ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা সদ্যসমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, নির্বাচনবিমুখতা জাতিকে গভীর খাদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃত্বত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ। এ অবস্থা কখনো কাম্য হতে পারে না। পাঁচ ধাপের উপজেলা ভোট শেষে গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ‘উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে আমার কথা’ শীর্ষক একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের পড়ে শোনান তিনি।
গত মঙ্গলবার পঞ্চম ও শেষ ধাপের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের উপজেলা ভোট। এই নির্বাচনে বেশির ভাগই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলায় বিনা ভোটে জয়ীদের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে গত ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের ভোটের দিন মাহবুব তালুকদার বলেছিলেন, ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ীদের ইলেকটেড না বলে সিলেকটেড বলা যেতে পারে।’
এবারের উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এসব নির্বাচন কতটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সে বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমি পূর্বে যা বলেছিলাম, এখনো তা-ই বলব, আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন। প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছেই এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যথোপযুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। আমি আগেও বলেছি, আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় শামিল হতে চাই না। একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও জাতির জন্য নির্বাচনবিমুখতা অশনিসংকেত।’
এবারের উপজেলা নির্বাচন সংবিধানসম্মত হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন তুলে মাহবুব তালুকদার বলেন, স্থানীয় সরকারে কোনো বহিরাগতের হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই। অন্য কারও হস্তক্ষেপ হলে উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও শুদ্ধ হবে না।
তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত এবং তা বহুত্ববাদের ভেতর থেকে উৎসারিত হতে হয়। কিন্তু আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।’
উপজেলা ভোটে সাংসদদের প্রভাব খাটানোর দিকে ইঙ্গিত করে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন সংসদ সদস্যদের আওতামুক্ত না হলে তা কখনো অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের উপদেষ্টার ভূমিকা উপজেলা পরিষদের কৌলীন্য বিনষ্ট করেছে। কোনো কোনো সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কারও আজ্ঞাবহ হয়ে দায়িত্বপালন করলে এবং উপজেলা পরিষদের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জিত হলে উপজেলা পরিষদ জনআকাক্সক্ষা পূরণে ব্যর্থ হবে।’
