গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৫২ মিনিট। সামনে ও পেছনে পুলিশের গাড়ি থাকা একটি প্রাইভেট কার শাহবাগ থানায় প্রবেশ করে। কার থেকে নামেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আলোচিত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। সোজা তাকে নেওয়া হয় থানার ওসি আবুল হাসানের কক্ষে। কক্ষটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি)। তারপর আর ওই কক্ষ থেকে বের করা হয়নি মিজানকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং মামলায় গতকাল উচ্চতর আদালতে জামিন নিতে যান মিজানুর রহমান। জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয় আদালত। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কড়া পুলিশ প্রহরায় শাহবাগ থানার উদ্দেশে রওনা দেয় তিনটি গাড়ি। ৫টা ৫২ মিনিটে গাড়িগুলো থানায় প্রবেশ করে। একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-১৭২২) থেকে ডিআইজি মিজানকে নামানো হয়। এ সময় ভিড় জমান গণমাধ্যমের কর্মীরা। কারও সঙ্গে কথা না বলার সুযোগ দিয়ে সরাসরি তাকে নেওয়া হয় ওসির কক্ষে। তিনি সেখানে প্রবেশের পরপরই এসি চালু করে দেওয়া হয়। কক্ষের বাঁ পাশের সোফায় বসে পড়েন মিজান। পানি খেতে চাইলে পুলিশের এক সদস্য তাকে পানি এনে দেন। কিছু নাশতাও খান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কনস্টেবল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিআইজি মিজান স্যারকে থানায় আনার আগে ওসি স্যারের কক্ষে এসি বন্ধ ছিল। তিনি আসার পরপরই এসি চালু করা হয়। তাকে কক্ষে নেওয়ার পর সোফায় কিছুক্ষণ বসা ছিলেন। পরে তিনি বাথরুমে যান। তাকে তেমন একটা চিন্তিত মনে হয়নি। শুধু কয়েকবার বলছিলেন, আইনজীবীর কথায় তিনি জামিন নিতে আদালতে গিয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, আদালত জামিন দেবে। তা ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীরাও একটু বাড়াবাড়ি করেছে। এ সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা ডিআইজি স্যারকে উদ্দেশ করে বলেন, “স্যার, আপনি আত্মসমর্পণ করলেই ভালো হতো।” এ সময় তিনি কোনো কথা বলেননি। পরে তাকে নাশতা দেওয়া হয়। নাশতা খাওয়ার পর বাসা থেকে ওষুধ আনা হয়। মনে হয় তাকে ওসি স্যারের কক্ষেই রাখা হবে। আর যদি অন্য কোথাও রাখে তাহলে ইন্সপেক্টর তদন্তের কক্ষেও রাখতে পারে। বড় স্যারেরা বলছিল, ওসির রুমে রাখাই ভালো। আগামীকাল সকালে তাকে আদালতে নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, রাতে মিজানুর রহমানকে শাহবাগ থানায় রাখা হবে। (আজ) মঙ্গলবার সকালে তাকে নিম্ন আদালতে হাজির করা হবে। আদালত যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবেই পালন করা হবে। মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
