লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়ের পর এই প্রথম ভোট নিয়ে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গত শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দের সাংবাদিক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হন তিনি।
সাক্ষাৎকারে মমতা লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের নেপথ্যে ইভিএম জালিয়াতি ও বিদেশিদের ইন্ধন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ থেকে মানুষ নিয়ে তাদের নির্বাচনে জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করেছে ক্ষমতাসীনরা।
এবিপির সাংবাদিক সঞ্চালক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আরএসএস-এর এখনো ১ হাজার লোক বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। খোঁজ নিন না ওরা কত স্কুল চালায়। কোথা থেকে টাকা আসছে? কারা তাদের টাকা দিচ্ছে? ফরেনস ফান্ডস ইনভলভড। বাংলাদেশের বর্ডার থেকে ইলেকশনের সময় কারা এসেছিল মিটিং করতে? বাংলাদেশের বর্ডার থেকে অন্য ধর্মের লোক পাঠিয়েছে। কোন ধর্মের মানুষ আমি তা বলব না।’
প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলার মাঝেই দেশটির বিরোধী দলগুলো কয়েক দফায় ইভিএম জালিয়াতির আশঙ্কা করে বিবৃতি দিয়েছিল। কংগ্রেসপ্রধান রাহুল গান্ধীও ইভিএম জালিয়াতির আশঙ্কা করে নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি জানিয়েছিলেন। ভোট গণনার আগে ২৩টি রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ ব্যাপারে আশঙ্কা জানিয়ে এসেছিল। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের পদক্ষেপও নিয়েছিল বিরোধীরা। তবে সর্বোচ্চ আদালত সেসব অভিযোগ আমলে নেয়নি।
সাক্ষাৎকারে মমতা অভিযোগ করেন, ‘বিজেপি আগেই মেশিনে প্রোগ্রামিং করে রেখেছিল। দেশজুড়ে ৩০০টি আসনে এবং পশ্চিমবঙ্গে ২৩টি আসনে প্রোগ্রামিং করে রেখেছিল তারা। তবে তার মধ্যেও তৃণমূল কংগ্রেস বেশি আসনে জিতে যায়। প্রোগ্রামিংয়ের কারণে বিজেপির আসলে ২৩টি আসনে জয়ের কথা ছিল।’
নির্বাচনের আগেই ২৩টি আসনে জয় পাবে বলে বিজেপির দাবির কথা মনে করিয়ে দেন মমতা। নরেন্দ্র মোদি তার দল ৩০০টির বেশি আসন পাবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা-ও উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কীভাবে এ সংখ্যা মিলে গেল?’
এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বাঙালিদের নামে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিল বিজেপি। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা।
তিনি আরও বলেন ‘আসামে বিজেপি প্রচার চালিয়েছিল, সেখানে বাঙালিরা জিতলে রাজবংশীদের জমি কেড়ে নেবে। কুচবিহারে বাঙালিদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের লাগিয়ে দিয়েছিল বিজেপি, রাজবংশীদেরও লাগিয়ে দিয়েছিল। দার্জিলিংয়ে গিয়ে বলেছে গোর্খাল্যান্ড করব। ওখানেও লাগিয়ে দিয়েছে। আবার বিভিন্ন জেলায় জেলায় হিন্দিভাষীদের সঙ্গে বাঙালিদের লাগিয়ে দিয়েছে।’
