তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে জাপানের পর এবার চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই চীন সফরে বিদ্যুৎ খাত প্রাধান্য পাবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, সফরে বিদ্যুৎ খাতে চীনের সঙ্গে চুক্তি হবে ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে)। এর মধ্যে ৬২০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে অনুদান হিসেবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ঢাকা সফর করেন। সে সময় দেশটির সঙ্গে ২৭টি প্রকল্পে ২২ বিলিয়ন (২২০০ কোটি) ডলারের ঋণ সহায়তার সমঝোতা হয় বাংলাদেশের। কিন্তু এসব প্রকল্পের বেশির ভাগেরই অর্থ ছাড়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে প্রকল্পগুলোর অর্থছাড় বাড়ানো ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন করে চুক্তি হবে। কারিগরি সহায়তা হিসেবে বেশ কিছু অর্থ অনুদান হিসেবেও মিলবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভূমিকা রাখবে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এ ছাড়া সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের আলোকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ইআরডির ওই সূত্র জানায়, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) আওতাধীন এলাকার বিদ্যুৎব্যবস্থা শক্তিশালী ও বৃদ্ধিকরণ চুক্তি, এ-সংক্রান্ত ক্রেতা অগ্রাধিকার ঋণ চুক্তি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) আওতায় পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রকল্পে ঋণ হিসেবে ১১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা পাওয়ার চুক্তি হতে পারে। চুক্তি হতে পারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রকল্পে ৬২০ কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার। এ ছাড়া বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, ইয়ালুজংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদে হাইড্রোলজিক্যাল তথ্যবিনিময় সমঝোতা স্মারক এবং সাংস্কৃতিক ও পর্যটনবিনিময় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
এ বিষয়ে ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র। চীনা ঋণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আরও নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে চীনা ঋণের ওপর নির্ভর করে। তাই প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সফরে কয়েকটি প্রকল্পের ঋণ চুক্তি হতে পারে। এ ছাড়া বেশ কিছু প্রকল্প গতি পাবে।
আগামীকাল ১ জুলাই বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন। ২ জুলাই সকালে দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফ সামার দাভোস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন তিনি। ৩ জুলাই চীনের বিশেষ বিমানযোগে দালিয়ান থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী রওনা দেবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীকে চীনের গ্রেট হলে অভ্যর্থনা জানানো হবে। অভ্যর্থনা শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, চীন সফরকালে ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান লি ঝংসুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে রোহিঙ্গা ইস্যুও।
