স্কুলছাত্রী শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর হত্যা!

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে তার দুলাভাই ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার নাটাই (দক্ষিণ) ইউনিয়নের শালগাঁও গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে তামান্না আক্তার (১৫) নামে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তামান্না ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার আমিনপুর গ্রামের নোয়াব মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুলাভাই নাঈম ইসলাম (২৭) পলাতক।

তামান্নার বড় বোন স্মৃতি আক্তার দেশ রূপান্তরকে  জানান, নাঈম তার বাবা বসু মিয়ার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক বাজারে নৈশ প্রহরীর কাজ করেন। গত সোমবার তামান্নাকে খবর দিয়ে বাড়িতে আনেন নাঈম। বুধবার রাতে বসু মিয়া কাজে গেলেও নাঈম যাননি। স্মৃতি কাজে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাঈম বলেন, সকালে তিনি তার মাকে আনতে ঢাকায় যাবেন। পরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাঈম আমের জুস নিয়ে এসে তার মেয়ে জান্নাতকে খাওয়ান। জুস খাওয়ার পরপরই জান্নাত ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর নাঈম তামান্নাকেও জুস খেতে বলেন। কিন্তু তামান্না সেই জুস না খাওয়ায় স্মৃতি তা খান। জুস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অচেতন হয়ে পড়েন স্মৃতি। পরে সকালে ঘুম থেকে উঠে তামান্নাকে ডাকাডাকি করেন স্মৃতি। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তামান্নার কাছে গিয়ে তার শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে গ্রামের এক মাতব্বর বাড়িতে আসলে নাঈম পালিয়ে যান। নাঈম ধর্ষণের পর তামান্নাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তামান্নার শরীরের নিম্নাঙ্গের দিকে রক্তের ছাপ দেখা গেছে। নাক দিয়েও ফেনা বেরিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তামান্নাকে জুস বা বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি।’

তামান্নার মরদেহের ময়নাতদন্তে সম্পৃক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) একরাম রেজা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার শরীরে ধর্ষণের আলামত ছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত