সারা দেশে ভিটামিন এ খেল শিশুরা

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ০৩:৩২ এএম

সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা শিশু হাসপাতালে বেলুন উড়িয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। অসুস্থতার কারণে যেসব শিশু ক্যাপসুল খেতে পারেনি তাদের জন্য আগামী ১০ দিন পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালু থাকবে। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদ্বোধনকালে মন্ত্রী বলেন, অসুস্থ শিশুদের কোনোভাবেই ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। অবশ্যই ভরা পেটে টিকা খাওয়াতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় খাওয়ালে শরীরের অন্যান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। তিনি বলেন, অসুস্থ শিশুদের জন্য আগামী ১০ দিন টিকা খাওয়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ বছর দেশে ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার কর্মী নিয়োগ করে সরকার। এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, স্কুলবাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন জনসমাগম স্থলে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টিকাকেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। পাহাড়ি ও একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিন দিন ধরে এই কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ক্যাপসুল সংকটের কারণে তিনটি বিভাগ ও ছয়টি সিটি করপোরেশনে যেভাবে শুধু নীল রঙের টিকা খাওয়ানোর কথা ছিল তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন নিয়মমাফিক লাল ও নীল রঙের টিকা খাওয়ানো হচ্ছে। ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী ২৫ লাখ শিশুকে ১ লাখ ইউনিটে নীল ক্যাপসুল এবং ৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ২ লাখ ইউনিটে শিশুর জন্য লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বরাদ্দ করা হয়।

জাহিদ মালেক জানান, এবারের ক্যাপসুলের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দেশে-বিদেশে একাধিকবার এসব পরীক্ষা করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়ায় রাতকানা রোগ কমেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যখন এই ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয় তখন রাতকানা রোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি ৬ মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো ও ৬ মাস পর থেকে সুষম খাদ্য খাওয়ানোর পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পারভীন আক্তার, জাতীয় অধ্যাপক ডা. সাহেলা খাতুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পুষ্টিসেবা বিভাগের লাইন ডিরেক্টর এস এম মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী কয়েকজন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এম মনজুর হোসেন, মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস ও ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান সিদ্দিকী প্রমুখ। ১৯৭৩ সাল থেকে বিনামূল্যে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল কর্মসূচি করে আসছে সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত