‘পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে’

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ০২:৫৮ এএম

বরগুনায় প্রকাশ্যে সড়কে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা রিফাত শরীফকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা দুলাল শরীফ। তিনি তার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তার মতো আরও অনেক বাবার কোল খালি হবে এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামের বাসিন্দা দুলাল শরীফ। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের বাড়িতে বসে দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন শোকবিহ্বল রিফাতের বাবা।       

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু প্রশাসনের কাছে অনুরোধ যাতে হত্যাকারীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। আমার আর কিছুই চাওয়ার নাই, শুধু আমি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে (২৩) তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক। রিফাতকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই বিকেল ৪টার দিকে রিফাতের মৃত্যু হয়। নয়ন বন্ড নামে এক যুবক ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে রিফাতকে। পরে সেখানে উপস্থিত বহু পথচারীর সামনে দিয়েই হেঁটে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে তারা।

দুলাল শরীফ বলেন, ‘সকালে বাসা থেকে পাঁচশ টাকা নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছিল রিফাত। বলেছিল স্ত্রীকে নিয়ে কলেজে যাবে। কিন্তু কখনো বুঝতে পারিনি এই যাওয়াই ওর শেষ যাওয়া হবে।’

সকালে একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সকাল ৯টায় আমার ফোনে তিনবার রিং বাজলেও আমি টের পাইনি। সকাল ১০টার পরে আমি ঘুম থেকে উঠেছি। রিফাতের চাচা শ্বশুরের ফোন পেয়ে হতবিহ্বল হয়ে যাই। তড়িঘড়ি করে একটা মোটরসাইকেল নিয়ে হাসপাতালে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি অ্যাম্বুলেন্স তাকে (রিফাত) নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। আমি দরজা খোলার পর বাবার চেহারাটা দেখার পর মনে করেছি আল্লাহ জানি কী...।’ এ কথা আর শেষ না করেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দুলাল শরীফ।

পরে কিছুটা ধাতস্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘তারপর বলি আমি যেতে পারব না। আমার যেহেতু হার্টের সমস্যা, ডাক্তার আমাকে নিষেধ করেছেন জানাজায় পর্যন্ত না যেতে, মৃত্যু সংবাদও যেন আমাকে কেউ না বলে। তাই আমি রয়ে গেছি। ওই অবস্থায় তাকে হাসপাতালে (বরিশালে) নিয়ে গেছে। এর পরের ঘটনা তো সবাই জানে।’

রিফাতকে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে তার বাবা আরও বলেন, ‘হাসপাতালে যাওয়ার পর লোকমুখে শুনেছি ওরা (হামলাকারীরা) ওখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল। তা না হলে তাদের হাতে রাম দা কেন থাকবে?। আমি মনে করি, তারা জানত সে কলেজে যাবে।’

ছেলে হত্যার দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে দুলাল শরীফ বলেন, ‘নয়ন বন্ড একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ পুলিশের কাছে ধরা খেয়ে এর আগে এই ছেলে একবার জেলও খেটেছিল। কিন্তু কী এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এরা আবার বাইরে বের হয়ে আসে তা বলতে পারি না। এরা বাইরে থাকলে আরও অনেক বাবার কোল আমার মতো খালি হবে। তাই এইসব মাদক ব্যবসায়ীদের যাতে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত