বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের ঘোষণা

দাবি না মানা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৯, ০১:৪২ এএম

বয়সসীমা নির্ধারণ না করে আগের মতোই কমিটি দেওয়ার দাবিতে আবারও রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রদলের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়; চলে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত। কর্মসূচি পালন শেষে আজ সোমবার আবারও অবস্থান

কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের সদ্যবিলুপ্ত কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আজকের (গতকাল) মতো আমাদের কর্মসূচি শেষ করছি। আগামীকাল (আজ) সোমবার আবার আমাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’ তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে আমাদের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমার চাই বয়সসীমা নির্ধারণ না করে আগের ধারাবাহিকতায় নতুন কমিটি দিতে হবে।’

বয়সসীমা না রেখে ধারাবাহিক কমিটি গঠনের দাবিতে গত ১১ জুন বিএনপির কার্যালয়ে তালা ও ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থান নেন। একই সঙ্গে ‘অসুস্থ’ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার দাবি করেন। রিজভীর বিরুদ্ধে সেøাগানও দেন তারা। সেদিন ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবির একটা সমাধান দেওয়া হবে’Ñ ছাত্রদলের কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এমন আশ্বাসে রাতে কার্যালয়ের তালা খুলে দেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।

ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি আজমল হোসেন পাইলট বলেন, ‘প্রথমে সার্চ কমিটি ও পরে জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এবং তাদের সম্মানার্থে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করি। কিন্তু আমাদের দাবি পূরণে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার। আমাদের দাবি অনুযায়ী নতুন কমিটি দিতে হবে। বয়সের সীমারেখা তুলে নিতে হবে। ২০০০ সালের আগে যাদের এসএসসি তাদেরসহ একটি স্বল্পকালীন কমিটি দিতে হবে। দাবি আদায়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তবে আদায় না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। আর কাউন্সিলে প্রার্থী হতে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়াসহ তিনটি শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে আসছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হবে না। এজন্য বিএনপির বিভিন্ন উপ-কমিটি ও দুই অঙ্গ সংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে ছাত্রদলের সদ্যসাবেক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। পাশাপাশি ছাত্রদলের কাউন্সিলের যাবতীয় প্রস্তুতিও নিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত