রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ০৩:৪১ এএম

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সার্বিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয় বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সে সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, ‘বরগুনায় প্রকাশ্যে হত্যাকা-ের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন কি?’

প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে কেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী তো সঙ্গে সঙ্গে কাজ করছে। এ ধরনের দুয়েকটি ঘটনা আগেও ঘটেছে। ফেনীতে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পিবিআই সাফল্যের সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তো তারা গ্রেপ্তার হতো না। রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ বসে নেই। দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ১০ বছর আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের দক্ষতায় পার্থক্য আছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক। এর সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশে পুলিশ বাহিনীতে ১০ শতাংশ নারী কোটা পূরণ করা হবে, এতে সফলতা আসবে। পরিচর্যা পেলে আমাদের নারীরা যেকোনো কিছু করতে পারে, সেটি এখন প্রমাণিত। যেসব জায়গায় নারী পুলিশ সুপার দেওয়া হয়েছে তারা নিজেদের যোগ্যতাবলে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে নীরব নারী বিপ্লব চলছে। নারীদের সামনের কাতারে না আনলে উন্নয়ন কখনো টেকসই হবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে পুলিশ বাহিনীতে ৫০ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলে সামাজিক, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তৃণমূলে এসব নারী সদস্যকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার মাহাবুবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুনাক সভাপতি হাবিবা জাবেদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নিজামীসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে ১০ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা বেগম (মরণোত্তর), এআইজি তাপতুন নাসরীন, অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা, পুলিশ সুপার মাহফুজা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহফুজা লিজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহমিদা হক শেলী, পরিদর্শক মোহাম্মদ মহসীন, এসআই জান্নাতুল ফেরদৌস ও বেতার কনস্টেবল নুসরাত জাহান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত