রাষ্ট্র এখন যেকোনো ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণে সক্ষম : জব্বার

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৯, ০৪:০৫ এএম

রাষ্ট্র এখন যেকোনো ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার শিল্পকলা একাডেমিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটি আয়োজিত ‘তারুণ্যের ভাবনায় আওয়ামী লীগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘রাষ্ট্রের এখন সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হচ্ছে রাষ্ট্র ইচ্ছে করলে যেকোনো ওয়েবসাইটকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখে। এটি আমাদের একটি বড় অর্জন, বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আমরা এই সক্ষমতা অর্জন করেছি। কারণ সেই সময় কোনো গুজব ছড়াতে পারেনি কেউ।’

ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে এরই মধ্যে ২২ হাজার পর্নোসাইট বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর পাশাপাশি বেটিং সাইটও বন্ধ করা হয়েছে। যে জায়গায় সংকট তা হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন স্ট্যাটাস দেওয়া হয় অথবা ভিডিওগুলো প্রচার করা হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, ফেইসবুক কিংবা ইউটিউব মার্কিন প্রতিষ্ঠান। তারা আমেরিকান কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে পরিচালনা করে থাকে, তাই আমরা সরাসরি তাদের হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সুখবর হলো, আশা করছি সেপ্টেম্বর মাসের পর আমরা এ ক্ষেত্রেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা অর্জন করব; অর্থাৎ কেউ ইচ্ছা করলেই ফেইসবুক, ইউটিউবে যা খুশি তা-ই প্রচার করতে পারবে না, বিশেষ করে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে সক্ষমতা অর্জন করেছে, এটা গর্ব করার বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিথ্যা ও গুজব ছড়ায় কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সমস্যা হয়ে যায়। তথ্যমন্ত্রী যদি নিবন্ধন তালিকা শেষ করেন, তাহলে আমরা অনিবন্ধিতগুলো বন্ধ করে দিতে পারব।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সবাই যদি সতর্ক থাকি তাহলে বেসিক যে নিরাপত্তা রয়েছে তা নিশ্চিত হবে।’

দেশে প্রচলিত অনলাইন নিউজপোর্টালগুলোকে দ্রুত নিবন্ধনের তাগিদ দেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সব অনলাইনকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈধ অনলাইন পত্রিকার তালিকা প্রকাশ করব।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘একবার শুনলাম ৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এরপর আবার নাকি আরও ৫ হাজার জমা পড়েছে। আমরা হয়তো আর ১ সপ্তাহ বা ১০ দিন সময় বাড়াব। কিন্তু সবাইকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বৈরিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক, কিন্তু ভারতের সঙ্গে স্বার্থ আদায়ে আমরা একচুলও ছাড় দিইনি।’

বিএনপি-জামায়াত ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সস্তা রাজনীতি করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শিকড়ের সম্পর্ক রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের শরণার্থীদের খাওয়া-দাওয়ার খরচ মেটাতে তৎকালীন ভারত সরকার ভ্যাটের পরিমাণ বাড়িয়ে আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছিল। ভারতকে হেয় প্রতিপন্ন করে সস্তা রাজনীতি করতে চায় না আওয়ামী লীগ।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে ছয়জনের রায় কার্যকর করা যায়নি। একজন বিদেশে থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেছে। বিদেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের মধ্যে দুজনের অবস্থান আমরা পরিষ্কারভাবে জানি। এর বাইরে তিনজনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলেছি, আমার সময়ের মধ্যে বা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের মধ্যে যাদের অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে তাদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা না গেলে নিজেকে ব্যর্থ মনে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত