স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, দেশের থানাগুলোতে ওসি পদে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের পদায়নের প্রক্রিয়া চলমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের সভাকক্ষে সুরক্ষাসেবা বিভাগের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের থানাগুলোয় আগে অফিসার ইনচার্জ বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে (এসআই)। আর এখন থানার ওসি পদে নিয়োগ দেওয়া হয় পুলিশের একজন ফার্স্ট ক্লাস অফিসার বা পরিদর্শককে। সুতরাং যখন যা প্রয়োজন, তখন তাই করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের প্রয়োজনে যখন যা প্রয়োজন, সরকার তখন তা করবে। জনগণের স্বার্থে ও কল্যাণে সবসময়ই সবকিছু করব। থানার ওসি পদে কর্মকর্তা পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, তা নিয়ে সময়মতো সবার সঙ্গে বসে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন যেমন একটি চলমান প্রক্রিয়া, তেমনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের ওসি পদে নিয়োগও একটি চলমান প্রক্রিয়া।’ তিনি জানান, আগে একটি থানায় ২০ জন কনস্টেবল থাকত, এখন সেখানে ৫০ জন করা হয়েছে। একটি থানায় একসময় দুজন এসআই থাকত, এখন সেখানে ৩০ থেকে ৪০ জন এসআই থাকে। পাশাপাশি তিনজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছে।’
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নেকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভকে কেউ হয়তো নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তবে সৌরভ নিজে কোথাও গেছেন কি না, সেই সংশয়ও রয়েছে। আমি তো মনে করি, সোহেল তাজের ভাগ্নে কোথাও গিয়ে থাকলে ফিরে আসবেন। এরই মধ্যে আমাদের পুলিশ কর্মকর্তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আবার উনাকে কেউ হয়তো নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। সবই বের হয়ে আসবে, যেহেতু পুলিশ এটা নিয়ে কাজ করছে।’
সোহেল তাজের মামাতো বোনের ছেলে সৌরভ গত ৯ জুন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার আফমি প্লাজার সামনে থেকে ‘অপহৃত’ হন। সৌরভের মা গত সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনার ৯ দিন পরও তাকে পরিবারের সদস্যরা খুঁজে না পাওয়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এগুলো শুনিনি। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ আমাকে ফোন করেছেন, আমি তার কথা শুনেছি। এরপর আমি পুলিশ কমিশনারকে যা বলার বলেছি। তিনি কাজ করছেন, হয়তো তার খোঁজ পাওয়া যাবে এবং তার ভাগ্নে বেরিয়ে আসবেন।’
মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কামাল বলেন, ‘মাদক অধিদপ্তরকে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি। যেখানে যা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ২৬ জুন মাদক দিবস পালিত হবে। শুধু দিবস পালন নয়, মাদকের চাহিদা ও সরবরাহ হ্রাস করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চারটি দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হলো। সারা বছর তাদের যে টার্গেট দেওয়া হবে, তা তারা সম্পাদন করবে।’
