বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ২০ উপজেলায় সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এতে তেমন সাড়া মেলেনি। বিভিন্ন স্থানে নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমানের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, নৌকা প্রতীকের অ্যাডভোটেক তানভীর ভূঞার সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যাডভোটেক তানভীর ভূঞা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় দশসিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শামছুল আলম শফির ওপর নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চৌবাড়ি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী আবদুল মতিন চৌধুরীর সমর্থকদের প্রকাশ্যে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়।
এদিকে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর হামলা, ভাঙচুর, এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধাদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী সাইফুল ইসলাম। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাঝবাড়ী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
অন্যদিকে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলন চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান ভোট বর্জন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. নাজমুল হকের একটি পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি খোয়া গেছে।
বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে
হামলা সংঘর্ষ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগর উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমানের শহরের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, নৌকা প্রতীকের অ্যাডভোটেক তানভীর ভূঞার সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের হালদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দারোয়ান আহত হয়। এ সময় দুটো জিপ, একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা লুৎফুরের স্বামীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের হালদারপাড়ার ১৪তলা লুৎফুর রহমান টাওয়ারের নিচতলায় হইচই ও তা-ব শুরু করে ২০-২৫ যুবক। এরপর ভবনের সামনে থাকা লুৎফুর রহমানের ল্যান্ড ক্রুজার জিপ, পাজেরো জিপ, টয়োটা প্রাইভেটকার ভাঙচুর করে এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যুবকদের তা-বে পুরো এলাকায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা লুৎফুর রহমানের ছেলে ওয়ালিদ মুকাই আলী বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো শত্রু নেই। ধারণা করছি আমাদের প্রতিপক্ষ অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঞার কর্মী-সমর্থকরা এ হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঞা বলেন, ‘আমার সঙ্গে নাছিমা লুৎফুরের কোনো কথাই হয়নি। আমি ও আমার সমর্থকরা এখনো বিজয়নগরেই আছি। আমি কেন এ হামলা করতে যাব?’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন জানান, পুলিশ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। নাছিমা লুৎফুরের বাসভবনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে পত্তন ইউনিয়নের বড়পুকুর পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বহিরাগত নৌকার সমর্থক ও এলাকাবাসী ঘোড়ার সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল রিপন মোদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাবেক ভিপি হাসান সারোয়ারসহ ৭-৮ জন আহত হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর ভূঞার এজেন্টদের বিরুদ্ধে একটি ভোটকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) যন্ত্রাংশ লুটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গতকাল মঙ্গলবার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
বুধন্তী ইউনিয়নের বুধন্তী আহলাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কয়েক সমর্থক ফায়েজ মিয়া নামে এক যুবককে বেধড়ক পিটিয়েছে। এতে ওই যুবক আহত হয়। এর আগে একই ইউনিয়নের শশই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই গ্রামের সাবেক মেম্বার আজিজুর রহমান চমককে মারধর করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় দশসিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শামছুল আলম শফির ওপর নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চৌবাড়ি ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী আব্দুল মতিন চৌধুরীর সমর্থকরা বুথের মধ্যে না গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল্লাহ সবুজের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। এরমধ্যে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ভুট্টো ও মোকাদ্দেস হোসেন টগরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রে প্রায় ২০-২৫ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।
এদিকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. নাজমুল হকের একটি পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি খোয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার বানিয়াখালী হাইস্কুল থেকে এই পিস্তল ও গুলি খোয়া যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ।
ডুমুরিয়া থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এএসআই মো. নাজমুল হক (৫৫) ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য দিঘলিয়া থানা থেকে ডুমুরিয়ার বানিয়াখালী এসেছিলেন। তিনি সোমবার রাতে উপজেলার বানিয়াখালী হাইস্কুলে রাত যাপন করেন। ওই সময় এসআই নাজমুল হকের কাছে থাকা একটি ব্যাগে তার পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি ছিল। গতকাল দুপুরে তিনি পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাগের মধ্যে রেখে বাইরে যান। কিছু সময় পর ফিরে আর অস্ত্র ও গুলি পাননি। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, ডুমুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্কুলের দপ্তরিসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এএসআই নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত ও ডুমুরিয়া থানায় নজরবন্দি রাখা হয়েছে।
খুলনার পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বলেন, এসআই মো. নাজমুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, পাশাপশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধারে অভিযান চলছে।
