টিআইবির প্রতিবেদন

সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমেনি

আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ০২:৩১ এএম

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও দুর্নীতি কমার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। গতকাল রবিবার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার : নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা জানায় টিআইবি।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি জনপ্রশাসনের নিয়োগ, পদোন্নতি, ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসহ বিভিন্ন  

 বিষয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশকালে টিআইবির কর্মসূচি বিষয়ক ব্যবস্থাপক মহুয়া রউফ বলেন, ‘রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবের কারণে জাতীয় শুদ্ধাচারের কোনো কোনো কৌশলের চর্চা ফলপ্রসূ হচ্ছে না, যা প্রশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’ তিনি বলেন, ‘শুদ্ধাচার কৌশলে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের মধ্যে পাঁচটি কৌশলের চর্চা সন্তোষজনক। তিনটি কৌশলের চর্চা এখনো শুরুই হয়নি।’

মহুয়া রউফ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে যোগ্যতা নয়, ক্ষমতাসীনদের পছন্দ প্রাধান্য পাচ্ছে।’ এ সময় শুদ্ধাচার কৌশলের কিছু অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচারের অবস্থাটি মোটামুটি মিশ্র। কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি আছে। কিছু কিছু উদ্যোগ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। আবার কিছু কিছু উদ্যোগ শুরুই হয়নি।’ তিনি সরকারি কর্মচারী আইনে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত একটি ধারার সমালোচনা করে বলেন, এই ধারাটি দুর্নীতি প্রতিরোধে বাধার সৃষ্টি করবে। তাই তারা এই ধারাটি বাতিল করে আইনের সংশোধন চান।

জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার বাস্তবায়নে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে টিআইবি। এসবের মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মচারী আইন-১৯৭৯ শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে হালনাগাদকরণ, আয়কর প্রদানের বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রদানে সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল কাঠামো তৈরি করে সে অনুযায়ী বার্ষিক সম্পদের হিসাব নিশ্চিতকরণ, সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এ ‘সংবিধান পরিপন্থী’ ও ঝুঁকিপূর্ণ ধারা বাতিল, এ আইনে সরকারি ধারাটি পরিবর্তন করে প্রজাতন্ত্র শব্দ যুক্ত, জনপ্রশাসনের উচ্চ পদগুলোর শূন্য পদের বিপরীতে অতিরিক্ত নিয়োগ না দিয়ে নিচের পদগুলো পূরণ, পদোন্নতিতে বৈষম্য দূর করে সব ক্যাডারকে সমান সুযোগ দেওয়া, প্রশাসন ক্যাডার থেকে টেকনিক্যাল ক্যাডার না দিয়ে টেকনিক্যালে দক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্বে বসানো, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্কোর ও দক্ষতা মূল্যায়ন করে পদোন্নতি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মজীবন উন্নয়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে তা কার্যকর ও তথ্য প্রকাশ আইন-২০১১ বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ পেশ করা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮তে কাউকে আটক করতে হলে তার নিয়োগ প্রদানকারীর অনুমোদন নেওয়ার বিষয়টি সংবিধান লঙ্ঘন করে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রবণতা বাড়ছে।’ প্রতিবেদন প্রকাশকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক রফিকুল হাসান, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভিন হাসান ও উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত