আজ ২১ জুন বিশ্ব সংগীত দিবস। ১৯৮২ সালে ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং-এর উদ্যোগে ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ নামে প্রথমবার দিনটি উদ্যাপন শুরু হয়। এখন প্রায় ১২০টি দেশের ৪৫০টি শহরে এই দিবস উদ্যাপিত হয়। এ বছর ফ্রান্সের প্যারিসে আয়োজন করা হচ্ছে দিবসটির ৩৮তম আয়োজন। বাংলাদেশেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে উদ্যাপিত হয় দিনটি। বিশেষ দিনটি নিয়ে বলেছেন কুমার বিশ্বজিৎ, হাবিব ওয়াহিদ ও নাজমুন মুনিরা ন্যানসি
কুমার বিশ্বজিৎ : আমার কাছে সংগীত দিবস সারা বছরই। কারণ, গান হলো আমার আছে অক্সিজেনের মতো। গান ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচতে পারব না। তবে বিশ্ব সংগীত দিবস অবশ্যই আমাদের ভাবতে শেখায়। এখন আমাদের সত্যিই ভাবা উচিত, আমাদের গান কতটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলো। এক্ষেত্রে আমার কিছু অবজারভেশন আছে। তা হলো আমাদের দেশ সংগীতের দিক দিয়ে খুবই ঋদ্ধ। আমাদের অনেক গান ও সুর নিয়ে অন্য দেশের মিউজিশিয়ানরা অনেক কিছু করে ফেলছে। কিন্তু আমরা পারছি না। বরং অন্য দেশের মতো সংস্কৃতির প্রতি আমাদের অনেক দুর্বলতা। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিচর্চা করাকে আমি দোষের কিছু মনে করি না। সারা বিশ্বের মানুষই তা করছে। কিন্তু সেই চর্চার ফসলটা যদি খোদ পশ্চিমা দেশের থেকে ভালো হয় তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু সেটা তো কেউ পারছে না। এ জন্য সময় এসেছে আমাদের যা আছে তা নিয়েই যুদ্ধটা করার। কারণ আমাদের যা আছে তা তো আর কারও নেই, এটা মৌলিক-স্বতন্ত্র।
হাবিব ওয়াহিদ : আমাদের দেশে সেভাবে পালিত না হলেও বিশে^র অনেক দেশে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালিত হয়। আমি যখন দেশের বাইরে পড়াশোনা করছিলাম তখন দেখেছি সংগীত দিবস নিয়ে তারা বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নতুন কোনো মিউজিক পিচ, গান বা মিউজিক্যাল প্রোডাকশন করত। আমাদের দেশেও হয়তো ধীরে ধীরে এই দিনটি বিশেষভাবে পালিত হবে। তবে বিশ্ব সংগীত দিবসে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে খুব আনন্দ লাগে। কারণ, এই দিনটি শুধুই মিউজিশিয়ানদের জন্য। অনেকে ফোন বা খুদে বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানায়। এবারের সংগীত দিবসে আমার প্রত্যাশা হলো ধীরে ধীরে বাংলাদেশের গান বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে পড়ক। এ লক্ষ্যেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
নাজমুন মুনিরা ন্যানসি : বিশ্ব সংগীত দিবসে সরকারিভাবে অল্প কিছু আয়োজন হলেও বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে তা হয় না। ফলে এই দিবসের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার যৌক্তিকতা নেই। বরং আমি অন্য বিষয়ে বলতে চাই। আমাদের সংগীতশিল্পীদের কোনো সংগঠনই আজ পর্যন্ত হলো না। যদি একটি সংগঠন থাকত তাহলে আজকের এই বিশেষ দিনে কোনো অনুষ্ঠান করলে সবার সঙ্গে দেখা হতো, গান-বাজনা হতো। এমন হলে হয়তো আমি পারিশ্রমিকের কথাও ভাবতাম না। কারণ, এটি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে বিশ্বের সব মিউজিশিয়ানকে বিশ্ব সংগীত দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।
