মনে পড়ে যায় মোস্তাফিজের অভিষেক

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ০১:৫১ এএম

সেটা ২০১৫ সাল। বিশ্বকাপের পরেই বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ভারত। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। পূর্ণ শক্তির দল। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান এবং বিরাট কোহলিরা যে দলে ছিলেন। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে তখন কেউ চিনত না। প্রথম ম্যাচের পরেই চিনতে শুরু করেছিল

ক্রিকেট দুনিয়া। ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। তার কাটার সেদিন বুঝতেই পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। একে একে তার বলে আউট হয়েছিলেন রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অভিষেক ম্যাচে ৯.২ ওভার বল করে ৫০ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ জিতেছিল ৭৯ রানে। পরের ম্যাচে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। জীবনের প্রথম দুই ম্যাচে ১১ উইকেট। কোনো পেসারের অভিষেকে এমন প্রাপ্তি এখনো রেকর্ড হয়ে টিকে আছে। তিন ম্যাচের সেই সিরিজে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। অভিষেক সিরিজে যা বেশি উইকেটের রেকর্ড।

এজবাস্টনে গতকাল ভারতের বিপক্ষে আবার অভিষেকের কথাই যেন মনে করিয়ে দিলেন মোস্তাফিজ। ১০ ওভারে ৫৯ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন। এটা একদিনের ক্রিকেটে তার চতুর্থ পঞ্চম উইকেট শিকার। একমাত্র আবদুর রাজ্জাক ওয়ানডেতে চারবার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। আর কোনো বাংলাদেশি বোলারের এমন কীর্তি নেই। তবে এসব নয়, গতকাল মোস্তাফিজের পাঁচ উইকেট প্রাপ্তির মাহাত্ম্য অন্য খানে। এজবাস্টনে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং ঝড় থামিয়েছেন তিনি। হয়তো মোস্তাফিজের বলে তামিম ইকবাল ৯ রানে রোহিত শর্মার দেওয়া ক্যাচ ধরতে পারলে ভারতের ব্যাটিং ঝড় নাও উঠতে পারত। উইকেটসংখ্যাও একটা বেড়ে যেত। যা হয়নি তা বলে কী লাভ। তবে যেটা হয়েছে সেটাও কম কিছু নয়।

ভারত গতকাল ওপেনিং জুটিতে ১৮০ রান তোলে। শুরুতেই ঝড় তোলেন লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মা। বিশেষ করে রোহিত। অবিশ্বাস্যভাবে তামিম ক্যাচ ফেলার পর থেকেই মারমুখী হয়ে ওঠেন তিনি। ৭টি বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ৯২ বলে ১০৪ করে থামেন তিনি। সৌম্য সরকারের বলে আউট হন। তখন ভারত এতটাই শক্ত অবস্থায় পৌঁছে গেছে যে, উইকেট পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় আছেন অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ওপেনার রাহুলের সঙ্গে উইকেটে তখন বিরাট কোহলি। দ্বিতীয় উইকেটের জুটি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি রুবেল হোসেন। তবে বল হাতে নিয়ে কাজের কাজটি করেন মোস্তাফিজ। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই ফিরিয়ে দেন কোহলিকে। সেই ওভারেই আউট করেন হার্দিক পান্ডিয়াকে। এক ওভারে দুই উইকেটে নিয়ে খেলার গতিই পাল্টে দেন। ৩৯তম ওভার থেকেই শুরু হয় ভারতের রানের গতি কমা। এরপর সøগ ওভারে বল হাতে নিয়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি, দিনেশ কার্তিক ও মোহাম্মদ শামিকে আউট করেন মোস্তাফিজ। ফলে যে ভারত সাড়ে তিনশো রানের টার্গেট নিয়ে খেলছিল তাদের স্কোর নেমে আসে ৩১৪-তে। মোস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কারণেই শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৩ রান তুলতে পারে ভারত। যাদের শেষ ৭ উইকেটের ৫টি নিয়েছেন কাটার মাস্টার। হাত খুলে খেলতে থাকা ঋষভ পান্তকে আউট করেন শুধু সাকিব আল হাসান। ভুবনেশ্বর কুমারকে রান আউটও করেন মোস্তাফিজ। এজবাস্টনে তিনি না থাকলে বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারত না বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত