কয়েক মাস আগে আদালতের নির্দেশে এরিকসনকে ঋণের ৫৫০ কোটি রুপি দিতে পারেননি রিলায়েন্স গ্রুপের অনিল আম্বানি। সে সময় ছোট ভাইকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন মুকেশ আম্বানি। কিন্তু ভারতের এক সময়ের ধনকুবের অনিল আম্বানি ঋণের বোঝা কমাতে এখন নিজের প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপের সদর কার্যালয় বিক্রি বা ইজারা দিতে চান। অনিল সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ মহলে এ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তথ্য আনন্দবাজারের। সেই অনুযায়ী ৭ লাখ বর্গফুটের এই কার্যালয় বিক্রি বা ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানির দুই ছেলে মুকেশ ও অনিলের মধ্যে ব্যবসা ভাগাভাগি হয় ২০০৫ সালে। ওই সময় পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ব্যালার্ড এস্টেট পান অনিল। বর্তমান কার্যালয় বিক্রি করে সদর কার্যালয় ওখানেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজের ওয়েস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়েতে অবস্থিত এই কার্যালয় বিক্রির জন্য মার্কিন সংস্থা ‘ব্ল্যাকস্টোন’-এর সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তাও এগিয়েছে। তবে কার্যালয়টি নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। সে সব কাটিয়ে বিক্রি করতে পারলে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি রুপি পাবেন অনিল। এতে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর দেনা কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮ সালে রিলায়েন্স গ্রুপ অব কোম্পানিজের মোট দেনা ছিল ১ দশমিক ৭ লাখ কোটি টাকা। আম্বানি ভাইদের ভাগাভাগি তিন-চার বছর পরেও লাভজনক ছিল অনিলের সংস্থাগুলো। ২০০৮ সালে তিনি ছিলেন বিশ্বের ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি। তখন তার সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। কিন্তু গত ১১ বছরে ধীরে ধীরে পড়তির দিকে যেতে থাকে অনিলের সংস্থাগুলো। বর্তমানে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল, রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার, রিলায়েন্স পাওয়ার, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের মতো প্রায় সব সংস্থা ঋণের দায়ে ধুঁকছে।
