ভোক্তার ভাবনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বাজেট

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ১০:০৮ পিএম

বাজেটের আকার নিয়ে প্রতি বছরই কারও না কারও বক্তব্যে প্রকাশ পায় বাজেট উচ্চাভিলাষী। অর্থমন্ত্রীও বাজেট বক্তৃতায় এমন বক্তব্য বলে গর্ববোধ করেন। কিন্তু ভোক্তাদের কাছে বড় আকারের এই বাজেটের বাস্তবতা ভিন্ন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ১৩ জুন জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে। বাজেটের আকার প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেট প্রায় দুই লাখ দুই হাজার কোটি টাকা। অতীতের এক অর্থমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাজেট সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, ‘বাজেট দিয়ে কী হয়, বাজেটের টাকা বারো ভূতে খায়।’

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের প্রস্তাবিত বাজেট প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশ। উন্নয়ন বাজেট প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৯ শতাংশ। বিগত ১ দশকে বাজেটের এমন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা এখন ৮ দশমিক ২ শতাংশ। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ৭৭ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ। বিগত পাঁচ বছরে এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু রাজস্ব ও উন্নয়ন উভয় খাতে বাজেটে বরাদ্দ যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাজেটের সে বরাদ্দ ব্যয়ে অজ্ঞতা, অদক্ষতা ও দুর্নীতিজনিত অপচয়, তছরুপ ও আত্মসাৎ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয়, কোনোভাবেই তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সারা সমাজ দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে।’ জাতির জনক বলেছিলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের খতম করো।’ প্রতি বছর বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে, বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বরাদ্দ যেন বৃদ্ধি পায়। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ যথাক্রমে বাজেটের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ভোক্তারা যেসব শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে, সেসব সেবা বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর কতটা নির্ভরশীলÑ এ প্রশ্ন ভোক্তাকে ভাবায়। বিগত ১০ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমাণে কর্মচারী-কর্মকর্তা-শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছে। সেই সঙ্গে অনেক ভবনও নির্মাণ হয়েছে। যৌক্তিক চাহিদার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ সৃষ্টি করা হয়েছে অনেক বেশি। পদের তুলনায় লোক নিয়োগ হয়েছে আরও বেশি। স্থানসংকুলান হয়েছে পর্যাপ্ত। অথচ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এরই মধ্যে জ্ঞান প্রজনন ক্ষমতা হারিয়েছে। অনেকগুলোর আবার সে-ক্ষমতাই নেই। নিয়োগে প্রতিযোগিতা না থাকার অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষিকা নির্বাচনী কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নির্মাণ ও নিয়োগে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় সরকারের সফলতা দৃশ্যমান। অথচ ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি দ্বারা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই জনবল হ্রাস করেনি, ব্যয় সাশ্রয় করেনি। বরং বাজেট বৃদ্ধিতে ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন অসংগতিপূর্ণ। চাহিদা নির্ধারণ ও এর বিপরীতে ব্যয় প্রাক্কলন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। ক্রয় ও নির্মাণ ঠিকাদার নিয়োগ বিতর্কিত। এমনকি উপাচার্য নিয়োগেও ঠিকাদারদের ভূমিকা থাকে! ঠিকাদাররা যথেষ্ট প্রভাবশালী। তাদের ক্ষমতার উৎস স্থানীয় নেতাকর্মী। শিক্ষার্থীদের নেতা-নেত্রীরা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের দলীয় শিক্ষকরাও। তা ছাড়া ওপরের পর্যায়ে সংযোগও শক্ত। এসব স্বার্থসংশ্লিষ্টরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এদের নিয়ন্ত্রণে। উপাচার্য এদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত উপাচার্যকে এরাই সুরক্ষা দেয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জবাবদিহির আওতায় নেই। এখন উপাচার্য হওয়ার জন্য অনেকেই চাকরির শুরুতেই গ্রুপিং, লবিং, এমনকি অর্থও ব্যয় করেন। জ্ঞান অর্জন করেন না। কারণ জ্ঞান অর্জন উপাচার্য হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমন অবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-প্রজনন ক্ষমতা হারাতে বাধ্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৪৫টি এবং বেসরকারি ১০৩টি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রতিযোগিতাহীন। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য এবং অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ বাণিজ্য হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এমন অবস্থা বৃদ্ধির নিয়ামক কি না, তা নিয়ে ভোক্তারা উদ্বিগ্ন।

জাতীয়করণ করায় রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন সরকারি হলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার মান উন্নয়ন হয়নি। এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজগুলোর নির্মাণ ব্যয় এবং পরিচালনা ব্যয় এখন সরকারই বহন করে। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো একসময় সরকারি হয়। নতুন করে কোনো সরকারি স্কুল-কলেজ করা হয় না। প্রস্তাবিত বাজেটে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য হয়। ফলে শিক্ষা ও শিক্ষকের মান উন্নত নয় না। মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষারও সম্প্রসারণ হয়। এসব স্তর পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসনদ লাভ করলেও তারা মানসম্মত শিক্ষা পায় না। ফলে মানহীন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে ব্যক্তি খাতেও অর্থ খরচ করে প্রাইভেট শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। তাই বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ভোক্তার শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধি ও মানহীন শিক্ষা সম্প্রসারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে শিক্ষা খাতে এমন বাজেট বরাদ্দ ও ব্যয় বৃদ্ধি ভোক্তাকে ভাবায়।

গত এক দশকে সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর হার, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, তদুপরি শিক্ষিত জনসংখ্যা বেড়েছে। এ জন্য প্রতি বছর বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। কিন্তু শিক্ষার মান নিম্নমুখী হওয়ায় এ বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হচ্ছে না। প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল ভিত্তি নিয়ে আসে। সমীক্ষায় দেখা যায়, পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে গণিতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২০১১ সালে ছিল ৩২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশও কাক্সিক্ষত মানের দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। উচ্চমাধ্যমিকের পরও মৌলিক বিষয়ে দুর্বলতা থাকায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা ১০ শতাংশও পাস মার্ক পায় না। শিক্ষার এমন নিম্নমানের জনবল শ্রমবাজারে অচল এবং এই জনবলের সম্পদে পরিণত হওয়া দুরূহ। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ এখানেই। দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষার মানের দিক দিয়ে আমরা সবার পেছনে। এমনকি নেপালেরও। শিক্ষার মান অনেকটাই নির্ভর করে শিক্ষকের যোগ্যতার ওপর। এখানেই আমরা বড় বেশি বিপদে আছি। বাস্তবে দেখা যায়, সরকারি বিনিয়োগে মানহীন শিক্ষার সম্প্রসারণ শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। শিক্ষায় প্রস্তাবিত বাজেট তারই ধারাবাহিকতা।

স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে সরকারের সফলতা হাসপাতালগুলো দেখলেই বোঝা যায়। তবে ভোক্তা নিত্যদিন যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে, তাতে ভোক্তা এই উন্নয়নের সুফল কতটা পায়Ñ এমন প্রশ্ন ভোক্তাকে ভাবায়। গ্রামীণ জনসাধারণ উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পায়। কোনো এক উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখা যায়, সেখানে ৩১ বেডের হাসপাতাল আছে। অথচ রোগী ভর্তি আছে মাত্র তিনজন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অপারেশন থিয়েটার বন্ধ। কারণ অপারেশন করার মতো রোগী নেই। ডাক্তার আছে ২১ জন। কর্মরত ১০ জন। দিবসে বহির্বিভাগে কিছু রোগী আসে। তাদের দেখার জন্য ১০ জন ডাক্তার লাগে না। মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে চায় না। চিকিৎসা নেয় ডাক্তারের বাসায় কিংবা তার প্রাইভেট চেম্বার/ক্লিনিকে। সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্য চিকিৎসায় ভোক্তার আস্থা নেই। সেখানে তারা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হয়। রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের বড় হাসপাতালগুলোও অনুরূপ অনাস্থার শিকার। বিত্তবান তো বটেই, এমনকি নিম্নমধ্যবিত্তরাও চিকিৎসা নিতে বিদেশে যায়। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় হরহামেশাই যায়। ভারতে তো কথায় নেই। মন্ত্রী হার্টে রিং পরানোর মতো অপারেশন করাতেও বিদেশে যান। চেকআপে রাষ্ট্রপতিকেও বিদেশে যেতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে একদিকে বাজেট বাড়ছে, অন্যদিকে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশেও চিকিৎসা ব্যবসার সম্প্রসারণ হচ্ছে। এ ব্যবসায় দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে মনে হয়, ভবিষ্যতে কেবল স্বাস্থ্যসেবার বাজারই নয়, লাভজনক সব পণ্য ও সেবার বাজার বিদেশি উদ্যোক্তাদের দখলে যাবে। দেশি উদ্যোক্তারা বাজার হারাবে। তাহলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধির তাৎপর্য কী? ভোক্তার কাছে এমন প্রশ্নের উত্তর, শিক্ষার মতোই সরকারি বিনিয়োগে মানহীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ দ্বারা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যে পরিণত করার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কী, সেই ক্ষেত্র তৈরিরই ধারাবাহিকতা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে দক্ষ ও সক্ষম জনসম্পদ তৈরি হয়। ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে আর্থিক প্রবৃদ্ধিও বৃদ্ধি পায়। এ বৃদ্ধি আবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে। এভাবেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রবৃদ্ধি চক্রাকারে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। তাতে একদিকে জাতি দক্ষ ও সুস্বাস্থ্য সম্পন্ন জনসম্পদে সমৃদ্ধ হয়, অন্যদিকে এই সম্পদের প্রবৃদ্ধি নানামুখী উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির সঙ্গে আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারি বিনিয়োগের যোগসূত্রটি মেলানো যাচ্ছে না। ফলে এ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

শ্রমবাজারে এখন স্বল্পশিক্ষিতদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান খুবই সীমিত। উচ্চ প্রবৃদ্ধি আমাদের শ্রমবাজারের গুণগত পরিবর্তন আনতে পারেনি। আবার বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং সরবরাহে নানামুখী পরিবর্তন আসছে। এমন পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশ সম্পৃক্ত শ্রমবাজার উপযোগী শ্রমশক্তি উৎপাদনে আমরা সফল হইনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারি বিনিয়োগ কাজে আসেনি। রাজস্ব আহরণ এবং বাজেটে তার বিলি-বণ্টনে সে লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব পায়নি। উন্নয়ন নীতি ও কৌশল সে লক্ষ্যে গৃহীত না হওয়ায় বাজেট গতানুগতিক ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপযোগী হতেও পারেনি। ফলে শ্রমবাজার উপযোগী শ্রমশক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সংস্কার কার্যক্রম গৃহীত হতে হবে এবং তাতে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকতে হবে। সে লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন নীতি ও কৌশল গৃহীত হতে হবে। তাহলে বাজেটে বরাদ্দ ও বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে একদিকে বাজেট বাড়ছে, অন্যদিকে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি দেশেও চিকিৎসা ব্যবসার সম্প্রসারণ হচ্ছে। এ ব্যবসায় দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে মনে হয়, ভবিষ্যতে কেবল স্বাস্থ্যসেবার বাজারই নয়, লাভজনক সব পণ্য ও সেবার বাজার বিদেশি উদ্যোক্তাদের দখলে যাবে। দেশি উদ্যোক্তারা বাজার হারাবে। তাহলে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধির তাৎপর্য কী? ভোক্তার কাছে এমন প্রশ্নের উত্তর, শিক্ষার মতোই সরকারি বিনিয়োগে মানহীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ দ্বারা স্বাস্থ্যসেবাকে বাণিজ্যে পরিণত করার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সেই ক্ষেত্র তৈরিরই ধারাবাহিকতা

লেখক

অধ্যাপক ও ডিন প্রকৌশল অনুষদ

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (উপদেষ্টা, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত