গত ১৫ মাসে যা হয়নি এই জুনে এসে তাই হল। ফেসবুকের ভার্চুয়াল মুদ্রা লিবরা আসার খবরে বিটকয়েনের মূল্য বেড়ে গেছে। ২০১৮ সালের মার্চের পর প্রথম বারের মতো এই ভার্চুয়াল মুদ্রার দাম ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে।
কয়েনডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে একটি বিটকয়েনের দাম ১০ হাজার ৭৫০ ডলার বা ৯ লাখ ৮ হাজার টাকা। এই মুদ্রা ভগ্নাংশ আকারেও কেনা যায়।
বিশ্বখ্যাত সাময়িকী বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে, ফেসবুকের কারণে বিটকয়েনের দাম এত বেড়েছে। ১৮ জুন ফেসবুক তাদের ভার্চুয়াল লিবরার কথা জানায়। ২০২০ সালে এটির প্রচলন শুরু করবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানটি।
সেই খবর শুনে বিটকয়েনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ভার্চুয়াল মুদ্রা কী, কেন
২০১৮ সালে বিটকয়েনের চাহিদা প্রচুর কমে যায়। তখন দামও পড়ে যায়। ২০১৯ সালে এসে ঘুরে দাঁড়ায় এই মুদ্রা। চলতি বছরে দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।
এর আগে ২০১৭ সালে ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছি দাম উঠে যায়! বছরের শেষ নাগাদ সবাইকে অবাক করে আবার ৩ হাজার ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকে।
ভার্চুয়াল মুদ্রার ধারণা:
এটি মূলত দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। আনা যায় না ঘরে। রাখা যায় না ব্যাংকে। তবু বলা হয় মুদ্রা!
মনে করুন আপনার কাছে এক লাখ টাকা আছে। আপনি সেগুলো ব্যাংকে রাখতে চান না। আবার নিজের কাছেও রাখতে চান না। এমন একটা স্থানে রাখতে চান যেখান থেকে যে কোনো সময় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন, অর্থের মান আবার হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে। এটি করতে হলে ওই লাখ টাকা দিয়ে আপনাকে ভার্চুয়াল মুদ্রা কিনতে হবে।
বাংলাদেশের মুদ্রার নাম যেমন টাকা, আমেরিকার যেমন ডলার, ভারতের যেমন রুপি ভার্চুয়াল মুদ্রারও আলাদা, আলাদা নাম আছে। এমন প্রায় এক হাজার মুদ্রা প্রচলিত আছে।
বিটকয়েন সবচেয়ে জনপ্রিয়। সারা বিশ্বের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এদের চুক্তি আছে। সেসব প্রতিষ্ঠানে বিটকয়েন দিয়ে কেনাকাটা করা যায়।
এটি মূলত ডিজিটাল মানি। অর্থাৎ অনলাইনে আপনার অ্যাকাউন্ট থাকবে, সেই অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল কোডের মাধ্যমে আপনার মুদ্রা সংরক্ষিত থাকবে।
লিবরা জমা রাখতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ‘ক্যালিব্রা’ নামের একটি সাবসিডিয়ারি চালু করেছে, যা ডিজিটাল ওয়ালেট হিসেবে ভার্চুয়াল মুদ্রা সংরক্ষণ, আদান-প্রদান ও খরচ করার সুবিধা দেবে। ক্যালিব্রা ফেসবুকের কয়েক শ কোটি ব্যবহারকারীর মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। বিটকয়েনের জন্যও এমন আলাদা ওয়ালেট আছে।
যারা প্রোগ্রামিং এবং গণিতে দক্ষ তারা বিশেষ কম্পিউটার ব্যবহার করে জটিল হিসাব সমাধান করে এই ধরনের মুদ্রা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসেন। যেমন বিটকয়েন নিজের অ্যাকাউন্টে আনার বা তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মাইনিং’। সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন বিটকয়েন তৈরি হবে। এরপর আর কোনো বিটকয়েন তৈরি করা যাবে না। আপনি তৈরি করতে না পারলে টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুকের মুদ্রা কীভাবে তৈরি হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
বিটকয়েনের সংখ্যা এমন সীমাবদ্ধ বলেই শেয়ারবাজারের মতো দর ওঠানামা করে। তাতে মানুষ এটি কিনতে বেশি আগ্রহী হয়।
