প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানবতার কারণে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কারণে বন ধ্বংস হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের সবাইকে ফলদ, বনজ ও ভেষজ তিনটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে অবস্থান করছে। বন তো আগেই কিছু নষ্ট হয়েছিল আর এখন তো পুরাই শেষ।’
গতকাল বাংলাদেশে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়। সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৫ জুন পরিবেশ দিবস পালিত হলেও এবার ওইদিন ঈদ হওয়ায় সরকার ২০ জুন এই দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যত আধুনিকায়ন হচ্ছে, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কাজের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আধুনিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা যা যা ব্যবহার করছি, তার কারণে পরিবেশে দূষণ ছড়াচ্ছে। সাবান, শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, ডিটারজেন্ট, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, শিল্প-কলকারখানা সবকিছু থেকে দূষণ ছড়ায়। তবে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হচ্ছি। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। বৃক্ষরোপণ করতে হবে, জলাধার রক্ষা করতে হবে।’
ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় উখিয়ায় যাই, সেখানে কোনো রাস্তা ছিল না তখন। গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যেতে হতো। ফরেস্ট বাংলোতে আমরা উঠতাম, এর চারপাশে ঘন জঙ্গল ছিল। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের টেকনাফ-উখিয়ায় আশ্রয় দেওয়া হলো, এখন বন শেষ।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর কৃষক লীগের মাধ্যমে পহেলা আষাঢ় থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হতো। সব কর্মীকে তিনটি করে গাছ লাগাতে বলা হতো। এটা আবার শুরু করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা-উপজেলায় বৃক্ষমেলার আয়োজন করেছি। মানুষ গাছের চারা কিনে লাগায়। সবাইকে অনুরোধ করব, যার যার কর্মস্থলে ও বাসস্থানে গাছ লাগাবেন। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে রাস্তার পাশে ও জঙ্গলের আশপাশে বসবাসরত লোকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যারা এসব গছের যতœ নেবেন, গাছগুলো বড় হলে বিক্রির পর এর ৭৫ ভাগ লভ্যাংশ তারা পাবেন। ২৫ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। এরাই আবার নতুন করে গাছ লাগাবেন।’
সুন্দরবন ও উপকূলীয় বন রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে, বাঘের সংখ্যা বাড়াতে হবে। হোগলা বন বাঘের ব্রিডিং পয়েন্ট। নদীর লবণাক্ততা কমলে হোগলা বন বাড়বে এবং বাঘের সংখ্যাও বাড়বে। এর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষার কাজ জাতির জনকই শুরু করেছিলেন। আমরা উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী রক্ষার কাজ করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণে জাতীয় অবদান রাখায় ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেন। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবদান রাখায় তিনটি ক্যাটাগরিতে দুজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। একই সঙ্গে গাজীপুরে শেখ কামাল ওয়াইল্ড লাইফ সেন্টারের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে একটি তেঁতুলগাছ লাগান।
