শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব। আজ সন্ধ্যায় মঞ্চায়িত হবে ভিয়েতনামের লি ইনজুক থিয়েটারের নাটক ‘কিম তু’। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিয়েতনামের হ্যানয় একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড থিয়েটারের ভিজিটিং প্রফেসর সুয়া সু পং। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাভেল রহমান
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে?
ডক্টর সুয়া সু পং : খুবই ভালো লাগছে। এই নাট্যোৎসবের অংশ হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত এবং গর্ববোধ করছি। এটা বাংলাদেশে আমার ১৫তমবারের মতো আসা। আমি প্রথম বাংলাদেশে আসি ১৯৯১ সালে একটি থিয়েটার ফেস্টিভালে অংশ নিতে।
দেশ রূপান্তর : এটা কি আপনার দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর?
ডক্টর সুয়া সু পং : না। আমার দল কয়েক বছর আগে আরেকটি প্রযোজনা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। সেটি ছিল একটি মনোড্রামা। প্রযোজনাটির নাম ছিল ‘দ্য বিউটি ইন’।
দেশ রূপান্তর : আপনি তো অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশের থিয়েটার দেখছেন। এই সময়ে বাংলাদেশের থিয়েটারের অগ্রগতি কতটা হয়েছে বলে মনে করেন?
ডক্টর সুয়া সু পং : শুধু থিয়েটার নয়, আমার দেখা এই ২৮ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দারুণ উন্নতি করেছে। আইটি ক্ষেত্রেও এগিয়েছে। বাংলাদেশের তরুণরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে খুবই ভালো করছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে খুব ভালো ভালো সিনেমা হচ্ছে। আর থিয়েটারের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের থিয়েটার খুবই উঁচুমানের। ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (আইটিআই) প্রেসিডেন্ট রামেন্দু মজুমদার বাংলাদেশের থিয়েটারের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়া তথা বিশ্বের থিয়েটারকেই প্রমোট করছেন। এ ছাড়া আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র থেকে যে প্রকাশনাগুলো প্রকাশ করা হয় তা খুবই মানসম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয়। যার মাধ্যমে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশ ও এশিয়ার থিয়েটার সম্পর্কে আরও বেশি বেশি জানতে পারে।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের একটি সেমিনারেও অংশ নিয়েছেন?
ডক্টর সুয়া সু পং : আমি মনে করি এই সেমিনারের আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সেমিনারের মাধ্যমে আমরা থিয়েটার স্পেসকে নতুনভাবে বুঝতে পেরেছি। প্রথমেই আমাদের জানতে হবে আমরা কে? আমাদের সংস্কৃতি কী? তারপর বুঝতে হবে আমাদের থিয়েটার কাদের জন্য? তাহলেই আমরা থিয়েটার ও দর্শকদের মধ্যে সঠিক সংযোগটা ঘটাতে পারব। এরপর আমাদের দেশের বাইরের দিকে নজর দিতে হবে। কেননা থিয়েটার সবচেয়ে ভালোভাবে কোনো দেশের সংস্কৃতিকে উপস্থাপন করতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের থিয়েটারের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে না পারলে তারা আমাদের থিয়েটার আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে কখনই জানতে পারবে না। এ ছাড়া থিয়েটারের পাশাপাশি কিছু ভালো ডকুমেন্টারি, ভালো সিনেমা তৈরি করে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আরও বেশি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে আরও বিস্তৃত পরিসরে জানতে পারবে।
দেশ রূপান্তর : থিয়েটার নিয়ে আপনার বর্তমান পরিকল্পনা কী?
ডক্টর সুয়া সু পং : এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে যৌথ প্রযোজনা করার ইচ্ছে আমার দীর্ঘদিনের। সেখানে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের থিয়েটার শিল্পীরা অংশ নেবে। আমি মনে করি এর মাধ্যমে যেমন একটি ভালো প্রযোজনা বেরিয়ে আসবে, সেই সঙ্গে একটি দারুণ থিয়েটার সম্প্রীতিও তৈরি হবে।
দেশ রূপান্তর : বাংলাদেশের কোন কোন প্রযোজনা দেখেছেন?
ডক্টর সুয়া সু পং : আমি বাংলাদেশের অনেক নাটক দেখেছি; বিশেষ করে রামেন্দু মজুমদারের দল থিয়েটারের অনেক প্রযোজনা দেখেছি। ঢাকা থিয়েটারের সেলিম আল দীনের নাটকও দেখেছি। এ ছাড়া লিয়াকত আলী লাকীর দলের নাটক ‘কঞ্জুস’ যেটি নিয়ে সে সম্প্রতি চীন ও কানাডা ঘুরে এসেছে সেটা দেখেছি।
দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ
ডক্টর সুয়া সু পং : আপনাকেও ধন্যবাদ।
