ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের পদত্যাগের দাবিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রাজধানীর আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে সামীম আফজালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেছেন, এই ডিজির অধীনে তারা আর কাজ করবেন না।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে এই দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বলেন, তার দ্রুত পদত্যাগ করা উচিত। এ সময় তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির (মহাপরিচালক) পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। তার দায়িত্ব অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ইফা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, সামীম আফজালকে প্রতিষ্ঠানটির কেউই পছন্দ করেন না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সামীম আফজাল দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত অফিস করছেন না। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে কেন তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হবে নাÑ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এমন নোটিসের পর থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। কর্মকর্তারাও চাইছেন সামীম আফজাল ইফার ডিজির পদ থেকে পদত্যাগ করুক। ইফার এক কর্মকর্তা বলেন, গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকরা এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইফার ২০ জন পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সামীম মোহাম্মদ আফজালকে তারা অনুরোধ করবেন, তিনি যেন স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবাই ডিজির বিপক্ষে। এই ডিজির কারণে প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়ছে। সবাই তার পদত্যাগের দাবিতে একাট্টা। এজন্য আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। বৈঠকে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলোÑ ইফার ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে ও অচলাবস্থা দূর করতে ডিজিকে শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে অবিলম্বে বোর্ড অব গভর্নরসের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হবে। ইফার চেইন অব কমান্ড ফিরে আনতে সংশ্লিষ্ট সব মহলের সহযোগিতা চাওয়া হবে।
জানা গেছে, সামীম আফজাল জুডিশিয়াল সার্ভিসে ১৯৮৩ সালে যোগদান করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে অনিয়ম করেছেন তিনি। গত ১০ জুন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ নোটিসের পর থেকেই অস্থিরতা শুরু হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনে। গুঞ্জন ওঠে, সামীম মোহাম্মদ আফজাল স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। শনিবার বন্ধের দিনে তিনি আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে যান। তার দপ্তর থেকে বিভিন্ন নথিপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলামসহ অন্যরা বাধা দেন। তবে পরের দিন রবিবার অফিসে যাননি তিনি। এরপর সোমবার অফিসে গেলে সামীম আফজালের দপ্তরের চারপাশে অবস্থা নেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ইফা মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘মহাপরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতি পালন করছেন।’
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি ফাইল গোপনে নিয়ে যাচ্ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল। এসব ফাইল ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকিয়েছেন। তার দ্রুত পদত্যাগ করা উচিত। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক তার অফিসে এসে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছিলেন। এর পরদিন তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনে গিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি ফাইল লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা আটকে দেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে জানানো হলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কঠোরভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই তিনি যেন কোনো ফাইল সরাতে না পারেন।’
