ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা

হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার মেয়াদ বাড়ল ২ মাস

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ০৩:০৬ এএম

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্রের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার মেয়াদ বেড়েছে। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে রিট আবেদন করা আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও ২ মাস বৃদ্ধি করে। এর আগে গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পরিপত্রের ওপর ২৪ জুন (গতকাল) পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছিল হাইকোর্ট।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।  

গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ১০ হাজার ৪৭৬ জন ঋণখেলাপির তালিকা হাইকোর্টে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মনিরুজ্জামান জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে তথ্য দিয়েছেন যে এসব খেলাপির ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে মোট ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আর ১ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণের ১০ হাজার ৪৭৬টি হিসাবের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১০৬টি হিসাব এবং বিভিন্ন ব্যাংকের রয়েছে ৯ হাজার ৩৭০টি হিসাব।

আইনজীবী মনিরুজ্জামান আরও জানান, মোট ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে রয়েছে। এ ছাড়া ৮০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্থগিতাদেশ থাকায় নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) হিসেবে পড়ে আছে। আর ৩০ হাজার কোটি টাকা রাইট অব (অবলোপনকৃত) অবস্থায় রয়েছে। এই ৩০ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

গতকাল এ সংক্রান্ত শুনানিকালে হাইকোর্ট অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলে, ‘অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে আর ফেরত দিচ্ছেন না। এই টাকা দিয়ে বিদেশে অনেকেই সেকেন্ড হোম বানাচ্ছেন। এভাবে যদি ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে ভালো গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হবেন।’ ব্যাংকের অতিরিক্ত সুদ ও সারচার্জ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলে, ‘এক বছর আগে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকের সুদ (গ্রাহকের ঋণের ওপর) সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার আদেশ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। বেশি সুদের কারণেও অনেকে ঋণ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে। এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে দেখতে হবে।’   

রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে এক কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপির তালিকা, ব্যাংকগুলো থেকে আত্মসাতের মাধ্যমে কারা ও কী পরিমাণ অর্থ দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে পাচার হয়েছে এবং ব্যাংক খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চায় হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় আদালত। প্রতিবেদন দিতে একাধিকবার সময় নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে একাধিক তারিখেও প্রতিবেদন না দেওয়া এবং ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। গত শনিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের ৩০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন।  

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সার্কুলার জারি করেছিল সেটির ওপর হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করেছিল। সেই স্থিতাবস্থা আরও ২ মাস বহাল রাখতে আমরা আবেদন করেছিলাম। হাইকোর্ট আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত