ফুটবল কিংবা ক্রিকেটে দল সফল হলে বড় বাহবা পেয়ে থাকেন সেই দলের কোচরা। ফুটবলে অবশ্য কোচরা একটু বেশিই কৃতিত্ব পান। ব্যর্থ হলেও প্রাপ্য পেয়ে যান সাথে সাথে। ক্রিকেটেও কোচের গুরুত্ব কম নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল দারুণ সময় পার করছে। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড সফরে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে স্টিভ রোডসের বাংলাদেশ। বিশ্বকাপেও দারুণ খেলে টিকে আছে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে। কিন্তু এর মাঝেও কিনা বিদায়ের সুর শুনতে পাচ্ছেন স্টিভ রোডস।
বেশ কিছুদিন ধরেই চাপা গুঞ্জন হয়ে ক্রিকেট মহলে বিরাজ করছিল বিষয়টি। তবে গেল দুই দিন একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশ হওয়ায়, বিষয়টা এখন আর চাপ নয়। কাউন্টি দল উস্টারশায়ারের সাবেক কোচ রোডস বিদায় নিচ্ছেন, এমনকি তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, এ নিয়েও এখন আলোচনা।
২০১৭ সালের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের কোচের পদ ছেড়েছিলেন শ্রীলঙ্কান চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এরপর গেল বছর জুন মাসে প্রায় ২৩ হাজার ডলার বেতনে রোডসকে নিয়োগ দেয় বিসিবি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের যুগে জাতীয় দলের কোচ খুঁজে পাওয়া বড় দায়। বিসিবিকেও তাই কোচ একজন কোচ খুঁজে পেতে বেশ কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে।
কিন্তু বছর না ঘুরতেই ইংল্যান্ডের হয়ে ১১টি টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডে খেলা রোডসের কোচিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন বোর্ড কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক ক্রিকেটারদের মধ্যেও। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়, এসব সাফল্যে রোডসের তেমন অবদানও দেখেন না কেউ।
রোডসের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু অত দূর নয়, এমনও হতে পরে এই বিশ্বকাপের পরই হয়তো বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে সুপরিচিত রোডসের।
বাংলাদেশের কোচের পদ ছেড়ে নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেন হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশ কোচ থাকা কালে তার পরিচিতি ছিল কড়া ‘হেড মাস্টার’ হিসেবে। শক্ত হাতে দল পরিচালনা করতেন হাথুরুসিংহে। যে গুনটা নাকি রোডসের মধ্যে নেই।
ব্যাপারটা অবশ্য অন্যরকমও লাগতে পারে। কড়া ‘হেড মাস্টার’ চরিত্র আর সব ক্ষমতা নিজ দখলে পেতে চাইতেন বলে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাথুরুসিংহের মনোমালিন্য তৈরি হয়। বিষয়টা এমন ভাবে প্রচারিত হয়েছে যে, সাধারণ দর্শকদেরও তা জানা। কিন্তু এখন রোডসের মধ্যে হাথুরুর গুন নেই বলেই সবার আস্থা হারিয়েছেন তিনি।
তা ছাড়া টেকনিক্যাল বিষয়েও রোডসের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। টিম মিটিংয়ে ব্রিফই নাকি করতে পারেন না। সেই আয়ারল্যান্ড সফরেই তাই রোডসের শেষ দেখে ফেলেছেন অনেকে।
এমনকি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে রোডসের পরিবর্তে কে আসবেন, সেই ভাবনায় দুটি নামও ওঠে আসছে। নতুন কেউ নন। দুজনই টাইগারদের সাবেক কোচ- চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও জেমি সিডন্স।
তাহলে বাংলাদেশ কি ফিরে যাচ্ছে হাথুরুসিংহে বা সিডন্স যুগে? নাকি রোডস নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে থেকে যাবেন টাইগারদের সঙ্গে। এসব উত্তর জানতে আপাতত অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে।
