জাহাজজটে দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ১২:১৭ এএম

জাহাজজটে নাকাল এখন নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী। নদীটির তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানার প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারবাহী জাহাজ নদীর মাঝখানে, আবার কোনো কোনো স্থানে পুরো নদীতে নোঙ্গর করে রাখার ফলে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ-পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আর এতে নৌ দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে নদীটিতে।

এদিকে, গত ৯ জুন বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর সোনাকান্দা এলাকায় অল্পের জন্য মারাত্মক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় একটি তেলবাহী জাহাজ। নদীর মাঝখানে মালবাহী অনেক জাহাজ নোঙ্গর করে রাখায় যাতায়াতের কোনো রাস্তা পাচ্ছিল না তেলের ট্যাংকারটি। অবশেষে নাবিকের বুদ্ধিমত্তায় ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায়।

শীতলক্ষ্যা নদীর মুন্সীগঞ্জ মোহনা থেকে নবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সিমেন্ট কারখানা।  এসব সিমেন্ট কারখানার প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকার নদী পথেই আনা হয়। এছাড়া উৎপাদনকৃত সিমেন্ট বিক্রয় ও ডেলিভারি নদী পথেই বেশি হয়ে থাকে। এ কারণে ক্লিংকারবাহী শত শত জাহাজ শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙ্গর করে থাকে মাল খালাসের অপেক্ষায়। অপরদিকে দেশের বিভিন্নস্থানে নৌপথে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য লাইন ধরে থাকে জাহাজসহ বাল্কহেড কোস্টার। ফলে অন্যান্য নৌযানের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। 

শীতলক্ষ্যায় সিমেন্ট কারখানার জাহাজের নদী দখল বিষয়ে জানতে কয়েকটি সিমেন্ট কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন স্থানে মালবাহী জাহাজ রেখে জট সৃষ্টির বিষয়টি নজরে এসেছে। নদীতে নৌযান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে পত্র দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশ থানার ওসি মো. হাকিম জানান, অনিয়ন্ত্রিত নৌযান অবস্থান এবং চলাচলের ব্যাপারে নৌ-পুলিশের একাধিক টিম নদীতে টহলে রয়েছে। আশা করছি অচিরেই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত