স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার নয়

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ১১:২৪ পিএম

স্তনে ব্যথা অনেক নারী ভেবে বসেন স্তন ক্যানসার হয়েছে। কিন্তু স্তনে ব্যথা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। নানা কারণেই এ ব্যথা হতে পারে। মাসিক চলাকালে নারীদের স্তনে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। এই ব্যথা শুধু দেহে হরমোন পরিবর্তনের কারণেই হয়ে থাকে। এছাড়াও কী কারণে স্তনে ব্যথা হয় জেনে রাখুন

দেহে হরমোন পরিবর্তনের ফলে : পিরিয়ড চলাকালে কিশোরী মেয়েদের স্তনে হালকা ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে। অনেক সময় পিরিয়ড হওয়ার আগেও স্তনে ব্যথা হয়। পিরিয়ড হওয়ার আগে ও পরে দেহে হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই এ ব্যথা হয়ে থাকে। পিরিয়ড শেষ হয়ে গেলে ব্যথা থাকে না।

গর্ভকালীন সময় : গর্ভধারণের সময় নারীরা স্তনে ব্যথা অনুভব করেন। গর্ভবতী নারীর তিন মাস চলাকালে স্তনে ব্যথা হওয়া শুরু হয়। কারণ তখন স্তনের আকার বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সময় স্তনের ওপর দিয়ে নীল শিরা দেখা যায়। এ কারণে তখন দেহে অনেক বেশি পরিমাণে রক্তপ্রবাহ হতে থাকে ও হরমোনের অনেক পরিবর্তন ঘটে।

স্তন প্রদাহ : নারীদের স্তনে প্রদাহজনিত সমস্যার ফলে স্তনে ব্যথা অনুভব হতে পারে। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাসের আক্রমণে এটি হয়। ব্যথার জন্য জ্বরও আসতে পারে। ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

স্তনের মধ্যে সিস্ট : অনেক সময় স্তনের ভেতর এক ধরনের সিস্ট হয়ে থাকে, যার ভেতর তরলজাতীয় পদার্থ থাকে এবং এর নাম ব্রিজ সিস্ট। স্তনের গ্রন্থি বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় এই সিস্ট দেখা যায়। এই সিস্টের কারণেই স্তনে ব্যথা হয়। সিস্ট অনুভব করতে পারলে যত দ্রুত সম্ভব স্তনবিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে।

বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় : কোনো নারী মা হওয়ার পর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও স্তনে ব্যথা পেয়ে থাকেন। সব সময় বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর আগে ও পরে স্তন পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। কারণ এতে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া অথবা ফাঙ্গাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

স্তনে ঘা : এ সমস্যাটি মূলত হয়ে থাকে যখন স্তনের নিপলে ব্যাকটেরিয়া দেখা দেয় এবং বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় যখন ভাইরাস আক্রমণ করে।

স্তনে ক্যানসার : বুকে ব্যথা হওয়ার মারাত্মক কারণটি হলো স্তন ক্যানসার। কিন্তু স্তনে ব্যথা তখনই হবে, যখন আপনি দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যানসারে ভুগবেন।

জীবনচর্চায় কিছুটা পরিবর্তন আনলে স্তনে ব্যথা হওয়ার প্রবণতা কমে আসতে পারে। আর তা মুক্তি পাওয়ার উপায় জেনে রাখুন

আপনার স্তনের মাপ অনুযায়ী ব্রা পরুন। ছোট মাপের ব্রা এড়িয়ে চলুন।

কম চর্বিযুক্ত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ।

হরমোনের সমস্যা দূর করতে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন ই১ (থায়ামিন) এবং ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ খাদ্য বেশি গ্রহণ।

ব্যথা কমানোর ওষুধ প্রয়োগ।

ড্যানাজোলের প্রয়োগ।

ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা।

লবণ কম খাওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত