ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারতীয় পেস বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি উইন্ডিজ। তাই ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়েছে তাদের। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ২৬৮ রান করেছিল ভারত। জবাবে ৩৪.২ ওভারে মাত্র ১৪৩ রানে অল আউট হয় উইন্ডিজ।
শুরুতেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মোহাম্মদ শামি। ক্যারিবিয়ান ওপেনার ক্রিস গেইল মাত্র ৬ রান করে আউট হন। এরপর ইনফর্ম শেই হোপের উইকেট তুলে নেন শামি। তৃতীয় উইকেটে ৫৫ রান যোগ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সুনীল অ্যামব্রিস এবং নিকোলাস পুরান। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়ার বলে অ্যামব্রিস আউট হলে উইন্ডিজের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা শেষ হয়। এরপর ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা আসা-যাওয়া করেছেন। যশপ্রিত বুমরাহর তোপের মুখে কেউ উইকেটে থিতু হতে পারেননি। শিমরন হেটমায়ার, জেসন হোল্ডার এবং কার্লোস ব্রাফেটসহ সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ৩৫ ওভারের আগেই উইন্ডিজের ইনিংস শেষ হয়।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারতের পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত বল করেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা। কিন্তু উইকেটকিপার শেই হোপের একটা ভুলেই বুঝি ভারতের রান ৭ উইকেটে ২৬৮ পর্যন্ত যেতে পারল। যে মহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যক্তিগত ৮ রানে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফেরার কথা সেই তিনি অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালন করে ৫৬ রানে অপরাজিত। বিরাট কোহলির (৭২) সঙ্গে ৪০ রানের পার্টনারশিপ। যেটা শুরুতে ভাঙার কথা। এরপর মহাবিপদ মাথায় নিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার (৪৬) সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে মহামূল্যবান ৭০ রান নিয়েছেন ধোনি। দুর্বল টেলএন্ডারদের নিয়েও ব্যাট হাতে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মতো একটা সংগ্রহ গড়ে দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক।
৩৩.১ ওভার। ৪ উইকেটে ১৫৪ ভারতের। বাঁহাতি স্পিনার ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের বলের টার্ন মিস করলেন ধোনি। খেলতে গিয়ে সেই মিসে বেশ খানিকটা সামনে চলে গেলেন। যেকোনো উইকেটকিপারের জন্য এর চেয়ে সহজ স্টাম্পিংয়ের সুযোগ আর হতে পারে না। ডানে পড়া বল নিয়ে স্টাম্প ভাঙতে গিয়ে তা ফেলে দিলেন হোপ। ধোনি হাল ছেড়ে দিয়ে দেখছিলেন। কিন্তু যেই না মিস করতে দেখলেন, তখনই নিজের সীমানায় যেতে চাইলেন। তখনো সুযোগ ছিল। সামান্য সামনে পড়া বল ধরে স্টাম্প ভাঙতে গিয়ে আবার মিস হয় হোপের। এ সুযোগে ধোনি একটা বাই নিতে চাইলেন। এবার নন স্ট্রাইকিং এন্ডে সরাসরি থ্রোতে উইকেট ভাঙলেও হয়। হোপ বল ছুড়লেন। কিন্তু নিশানা মিস করলেন। বিস্ময়ে বিমূঢ় পুরো ক্যারিবিয়ান দল এবং তাদের সমর্থকরা।
ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন অধিনায়ক কোহলি। কিন্তু ৩ উইকেট নেওয়া কেমার রোচ এদিন দারুণ নিয়ন্ত্রিত। বাকি বোলাররাও। বিপজ্জনক রোহিত শর্মাকে (১৮) সস্তায় ফেরান রোচ। যদিও রিভিউতে দেওয়া ওই আউট নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। লোকেশ রাহুলের (৪৮) সঙ্গে কোহলি ৬৯ রানের জুটি গড়েছেন। লড়ছিলেন তারা। অধিনায়ক জেসন হোল্ডার প্রথম দুই ওভারে রান দেননি। রাহুলকে আউট করেছেন হোল্ডারই। রোচ পরপর দুই ওভারে বিজয় শঙ্কর (১৪) ও কেদার যাদবকে (৭) তুলে নিলেন।
২৯তম ওভারে ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে ভারত। ভারতের শেষ বড় আশা কোহলি-ধোনি জুটি এবং কিছুক্ষণের মধ্যে হোপের ওই কাণ্ড। বেঁচে যাওয়া ধোনিকে আর ঠেকায় কে। এর মধ্যে ৪১৭ ইনিংসে তিন সংস্করণ মিলে দ্রুততম ২০ হাজার রানের রেকর্ড হয় কোহলির। ব্রায়ান লারা ও শচীন টেন্ডুলকার সমান ৪৫৩ ইনিংসে এই রেকর্ড এতদিন ধরে রেখেছিলেন।
আইপিএলের সূত্রে ভারতীয়দের সবকিছু জানেন ক্যারিবিয়ানরা। কোহলি-ধোনি সতর্ক হয়ে এগোন। ইনিংস গড়েন। টানা চার ফিফটি করে সেঞ্চুরির সুবাস পান কোহলি। কিন্তু হোল্ডারের ভুল বলকে পুল করতে গিয়ে ৩৯তম ওভারে কোহলি ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় নিজেই বিরক্ত। ৮২ বলে ৮ চারে ৭২ রান করে এসেছেন। রান তখন ১৮০। ব্যাটসম্যান বলতে কেবল আছেন হার্দিক পান্ডিয়া।
পান্ডিয়া চালিয়ে খেলতে ভালোবাসেন। খুব না চালিয়েও ৩৮ বলে মূল্যবান ৪৬ তার অবদান। ৪৯তম ওভারে ‘ভারতের ভীতি’ শেলডন কটরেলের কাছে পান্ডিয়া ও মোহাম্মদ শামিকে হারাল ভারত। শেষ ওভারের পুরোটা খেললেন ধোনি। প্রথম ও শেষ বলে ওশেন টমাসকে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। মাঝে বাউন্ডারিতে পেরিয়েছেন ফিফটি। ৬১ বলে ২ ছক্কা ও ৩ চারে ধোনি ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে সত্যিকারের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। শেষ ওভারের ১৬ লড়ার জন্য রানটাকে দিয়েছে আরও খানিকটা এগিয়ে।
