আ.লীগ প্রার্থী ও ‘বিদ্রোহী’তে জমজমাট ভোটের মাঠ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে আছেন স্বতন্ত্র ব্যানারে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী।

গত ১০ মার্চ জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় ৮ মার্চ ভোট গ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরে ১৮ জুন মঙ্গলবার ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এরই মধ্যে প্রশাসনও ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।  বর্তমানে এ উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি বিএনপির দখলে। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান সামছুল হক তালুকদার ঝুনু দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নিবাচনে দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আল আজাদ। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাচনাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম। এ ছাড়া রশিদ আহমেদ নামে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৭ জন প্রার্থী।

ইউসুফ আল আজাদ ও রেজাউল করিম শামীম এই দুই আওয়ামী লীগ নেতা স্থানীয়ভাবে একে অপরের বিরোধী হিসেবে পরিচিত। প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের এই দুই নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে তুলছেন আচরণবিধি লঙ্ঘন, কালোটাকা ছড়ানোসহ নানা অভিযোগ। তবে দুই প্রার্থীর সমর্থকরাই মনে করছেন, বিএনপির ভোটব্যাংকই স্থানীয় এই নির্কাচনে জয়-পরাজয়ের বড় মাপকাঠি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম শামীম বলেন, তিনি (ইউসুফ আল আজাদ) স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সহযোগিতায় নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। সাংসদ রতনের নিজ উপজেলা ধর্মপাশা থেকে তার ক্যাডাররা এসে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইউসুফ আল আজাদ অবশ্য এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘সাংসদ কেন এলেন, তা তিনি জানেন। আমি কী করে বলব। আচরণবিধি তো তিনি (রেজাউল করিম শামীম) লঙ্ঘন করছেন। শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার কালো টাকা আর মিথ্যা বলাই পুঁজি।’

আওয়ামী লীগের এই দুই নেতারই হাজার হাজার অনুসারী আছেন। ভোটাররা মনে করছেন, তাদের মধ্যে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা পাল বলেন, নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত