এক. ধরা যাক, নরেন্দ্র মোদি একটা বই লিখেছেন, যার শিরোনাম ‘ভারতের মুসলমানদের কীভাবে ভালোবাসতে হবে’ অথবা ‘বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণে হিন্দুদের করণীয়’; কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্প বই লিখেছেন, ‘হাউ টু লাভ ল্যাটিন আমেরিকানস, মুসলিমস অর ইমিগ্রান্টস’। এমন কোনো বই পড়ার আগেই আমাদের সংশয়, সন্দেহ দুই-ই হতে পারে। এই সংশয় এবং সন্দেহের জন্য পাঠককে কি দায়ী করা যাবে? নাকি বইয়ের লেখকের অতীত কর্মকাণ্ডই সংশয় এবং সন্দেহ তৈরি করার জন্য দায়ী? কামালউদ্দিন নীলু নির্দেশিত ‘স্তালিন’ নাটকের কথা শুনেই এমন সংশয়-সন্দেহ কাজ করছিল। সংশয়টা এই কারণে নয় যে, স্তালিনকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হবে নাকি ইতিবাচকভাবে দেখানো হবে। সংশয় ছিল ঠিকমতো দেখাতে পারা নিয়ে। ঠিকমতো মানে বস্তুনিষ্ঠভাবে। কারণ অতীতে যারা এ ধরনের ঐতিহাসিক এবং বিপ্লবী চরিত্র নিয়ে কাজ করেছেন তাদের বেশিরভাগের রচনাই একপেশে। হয় ভালো, না হয় মন্দ। হয় নায়ক অথবা ভিলেন। সংশয়টা ছিল এই কারণে।
আবার ভাবছিলাম এই সময়ে স্তালিনের উপযোগিতাই বা কী? কারণ বাজারের চাহিদা আর উপযোগ ছাড়া পণ্যের উৎপাদন হয় না। আবার এই ভাবনাও এসেছে যে, স্তালিন, মাও এমনকি ফিদেলকে নিয়ে যেসব কাহিনী বাজারে আছে, সেগুলোর বেশিরভাগের বস্তুনিষ্ঠতা নেই, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখা। গত শতকের আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ার বিপর্যয়ের সময় সমাজতন্ত্র এবং বিপ্লব-বিরোধিতার একটা চাহিদা এবং উপযোগ সৃষ্টির প্রয়োজন হয়েছিল। গেওর্গি এনে গেয়ার-এর লেখা থেকে এর একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ‘রহস্যময় ফিদেল কাস্ত্রোকে দুনিয়া হাজারোভাবে আর মোহাবিষ্ট চোখে অলীক ছায়ামূর্তির মতো করে তুলেছে। তিনি তৃতীয় বিশ্বের নেপোলিয়ন, ইতিহাসের প্রথম ফ্যাসিস্ট বামপন্থি শাসকবর্গের প্রধান, অস্থিরতায় আক্রান্ত মানসিক রোগী, সমাজতন্ত্রী বীর, এ মর্তে যিশুখ্রিস্ট, পতিতার বুড়ো দালাল, নিঃসঙ্গ সৈনিক, সমাজতন্ত্রের ফেরিওয়ালা, আগাপাশতলা একনায়ক, আপাদমস্তক রাজপুত্র, মনেপ্রাণে বিপ্লবী, ব্যর্থ গণতন্ত্রী, কমিউনিস্ট, ম্যাকিয়াভেলির প্রিন্স, ফ্রান্সিস্কো ফ্রাঙ্কোর চিরচেনা গেরিলা, ধর্মসংক্রান্ত অপরাধের বিচারে বসা যাজক, ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহুরূপী, বিশ্বমঞ্চে নয়া জাতের অভিনেতা, বংশ প্রতিষ্ঠাকামী কমিউনিস্ট, তৃতীয় দুনিয়ার বড় বড় কাজের প্রতিনিধি, নয়া তৃতীয় দুনিয়ার আদিরূপ, অনেক চেনা সুবিধাবাদী ছেনাল-কুত্তির বাচ্চা..। ’ (অনুবাদ : ফারুক চৌধুরী) ‘স্তালিন’, ‘মাও’ বা ‘ফিদেল’ লিখে গুগল অথবা ইউটিউবে সার্চ দিলে এ ধরনের অসংখ্য একপেশে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লেখা বা প্রামাণ্যচিত্র পাওয়া যায়। যে সব দেখে কিংবা পড়ে আপনি একটা পরিষ্কার মত পাবেন, যা থেকে আপনি সহজেই একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন, আর তা হলো এরা ইতিহাস এবং মানব সভ্যতার শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা এবং বিদ্বেষ উৎপাদন করা ছাড়া বিষয়ের কার্যকারণ সম্পর্কে আপনার কোনো পরিষ্কার ধারণা হবে না। এমন নানাবিধ কারণেই সংশয় ছিল।
দুই. স্তালিনকে হয়তো দুই ভাবে উপস্থিত করা যেতে পারে। এক. স্তালিন কী কী ভুল করেছিলেন তা তুলে ধরে সেই ভুলগুলো ক্রিটিক্যালি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া এবং বেগবান করা। কেননা, প্রয়োজনে আপনি স্তালিনকে বর্জন করতে পারেন, কিন্তু উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। দুই. স্তালিনকে আনক্রিটিক্যালি সমালোচনার করার মাধ্যমে বিপ্লব, মার্ক্স, লেনিন, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ইত্যাদি যে ভুল তা প্রমাণের চেষ্টা করা। দুটোর দুই রকম উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্নমত তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে কিছু প্রশ্নও। একটা কথা বলে রাখা প্রাসঙ্গিক হবে যে, একজন দর্শক হিসেবে স্তালিন ভুল কি শুদ্ধ সেটা দেখার চাইতে ‘স্তালিন’ নাটক হয়ে উঠেছে কি না সেটার প্রতিই ছিল আমার আগ্রহ। কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র বা ঘটনাই হোক অথবা চলমান কোনো বিষয়ই হোক, তা যদি উপস্থাপন করতে হয়, তা অবশ্যই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটসহই উপস্থিত করতে হবে। অর্থাৎ স্থান, কাল, সামাজিক-রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতেই তা বোঝার এবং উপস্থিত করার চেষ্টা করা উচিত। প্রথমত বিষয়টা সোসিওলজিক্যালি বুঝতে হবে এবং তারপর ইতিহাসের ঘটনাই হোক বা সমকালীন কোনো ঘটনাই হোক সেটাকে এস্থেটিক্যালি রূপান্তর করতে হবে। অর্থাৎ ফ্যাক্ট বা রিয়েল কোনো ঘটনাকে ফিকশনে রূপান্তর করা। সেটা যদি যথাযথভাবে না করা হয় তাহলে নাটক হোক অথবা উপন্যাসইÑ সেটা পাঠযোগ্য বা দর্শনযোগ্য হবে কি? স্তালিন নাটক দেখতে দেখতে বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবছিলাম আর মনের গহিন কোণে একটা সন্দেহ উঁকি দিচ্ছিল যে, স্তালিন নাটকটিতে অনেক তথ্য উপাত্ত ফিকশনে রূপান্তর না করেই সরাসরি ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না। এই প্রসঙ্গে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ উপন্যাসের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে মার্কেসকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘তোমার কোনো কোনো গুণগ্রাহীর মতে ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড গ্রন্থে তুমি বুয়েন্দা পরিবার-গাথা বলতে গিয়ে আসলে গোটা ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসকেই বর্ণনা করেছ। তোমার কি মনে হয় সমালোচকরা বাড়িয়ে বলছে?’ উত্তরে মার্কেস বলেন, ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাস নয়, এটা ল্যাটিন আমেরিকার মেটাফোর, রূপক।’ (অনুবাদ : আলীম আজিজ ও এস এ মামুন)
তিন. ‘স্তালিন’ নাটকের শুরুতেই সংশয় এবং সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হলো। শুরুতেই পরিচালক স্তালিন সম্পর্কে তার সিদ্ধান্ত দর্শকদের জানিয়ে দিলেন। আর বাকি সময়টা তার সিদ্ধান্তের যথার্থতার পক্ষে বিভিন্ন জনের লেখা থেকে নেওয়া টুকরো টুকরো তথ্য নাট্যক্রিয়ার নামে ক্যারিকেচার করে উপস্থাপন করতে থাকলেন বলে মনে হলো। প্রথম সংকট : নাট্যকার এবং পরিচালক তার নিজের মত বা সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিলেন। দর্শক হিসেবে পুরো নাটকটি দেখার পর আমরা আমাদের মতো করে একটা মত তৈরি করতে পারতাম। ফলে বাজারে পণ্য কেনার সময় ক্রেতা হিসেবে ভালোমন্দ বিচার করার যে স্বাধীনতাটুকু থাকে, দর্শক হিসেবে নাটক দেখে কিছু চিন্তা-ভাবনার সেই অবকাশটুকু পরিচালক শুরুতেই বন্ধ করে দিলেন। আর যেন বলতে থাকলেন আপনারা শুধু দেখে যান কী চরম সত্য আমি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। যে সত্য সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। যে কোনো ধরনের চাপিয়ে দেওয়া মত বা সিদ্ধান্তই অগণতান্ত্রিক, একরৈখিক, নন-ডাইলেক্টিক্যাল, আপাত সরল কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তাহলে, কীভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে, যাতে দর্শকের ওপর নাট্যকার বা নির্দেশক তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না? এ বিষয়ে বের্টোল্ট ব্রেখট-এর ‘দি স্ট্রিট সিন’ লেখা থেকে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তিনি লিখেছেনÑ “একজন প্রত্যক্ষদর্শী জড়ো হওয়া কিছু মানুষকে দেখাচ্ছে কীভাবে একটা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। দর্শকরা হয়তো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেনি, অথবা তারা যে ঘটনাটা প্রদর্শন করছে তার সঙ্গে একমত নাও হতে পারে, হয়তো তারা ‘বিষয়টি অন্যভাবে দেখতে পারে’। মূল কথা হলো প্রদর্শনকারী লোকটি ড্রাইভার এবং ভিক্টিমের আচরণ এমনভাবে প্রদর্শন করল যাতে দর্শকরা দুর্ঘটনা সম্পর্কে একটা অভিমত তৈরি করতে সমর্থ হয়।” (অনুবাদ : লেখক)
তার মানে কেউ যদি স্তালিনকে না জানে, সোভিয়েত রাশিয়ার ইতিহাস না জানে, তারাও যেন নাটকটি দেখে নিজেদের একটা মত তৈরি করতে সমর্থ হয়। আর সেভাবেই বিষয়টা উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এটাকে বস্তুনিষ্ঠতাও বলা যাবে আবার সমাজতাত্ত্বিকতাও বলা যবে। সহজ কথায় নাটক দেখে দর্শকদের সিদ্ধান্ত নিতে পারার স্বাধীনতা থাকতে হবে। নাট্যকার এবং পরিচালকের সিদ্ধান্ত যেন দর্শকের ওপর নানান কায়দায় চাপিয়ে দেওয়া না হয়। নানা প্রেক্ষাপট থেকে বিষয়টা উপস্থাপন করতে হবে। তা না হলে দর্শক হিসেবে নাটক দেখার আনন্দটাই আর থাকবে না। দ্বিতীয় সংকট : ইতিহাসের বাস্তবই হোক কিংবা সমকালীন কোনো ঘটনার বাস্তবই হোক; দুটোই বাস্তব, ফিকশন নয়। এই বাস্তবকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ফিকশনে রূপান্তর করতে হয়। শিল্পের শর্তই তাই। স্তালিন নাটকে সেই সব শর্ত পূরণ হয়েছে বলে মনে হয়নি। ধরে নেওয়া যাক, ইতিহাসের একটা বইয়ে ১০টা অধ্যায় আছে। কাটছাঁট করে ১০ জনকে ১০টা অধ্যায় ভাগ করে মুখস্ত করিয়ে সেট, লাইট, মিউজিক, কস্টিউম, কোরিওগ্রাফ ইত্যাদি মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পারলেই কি তাকে নাটক বলা যাবে? অথবা বিভিন্ন উৎস থেকে বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করে উপরোক্ত উপায়ে উপস্থাপন করলে কি নাটক বলা যাবে? নাটক দেখার পরও বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছিলাম। হাবীব তানভীর এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, ‘রিয়েলিটি থিয়েটারে রিফ্লেক্টেড হবে এবং সেই রিয়েলিটি অবশ্যই ক্রিটিক্যালি রিফ্লেক্টেড হতে হবে। এবং সেই ক্রিটিক্যাল রিফ্লেকশনে না থাকবে উপদেশ না হবে বার্তায় ভরপুর।’ (অনুবাদ : লেখক)
চার. মাও সে তুং যেমন বলেন, ‘কোনো সমস্যার আলোচনায় আমাদের উচিত সংজ্ঞা থেকে নয়, বরং বাস্তব অবস্থা থেকে শুরু করা...। বর্তমানের বাস্তব অবস্থা কী? তথ্যগুলো হলো : জাপানের বিরুদ্ধে চীন পাঁচ বছর ধরে প্রতিরোধ যুদ্ধ করে আসছে; বিশ্বব্যাপী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধ; প্রতিরোধ যুদ্ধে চীনের বৃহৎ ভূস্বামী শ্রেণি ও বড় বুর্জোয়াদের দোদুল্যমানতা এবং জনগণের ওপর তাদের চরম নির্যাতন...’, ইত্যাদি আরও অনেক বাস্তব সমস্যার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। (অনুবাদ : সাঈদ-উর-রহমান)। মাওয়ের কথার সূত্র ধরে আমরা যদি আমাদের ‘বাস্তব’ অবস্থা বুঝতে চাই? আমাদের এই মুহূর্তের বাস্তবতা কী? কী কী বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আমরা অতিক্রান্ত হচ্ছি? একজন শিল্পী বা নাট্যকার প্রতিদিনের নানা ধরনের বাস্তবতাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাবেন এবং তার শিল্পকর্মেও থাকবে তার ক্রিটিক্যাল রিফ্লেকশন। আর তা যদি না হয় তার শিল্পকর্ম হবে অন্তঃসারশূন্য। স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় লেখা নাটক ‘সেনোরা কারারের রাইফেল’-এর এক টীকায় ব্রেখট লিখেছেন, ‘মানব সম্প্রদায় যদি ধ্বংস হয় তাহলে আর কোনো শিল্পও থাকবে না। সুন্দর করে একসঙ্গে শব্দ সাজালেই শিল্প হয় না। জনসাধারণের সঙ্গে কী ঘটছে তা দ্বারা শিল্প নিজে যদি আন্দোলিত না হয়, তাহলে শিল্প কীভাবে জনসাধারণকে আন্দোলিত করবে? আমার লেখা দিয়ে কীভাবে তাদের হৃদয় পরিপূর্ণ হবে যদি জনসাধারণের দুঃখ-কষ্টে আমার হৃদয় অনুভূতিশূন্য থাকে। তাদের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো পথ খোঁজার চেষ্টা যদি না করি, কীভাবে তারা আমার কাজের মধ্যে প্রবেশ করার জন্য তাদের পথ খুঁজে পাবে?” (অনুবাদ : লেখক)
স্তালিন নাটক দেখার পর থেকেই বাংলাদেশ আর পৃথিবীর বর্তমান সময়ের সঙ্গে এই নাটকটির প্রাসঙ্গিকতা খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। সেই সঙ্গে সময়ের চাহিদা, উপযোগ আর বাস্তবতার সঙ্গে এই নাটকের সম্পর্ক খোঁজার এসব খসড়া চিন্তাগুলো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। ভাবছিলাম, এই সময়ের বাস্তবতায়, ইতিহাসের চরিত্র স্তালিনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এখনো কেন একজন নাট্যকারের স্তালিনকে এভাবে নাটকে উপস্থাপন করতে হয়?
লেখক: নাট্যকর্মী ও গবেষক
