তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইনভিত্তিক টেলিভিশনের কদর। শুধু তাই নয়, অনলাইন অ্যাপও রমরমা হয়ে উঠছে। প্রচলিত টেলিভিশন মাধ্যমে আর ঘরে বসে নয়, মানুষের হাতের কাছের ল্যাপটপ ও মুঠোফোনের মাধ্যমে সংবাদ-বিনোদন, টকশো ও ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান উপভোগের সুযোগ। তাই তো এ পর্যন্ত দেশে ১০টির মতো অনলাইন টিভি তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। এসব চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে নতুন সময় ডটটিভি, কেটিভি, বন্ধু টিভি, ভয়েস ম্যারিনা, হিউজ টিভি, থার্ডবেল ডটকম, বিদেশ টিভি, ইউএনএন টিভি, পপকর্ন টিভি, সিল টিভি ডটকম। আর অনলাইন অ্যাপের মধ্যে বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে বায়োস্কোপ, সিনেস্পট, আইফ্লিক্স। তাই তো বর্তমানে দেশের অধিকাংশ স্যাটেলাইট টেলিভিশন দর্শক টানতে তাদের অনলাইন টিভি ভার্সন চালু করেছে। চলমান স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো অনুমান করতে পেরেছে যে, ভবিষ্যৎ হবে অনলাইন টেলিভিশনের যুগ। কারণ ভবিষ্যতে মানুষের কাছে ইন্টারনেট আরও সহজলভ্য হবে, ব্যস্ত দর্শক-শ্রোতা বাসায় টিভি সেটের সামনে বসে আর সময় ব্যয় করবে না। অনলাইন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে দিনের সর্বশেষ খবর কর্মস্থল থেকেই বা যে যেখানে থাকবেন সেখান থেকেই দেখে ও জেনে নেবেন। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে বাসায় ফিরে এখনকার মতো স্যাটেলাইট টিভি সেট খুলে বসার প্রয়োজন পড়বে না।
কিন্তু এসব অনলাইন টেলিভিশনের কোনো নীতিমালা এখনো তৈরি হয়নি। প্রচলিত চ্যানেলের মতো বর্তমানে এর নিবন্ধনেরও প্রয়োজনীয়তা নেই। এ কারণে ব্রডকাস্টিং সার্ভার ব্যবহার করে যেকেউ এ ধরনের অনলাইন টিভি চ্যানেল চালু করতে পারেন।
অনলাইন টেলিভিশন ‘নতুন সময় ডটটিভি’র সিএনই জাকির হোসেন বলেন, ‘যদিও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টিভির নীতিমালা এখনো প্রণয়ন করা হয়নি, তবু কাগজে ছাপা দৈনিক পত্রিকাগুলোর মতো প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করে সংবাদসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান আমাদের অনলাইন টিভিতে সম্প্রচার করা হচ্ছে।’
নতুন সময় ডটটিভি প্রতিদিন তিনবার সরাসরি সংবাদ সম্প্রচার করছে। সম্প্রচার করা হচ্ছে গানের অনুষ্ঠান, বিজ্ঞান, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে টকশোসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান।
এরই মধ্যে অনলাইন অ্যাপ বায়োস্কোপ, সিনেস্পট ও আইফ্লিক্সের একাধিক ওয়েব সিরিজ, শর্টফিল্ম ও ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনলাইন টিভির সফল নির্মাতা অনন্য মামুন। ‘ইন্দুবালা’, ‘ফোন এক্স’সহ তার একাধিক ওয়েব সিরিজ সিনেস্পটে প্রকাশ হয়েছে। অনলাইন টিভির ভবিষ্যৎ ভালো বলে মনে করেন তিনি। অনন্য মামুন আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের দর্শক এখন বিশ্বের সব ধরনের কনটেন্ট দেখছেন। ফলে তাদেরকে আমাদের কনটেন্ট দেখাতে হলে ভিন্ন কিছু দিতে হবে। এ জন্য বাজেট একটা বড় ব্যাপার। বেশ কজন নতুন প্রযোজক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করছেন। এর ফলে আমি বেশ কিছু বড় বাজেটের ভালো কাজ করেছি। দর্শকও টাকা খরচ করে সেগুলো দেখছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো সিনেমার মানুষ। কিন্তু কিছু গল্প আছে যা সিনেমা আকারে বানানো যায় না। সেন্সরশিপ নিয়েও ঝামেলা থাকে। সেসব সাহসী কনসেপ্ট নিয়ে আমরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। যার ইচ্ছা হচ্ছে তারা টাকা দিয়েই কাজগুলো দেখছেন। এতে ইউটিউবের মতো অনিশ্চয়তা নেই যে কবে টাকা উঠবে বা কবে বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে ইত্যাদি। ফলে ভিন্নধর্মী কাজের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এসব অনলাইন টিভি ও অনলাইন অ্যাপ।’
