বিধিমালা প্রকাশের আট বছরেও জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য গঠন করা হয়নি ‘শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড’। ফলে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার ছাড়পত্র পেতে ব্যবসায়ীদের ঘুরতে হচ্ছে একাধিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন দপ্তরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিপ ব্রেকিং খাত থেকে সরকার বছরে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। রিসাইক্লিং বোর্ড গঠন হলে নানা ভোগান্তি থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া যেত।
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু- উপকূলীয় এলাকার প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে জাহাজভাঙা শিল্প ব্যবসা। ২০১১ সালে সরকারিভাবে এ উপজেলার উত্তর সালিমপুর, ভাটিয়ারী, জাহানাবাদ, শীতলপুর, দক্ষিণ সোনাইছড়ি, মধ্য সোনাইছড়ি ও উত্তর সোনাইছড়িকে শিপ ব্রেকিং জোন ঘোষণা করা হলে ওই খাত ঘিরে আগ্রহ বাড়ে মানুষের। এলাকায় দেড় শতাধিক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড গড়ে উঠলেও পরবর্তী সময়ে লোকসানসহ নানা কারণে এর দুই-তৃতীয়াংশ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে ৫০-৬০টি ইয়ার্ড চালু আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে এ খাতের জন্য ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস্ ২০১১’ শিরোনামে বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। ওই বিধিমালায় ব্যবসায়ীদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেওয়ার লক্ষ্যে ‘শিপ বিল্ডিং অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড’ গঠনের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া গত বছর সরকার প্রণীত বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন-২০১৮-তেও ‘শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড’ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানির পর তা ইয়ার্ডে আসার আগেই ছাড়পত্রের জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ছুটতে হয়। এসব দপ্তরের কর্মকর্তাদের জাহাজ পরিদর্শনের জন্য আলাদাভাবে সমুদ্রে নিয়ে যেতে হয়। এতে ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় ও নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড গঠন হলে সবকিছু এক জায়গায় চলে আসবে ও ভোগান্তি কমবে। বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে জাহাজ কাটা শিল্প সংশ্লিষ্টদের এ কাজের জন্য কাস্টমস, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ড্রাইডক, শিল্প মন্ত্রণালয় নিযুক্ত বিভিন্ন সেফটি এজেন্সি, সমুদ্র পরিবহনসহ নানা দপ্তরে যেতে হয়। সেখানে তারা অনেক ভোগান্তির শিকার হন। ভোগান্তি লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে রিসাইক্লিং বোর্ড গঠনের কথা হলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। এটি হলে এক জায়গাতেই যাবতীয় সমস্যার সমাধান পাওয়া যেত।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাহাজভাঙা শিল্পের জন্য শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হবেন এ বোর্ডের চেয়ারম্যান। সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মহাপরিচালক হবেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী। এছাড়া মন্ত্রণালয়, সংস্থা, শিপ রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই বোর্ডে থাকবেন।
