি একটি উপহার

স্ট্যাচু অব লিবার্টি আমেরিকাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু এটি ছিল দুদেশের মধ্যকার একটি যৌথ উদ্যোগের ফসল। এটি নির্মাণের জন্য ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যদের নিয়ে ১৮৭৫ সালে ফ্রান্স-আমেরিকান ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয় আমেরিকা বহন করবে ভিত ও বেদি তৈরির খরচ এবং ফ্রান্স বহন করবে মূল ভাস্কর্য তৈরির খরচ।

image

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমেরিকাকে স্বাধীনতার প্রতীক ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ নির্মাণ করে উপহার দেয় ফ্রান্স। বিশাল এই নারী ভাস্কর্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি ফ্রান্সের সম্প্রীতির উপহার। উভয় সরকারের তত্ত্বাবধানে এটি তৈরি করা হয় ১৮৮৪ সালে। ১৮৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর হাজার হাজার উল্লসিত দর্শকের সামনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

কত খরচ হয়েছিল

আমেরিকার সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য স্ট্যাচু অব লিবার্টি। এই ভাস্কর্য বানাতে ফ্রান্সের খরচ হয়েছিল সেই আমলে প্রায় আড়াই লাখ ডলার। এখন এই পরিমাণ অর্থ কম মনে হলেও উনিশ শতকে এটি জোগাড় করা ছিল বেশ কষ্টের কাজ। ফ্রান্সে এর নির্মাণের অর্থ নেওয়া হয় দেশটির নগর সরকারগুলোর কাছ থেকে। তা ছাড়া মূর্তিটির ক্ষুদ্র প্রতিকৃতিও বিক্রি করা হতো। নির্মাণব্যয় সংগ্রহে ছাড়া হয়েছিল লটারিও। পাশাপাশি অন্যান্য অনুদান তো ছিলই। তবে ফ্রান্সের মতো আমেরিকায় অত সহজে অর্থ জোগাড় করা যায়নি। এর ভিত এবং যে স্থাপনা বা বেদির ওপরে একে স্থাপন করা হয়েছে, তা নির্মাণে আমেরিকা খরচ করে ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। যার অনেকটা খরচ এসেছে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে। আর এর জন্য এগিয়ে আসেন প্রকাশক জোসেফ পুলিৎজার। যারা এই নির্মাণের জন্য অনুদান দেন, তাদের নাম ছাপা শুরু করেন তার নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড পত্রিকায়। এমনকি ছোট ছোট স্কুলের শিশু যারা কি না মাত্র কয়েক পয়সা করে অনুদান দিত, তাদের নামও সেই তালিকায় ছাপতেন তিনি। এভাবেই আমেরিকায় মূর্তিটির ভিত্তিস্তম্ভের জন্য অর্থের জোগান এসেছিল।

ডিজাইন ও নির্মাণ

বিশাল এই শিল্পকর্মের নকশা করেছেন বিখ্যাত ফরাসি ডিজাইনার ফ্রেদেরিক-অগাস্ট বার্থোল্ডি। তার করা নকশায় ফরাসি প্রকৌশলী আলেক্সান্ডার-গুস্তাভ আইফেল (আইফেল টাওয়ারের ডিজাইনার) ভাস্কর্যটির জন্য একটি অবকাঠামো তৈরি করেন। তাদের তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই বছর লেগেছিল এটি নির্মাণ করতে। সবার আগে নির্মাণ করা হয় স্ট্যাচুর মাথা ও হাত।

ভাস্কর্যটি এখন যেখানে স্থাপন করা হয়েছে, সেটি বহু দূর সমুদ্র থেকে দেখা যায়। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক উপহারটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী দ্বীপটিতে ভিড় জমান। ভাস্কর্যটির বেদির নকশা করেন আমেরিকার রিচার্ড মরিস হান্ট।

বেডলোস হয়ে যায় লিবার্টি আইল্যান্ড

image

এত বড় যে ভাস্কর্য সেটি রাখার জন্যও তো চাই সেই রকম সুন্দর একটি পরিবেশ, সুন্দর একটি জায়গা। আর সেই জায়গার খোঁজ করতে আমেরিকা আসেন বিশাল এই শিল্পকর্মের নকশাকার ফ্রেদেরিক-অগাস্ট বার্থোল্ডি। তিনি পছন্দ করেন নিউ ইয়র্ক বন্দরের বেডলোস আইল্যান্ড নামের ছোট একটি দ্বীপকে। পরে ১৯৫৬ সালে দ্বীপটির নামকরণ করা লিবার্টি আইল্যান্ড। দ্বীপের নাম বদল হলেও সেই একই জায়গায় ১৩২ বছর ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে স্ট্যাচু অব লিবার্টি।

আগে ছিল অন্য নাম

বিশ্ববিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টির শুরুর দিকে নামটি এমন ছিল না। দ্বীপের নাম বদলের মতোই বদলেছে এই স্ট্যাচুর নামও। শুরুর দিকে এর নাম ছিল ‘লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্য ওয়ার্ল্ড’। ১৮৮৬ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছর একে এই নামেই ডাকা হতো। ১৯২৪ সালের পর এটির নাম বদলে ফেলা হয়। রাখা হয়, ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’। সেই থেকে এখনো এই নামেই ডাকা হয় লেডি লিবার্টিকে।

বিশাল তার উচ্চতা

এক হাতে মশাল নিয়ে শৃঙ্খল ভেঙে উঠে দাঁড়ানো সেই নারীর উচ্চতা জানলে চমকে উঠবেন। তার উচ্চতা ৪৬ মিটার বা ১৫১ ফুট। হাতের প্রস্থ ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি, তর্জনী ৮ ফুট, নখের সাইজ ১৩ ইঞ্চি, নাক ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি, ডান বাহু ৪২ ফুট, দুই চোখের ব্যবধান ২ ফুট ৬ ইঞ্চি, কোমর ৩৫ ফুট, মুখের প্রস্থ ৩ ফুট, এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত দূরত্ব ১০ ফুট এবং নখের ওজন ১ কেজি ৫০০ গ্রাম। আর যে স্তম্ভের ওপর সে দাঁড়িয়ে আছে তার উচ্চতা ৪৭ মিটার। একদম মাটি থেকে বেদিসহ ভাস্কর্যটির পুরো উচ্চতা ৩০৫ ফুট ১ ইঞ্চি, যা প্রায় ৩০-তলা বিল্ডিংয়ের সমান। উচ্চতার পাশাপাশি এর ওজনও কিন্তু অনেক। প্রায় ২০৪ টন বা ২০৭২৬৪ কেজি। জানলে অবাক হবেন, তার পায়ে যে জুতা পরানো হয়েছে, তার সাইজ হলো ৮৭৯।

রোমান দেবীর আদল

ঢিলেঢোলা পোশাক ও মাথায় সুচালো মুকুট পরিহিত নারী মূর্তিটি লিবার্টাস নামক রোমান দেবীর আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। লিবার্টাস মুক্তির দেবী। ভাস্কর্যটির বাম হাতে রয়েছে একটি আইনের বই এবং ডান হাতে উঁচিয়ে ধরা প্রজ্বলিত অগ্নিশিখা। তবে এটা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। অনেকেই বলে থাকেন স্ট্যাচুর মুখের জন্য বার্থোল্ডি আসলে ঠিক কার মুখ অনুসরণ করেছিলেন, তা কখনো বলেননি। আবার অনেকেই অনুমান করে বলেন বার্থোল্ডির বন্ধু এক সমকালীন ব্যবসায়ীর বিধবা স্ত্রীর মুখ ব্যবহৃত হয়েছে মডেল হিসেবে। আবার কারও অনুমান, এটি আসলে বার্থোল্ডির মায়ের মুখ।

নির্মাণের উপাদান

বিশাল এই ভাস্কর্য নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে সোনা, তামা, ইস্পাত ও প্রক্রিয়াজাত লোহা। এর বাইরের অংশটি তামা দিয়ে করা। তামাকে পেটাতে পেটাতে নিয়ে আসা হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫ মিলিমিটার ঘনত্বে। তবে এর হাতে থাকা মশালের শিখায় রয়েছে স্বর্ণ। আমেরিকার ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসেস এই ভাস্কর্যটির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। ১৯৮৪ সালে ইউনেসকো ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইউনেসকোর ‘স্টেটমেন্ট অব সিগনিফিকেন্স’-এ ভাস্কর্যটিকে উল্লেখ করা হয় ‘মাস্টারপিস অব হিউম্যান স্পিরিট’ হিসেবে।

হাতের মশালও বিশাল

এই মশালের প্ল্যাটফরমে দর্শনার্থীদের ওঠা বর্তমানে নিষেধ। তবে ১৯১৬ সালের আগ পর্যন্ত এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সে সময় জার্মানদের নিক্ষিপ্ত ব্ল্যাক টম বিস্ফোরণে এই স্ট্যাচুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৯৮৬ সালে স্ট্যাচু অব লিবার্টির শত বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্যাপক সংস্কার করা হয়। তখন এর হাতের মশালের শিখাটি গ্লাস ও মেটালের পরিবর্তে সোনার পাত দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমান শিখাটি ২৪ ক্যারেট সোনার পাতা দিয়ে আবৃত।

বাতিঘর

১৮৮৬ এবং ১৯০৬ সাল পর্যন্ত এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি বাতিঘর হিসেবে কাজ করেছে। সূর্যাস্তের পর জাহাজকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য তখন পর্যাপ্ত আলো ছিল না। তখন তার হাতে থাকা মশালের মাথায় ছিল বিশালাকৃতির এক টর্চ। সেটাই কাজ করেছে বাতিঘর হিসেবে। দি আমেরিকান ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি ছিল সে সময়ে এটার পরিচালনার দায়িত্বে। তবে ১৬ বছর পর লিবার্টি বাতিঘরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দুলতেও পারে তিন ইঞ্চি

বিশাল এই ভাস্কর্য ঝড়ো বাতাস বা ঘূর্ণিঝড়ে কেন ভেঙে পড়ে না সেটা জানেন? কারণ এর অবকাঠামোটি এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে ভাস্কর্যটির দেহ আলাদাভাবে নড়াচড়া করলেও সেটা সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হবে। কারণ স্ট্যাচুটি বাতাসে কয়েক ইঞ্চি পর্যন্ত দুলতে পারে। বাতাস যদি ৫০ মাইলের বেশি বেগে প্রবাহিত হয়, তাহলে তিন ইঞ্চি পর্যন্ত দুলতে শুরু করে স্ট্যাচুটি। আর এর মশালটি ছয় ইঞ্চি পরিমাণ দোলে। তাই একে যদি দুলতে দেখেন অবাক হওয়ার কোনো কারণ নেই।

মোট ৩০০ খণ্ড

পুরো ভাস্কর্যটি আসলে ৩০০ খণ্ডে ভাগ করা ছিল এবং প্রতিটি খণ্ডের ওপর ২ দশমিক ৫ মিলিমিটার প্রস্থ তামার শিট দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৮৮৪ সালে নির্মাণ করা হলেও তখনই সেটি আমেরিকায় পাঠানো হয়নি। এতগুলো খণ্ড সংরক্ষণ করা ছিল ফ্রান্সের প্যারিসে। তারপর ১৮৮৫ সালে মূর্তিটির বিভিন্ন অংশ ২১৪টি বাক্সে ভরে জাহাজে করে আমেরিকায় পাঠানো হয়। সেখানেই একটার পর একটা অংশ আলাদাভাবে জোড়া লাগানো হয়।

বিভিন্ন অংশের যত অর্থ

স্ট্যাচুর রয়েছে ঢিলেঢালা এক আলখাল্লার মতো পোশাক এবং মাথায় আলোকশিখা বিচ্ছুরিত মুকুট। মুকুটে রয়েছে সাতটি স্পাইক, যা কিনা নির্দেশ করে সাত মহাসাগর এবং সাতটি মহাদেশকে। যদি মাথার মুকুটে কেউ উঠতে চায়, তাহলে তাকে পার হতে হবে ৩৭৭টি সিঁড়ি। তবে শুধু পরিচর্চাকারীরাই বর্তমানে এখানে প্রবেশ করতে পারেন। মাথার মুকুটে রয়েছে ২৫টি জানালা।  এর বাঁ হাতে আছে একটি বই যাতে আমেরিকার স্বাধীনতার তারিখ ‘৪ জুলাই, ১৭৭৬’ খোদাই করে লেখা। ডান হাতে আছে উঁচু করে ধরা মশালটি হচ্ছে মুক্তির প্রতীক। ভালো করে তাকালে দেখা যায়, লেডি লিবার্টির ডান পা ওপরে তোলা এবং তিনি ভাঙা শিকলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন, যা অত্যাচার এবং নিপীড়ন থেকে বেরিয়ে আসার একটি প্রতীক। এটাও পরাধীনতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বদলে যায় আশপাশের শহর

এই ভাস্কর্য বসানোর পর আশপাশের অন্যান্য শহরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। প্রতি বছর গড়ে এখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ভিড় জমায় এই ভাস্কর্য দেখতে। আর পর্যটকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে লিবার্টি আইল্যান্ড কেবল স্ট্যাচুর স্থাপনার জন্যই সাজানো হয়েছে। এখানে আছে দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা। আছে স্যুভেনির শপ, উন্নতমানের খাবারের স্টল, বড় শপিং মল, আছে পানীয়জলের সুন্দর ব্যবস্থা, আইল্যান্ডের চারপাশে হাঁটার ও বসার ব্যবস্থা ইত্যাদি।

গবেষকদের আশঙ্কা

ভাস্কর্যটি দেখতে এখন বেশ সবুজ মনে হয়। কিন্তু এর আসল রং কিন্তু সবুজ ছিল না। প্রথমে একে দেখা যেত অনেকটা মরচে পড়া লোহার মতো। কিন্তু বছরের পর বছর প্যাটিনেশন নামের এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য এর তামার রং সবুজ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে তামায় কার্বন জমা হয়। স্বাভাবিক বৃষ্টির পানিও তামার সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এভাবে জল এবং ধাতুর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এই সবুজ ভাব রঙের সৃষ্টি হয়েছে। আর এসবের কারণেই এই স্ট্যাচুর পাত ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে খুব দ্রুতই।

image

আবহাওয়াজনিত এসব ক্ষয় থেকে রক্ষা পেতে ১৯৩৭ সালে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। স্ট্যাচুর ভেতরে পানি চুঁইয়ে পড়ত তখন। ১৯৮৪ থেকে তিন বছর পর্যন্ত আবারও এর সংস্কার কাজ করা হয়। তারপর আবার ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই ক্ষতি কমাতে সংস্কার করা হয়। যেভাবে এর ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে, তাই বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন এই ধাতব স্থাপনাটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেদিন হয়তো আর কোনো চেষ্টাই কাজে লাগবে না।

ভ্রমণ

আপনি যদি স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে চান, তাহলে প্রথমে যেতে হবে লিবার্টি আইল্যান্ডে। আর সেখানে আপনাকে যেতে হবে ফেরিতে করে। ফেরির ভাড়া লাগলেও দ্বীপে প্রবেশ করতে কোনো টিকিট কাটতে হবে না। কিন্তু যদি স্ট্যাচু সিঁড়িতে উঠতে চান, তাহলে তার জন্য টিকিট কাটতে হবে। সেটাও বিশেষ ধরনের অগ্রিম টিকিট। চাইলেই বহু মানুষ এক সঙ্গে লিবার্টি দ্বীপে যেতে পারে না। তার জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা। প্রতিদিন সর্বোচ্চ আড়াই শ মানুষকে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতি বছর স্ট্যাচুটি দেখতে যায় ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ।

সেখানে যারা যাবেন তাদের সঙ্গে থাকতে পারবে শুধু ওষুধ ও ক্যামেরা। কোনো খাবার নিয়ে সেখানে যাওয়ার অনুমতি নেই। ভাস্কর্যটির বেদির সঙ্গে কয়েকটি বড় কক্ষ রয়েছে। এর সঙ্গে আছে জাদুঘর, নতুন অভিবাসীদের ছবি ও তাদের পরিচয়, স্ট্যাচু অব লিবার্টি নির্মাণের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস। এই স্ট্যাচুটিতে প্রতি বছর ৬০০ ভোল্টের বজ্রপাত আঘাত হানে। এটিই একমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, যা তাকে মোকাবিলা করতে হয়। রয়েছে ঝড়, তীব্র বাতাস ও বৃষ্টিপাত। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আমেরিকানদের গর্ব লেডি লিবার্টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত