নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কায়েতপাড়া সংরক্ষিত ইউপি সদস্য ইউপি সদস্য ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি বিউটি আক্তার কুট্টি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেন ওরফে স্বপনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে চনপাড়া বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নেওয়া হলে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে এলাকার এনায়েত হোসেনের ছেলে।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, আদালতে সাদ্দাম স্বীকার করেছে যে, ২ বছর আগে এলাকায় বাবুল স্টোর নামের একটি দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে কূট্টি মেম্বারের সঙ্গে সাদ্দামের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ওই দোকান ভেঙে দেয় কূট্টি মেম্বার। এর পর থেকেই কূট্টির ওপর জিদ ছিল সাদ্দামের। এছাড়া এলাকায় মাদক ও আধিপত্য বিস্তারসহ দোকান ইস্যুতে প্রতিশোধের কারণেই বুধবার ভোরে সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন মিলে ওই হত্যাকা- ঘটিয়েছে।
গত বুধবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় বিউটি আক্তার কুট্টিকে হত্যা করা হয়। বিউটি উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকার মৃত হাসান মুহুরীর স্ত্রী। প্রায় ৮ মাস আগে এক সংঘর্ষে খুন হন বিউটির স্বামী হাসান মুহুরি। পরিবারের দাবি, স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশের সঙ্গে বিরোধের জের ও স্বামী হত্যার মামলার বাদী হওয়ার কারণেই বিউটিকে খুন করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানায় পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, বুধবার রাতে নিহত কুট্টির মেয়ে পারভীন আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনকে নামীয় ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আসামিরা হলোÑ স্বপন, জয়নাল, শমশের, জামাল, খলিল, রবিন, আনোয়ার, কুদ্দুস, রাজা, সিটি শাহীন ও খাজা। এদের মধ্যে কয়েকজন কুট্টির স্বামী হাসান মুহুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি।
গতকাল বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে শায়িত করা হয়েছে। বর্তমানে চনপাড়া এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।
