গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জসিম উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খাগড়াছড়ির রামগড়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
টঙ্গী : শিশুদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন। তার বাড়ি বরিশাল জেলার কর্ণকাঠি গ্রামে। সে টঙ্গীর বনমালা টেকপাড়া এলাকায় একটি মুদি দোকান চালায়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, জসিম উদ্দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এক শিশুকে ধর্ষণ করে। ওই সময় স্থানীয়রা তাকে বনমালা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জসিম জানায়, মাত্র ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন শিশুকে ভাড়াবাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। বৃহস্পতিবার ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে বনমালা থেকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। ওসি আরও জানান, তিন শিশুকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে।
কলাপাড়া : গত বুধবার উপজেলার ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই রাতেই কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে দ্রুত পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। শিশুটি জানায়, গত বুধবার শেষ বিকেলে স্থানীয় বাজারে একটি মোবাইল মেরামতের দোকান থেকে তার মায়ের মোবাইল নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে শাহীন তার মুখ চেপে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে যায়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় বাড়িতে পৌঁছায় সে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কামরুজ্জামান বলেন, ‘শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং ইনজুরি ছিল। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করি।’ উপজেলার মহিপুর থানার ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে।
রামগড় : উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুর রহমান (৪৫) নামে একজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। গত বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় হওয়া মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। অহিদুর একটি মুদির দোকান চালায়। পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন জানান, ওই নারীর বাড়ির পাশে একটি বাগান দেখাশোনা করত অহিদুর। ঘটনার রাতে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে থাকার সময় অহিদুর ঘরের জানালা দিয়ে ভেতওে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। ওই সময় গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে অহিদুরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অহিদুরকে আটক করে। এ বিষয়ে গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রামগড় থানায় একটি মামলা করেন। রামগড় থানার ওসি আবদুল হান্নান জানান, পরীক্ষার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে গৃহবধূকে। আর অহিদুরকে আদালতের মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার খাগড়াছড়ি জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
