দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় প্রেক্ষাগৃহের বেহাল দশা, দর্শকখরা নিয়ে কথা হচ্ছে। বড় কোনো উৎসব ছাড়া সিঙ্গেল স্ক্রিনের প্রেক্ষাগৃহগুলো ফাঁকাই থাকে। বহু বছর ধরে দেশে সিঙ্গেল স্ক্রিনের প্রেক্ষাগৃহ থাকলেও মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতি শুরু হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। দেশের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের স্টার সিনেপ্লেক্স। এখন পর্যন্ত দেশে মাত্র তিনটি মাল্টিপ্লেক্স রয়েছে। এখানে দেশি সিনেমার পাশাপাশি হলিউডের নামকরা সিনেমাগুলো দেখা যায়। প্রথমদিকে হলিউডের সিনেমাগুলো মুক্তি পেতে তিন-চার মাস লেগে যেত। কিন্তু দর্শকের আগ্রহের কারণেই সাত বছর আগে থেকে সারা বিশে^র সঙ্গে একই দিনে বড় বড় হলিউড সিনেমা এখানে মুক্তি পাচ্ছে। খেয়াল করলে দেখা যায়, সিঙ্গেল স্ক্রিনের হলে দর্শকখরা থাকলেও, মাল্টিপ্লেক্সে সারা বছরই বেশ ভিড় থাকে দর্শকের। এই চিত্র দেখে বোঝা যায়, আমাদের দর্শকরাও বিদেশের মতো মাল্টিপ্লেক্স সংস্কৃতিঘেঁষা হতে চাচ্ছে। একই সুর শোনা গেল দেশের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া এবং বিপণন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই গ্রামের ছেলে। এখনো গ্রামের বাড়ি রংপুরে গেলে সেখানকার লোকাল সিনেমা হলে সিনেমা দেখি। কিন্তু সর্বশেষ কয়েক বছর আর সিনেমা হলে যেতে ইচ্ছা করে না। এই না যাওয়ার ইচ্ছা দেখা দিয়েছে স্থানীয় লোকজনের মনোভাব দেখে। আমার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এমনকি স্থানীয় অনেকেই এখন আর রংপুরের সিনেমা হলে এসে সিনেমা দেখে না। আবার তারাই ঢাকায় এলে সিনেপ্লেক্সে টিকিট কেটে সিনেমা দেখে।’ যমুনা ব্লকবাস্টার সিনেমাসের মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ও মানুষের মনোভাব এখন আর আগের মতো নেই। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের রুচির পরিবর্তন এসেছে। তাই এখন যারা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক আছেন, তারাও সিনেমা হলে যেতে চান না। কারণ দেশের বেশির ভাগ হলের পরিবেশ খুব খারাপ। এসি নেই, সিটগুলো নড়বড়ে, ছারপোকার কাপড়, টয়লেটের বেহাল দশাÑ এমনকি সিনেমার রং ও শব্দ অস্পষ্ট। এসব কারণে মানুষ প্রেক্ষাগৃহবিমুখ হয়েছেন। তাদের আবার সিনেমা হলে আনতে হলে সারা দেশে মাল্টিপ্লেক্স দরকার।’
স্টার সিনেপ্লেক্সের সিনিয়র ম্যানেজার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সারা দেশে মাল্টিপ্লেক্স ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমরা অনেক দিন ধরেই অনুভব করছি। এরই মধ্যে আমাদের দ্বিতীয় শাখা রাজধানীর জিগাতলা-ধানমন্ডি এলাকার সীমান্ত স্কয়ারে সফলতার সঙ্গে চলছে। এরপর আমরা মহাখালীতে তিন হলের একটি মাল্টিপ্লেক্স করব। পর্যায়ক্রমে উত্তরা ও মিরপুরে শাখা খুলব। ঢাকার বাইরেও শাখা খোলার ব্যাপারে একাধিক পরিকল্পনা চলছে। সর্বপ্রথম কক্সবাজারে শাখা খোলা হবে। এভাবে সারা দেশে আমরা ছড়িয়ে পড়লে দর্শক আবার হলমুখী হবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
