চট্টগ্রামে দেবী শেঠি

বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশযাত্রা কমবে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ০২:২০ এএম

নামি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ভারতের নারায়ণা হেলথের চেয়ারম্যান দেবী প্রসাদ শেঠি বলেছেন, বাংলাদেশে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতায় অনেক রোগী বিদেশ যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছে ইম্পেরিয়াল। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াসহ  বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ফলে চিকিৎসাসেবার জন্য বাংলাদেশিদের বিদেশযাত্রার হার অনেকাংশে কমবে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে ৩৭৫ শয্যার বিশেষায়িত ইম্পেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেডের (আইএইচএল) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর পাহাড়তলীতে হাসপাতালটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারতের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘এটি বাংলাদেশে সঠিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নতুন সংযোজন। বাংলাদেশের ৬০-৮০ শতাংশ হৃদরোগে আক্রান্তরা ভারতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেন। তাদের জন্য সুখবর হলো, আপনাদের আর কষ্ট করে ভারত বা সিঙ্গাপুর যাত্রার প্রয়োজন নেই। নিজ দেশেই আপনারা বিদেশের দক্ষ, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং নার্স দ্বারা আরোগ্য লাভ করবেন। বাংলাদেশে আজ থেকে কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য কোনোরকম দুশ্চিন্তা নেই। এ দেশে বিশেষায়িত একটি হাসপাতালের প্রয়োজন ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তার কারণে ইম্পেরিয়াল আজ চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার সুফল ভোগ করবে সারা দেশের মানুষ।’ ওই সময় তিনি আরও জানান, নারায়ণা হেলথের কার্ডিয়াক বিভাগের একটি দল রোগীদের সেবা দেবে, যার প্রত্যক্ষ তদারকি করবেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইএইচএলের বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, ‘উন্নত স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতায় বহু রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে তাদের ও তাদের পরিবারকে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক চাপের মুখে পড়তে হয়। ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রোগীদের নিরাপত্তা, কর্মীদের নিরাপত্তাÑ এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী, বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষের রোগ নিরাময়ের জন্য এই হাসপাতাল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি চট্টগ্রামে এলে এই হাসপাতাল অবশ্যই পরিদর্শন করবেন।’

বেসরকারি এই হাসপাতালটিতে রোগীদের নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে। লাইফ সাপোর্টভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স এবং মুমূর্ষু রোগীকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে স্থানান্তরের জন্য হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা রয়েছে। পাঁচটি ভবন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে রয়েছে সার্বক্ষণিক জরুরি সেবা, কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক গাইনিসহ ১৪টি অপারেশন থিয়েটার। নবজাতকদের জন্য রয়েছে ৪৪ শয্যার নিওনেটাল ইউনিট, ৮টি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ। এ ছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য ৬৪ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এ ছাড়া অসচ্ছল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত রাখা আছে হাসপাতালটিতে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত