দুর্ভাগ্য আমাদের

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:১২ এএম

৩১৫ রান করে জিততে পার্টনারশিপ খুব জরুরি ছিল। একজনের একটা বড় ইনিংস খেলার দরকার ছিল। আগের দিন লিখেছিলাম, এক্সট্রা অর্ডিনারি একটা ইনিংস এই ম্যাচে লাগবে যেটা হতে হবে হাই স্ট্রাইক রেটে। ব্যাটসম্যান সবাই কিন্তু সেট হয়েছে। দেখুন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসানকে। সাকিব আরেকটা ফিফটি করেছে। অসাধারণ খেলছিল। এরপর মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, সাব্বির রহমান কিংবা সাইফউদ্দিনের সবাই ভালো ব্যাট করেছে। কিন্তু ফিনিশিং দিতে পারল না কেউ।

উইকেট একটু কঠিন ছিল। এজবাস্টনের এই উইকেটে প্রথম ইনিংসে যতটা সহজে ব্যাট করা যায় দ্বিতীয় ইনিংসে তা ততটাই কঠিন হয়ে যায়। সাকিব চমৎকার বল করেছিল। দুই দল একজন করে স্পিনার ড্রপ করেছিল। কিন্তু এই উইকেট ছিল স্পিনসহায়ক। পেসারদের সেøায়ারের ওপর নির্ভর করে বল করতে হয়েছে। সাফল্য পেয়েছে। আমার মনে হয়, আরেকজন স্পিনার থাকলে মানে মেহেদী হাসান মিরাজকে ড্রপ না করা হলে ভিন্ন বলের খেলাও হতে পারত।

এমন আসরের সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে খেলার আশা করলে এমন রান আমাদের তাড়া করে জিততে হবে। দারুণ এক পরিস্থিতিতে সুযোগটা আমরা মিস করে ফেলেছি। আবারও বলছি, উইকেট একটু কঠিন ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। বল নিচে থাকছিল। বল গ্রিপ হচ্ছিল। সৌম্য সরকারের আউট দেখলে দেখবেন বল ধীরে এসেছে। সাকিবও সেøায়ারে আউট হয়েছে। তামিমের আউটের বলটা নিচু হয়ে গিয়েছিল। ইনসাইড এজে বোল্ড হয়েছে।

কিন্তু আমি বলব আসলে সবাই আনলাকি। সবাই সেট হয়েছে। কেউ একটা বড় ইনিংস যদি খেলত! মুশফিক, লিটন, সৌম্যরা সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারছে না। এটা সমস্যা। টিমের লাভ হচ্ছে না। সব মিলে সত্যি বলতে এই ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল। জিতলে খুব ভালো লাগত। ২৮ রানে হারলেও এ ম্যাচটা বাংলাদেশরই ছিল।

যেভাবে ভারতের ওপেনিং পার্টনারশিপ হয়েছিল তাতে মনে হয়েছিল ৩৫০-এর বেশি করবে ওরা। সেখান থেকে আমরা যেভাবে কামব্যাক করেছিলাম, ৩১৪-তে ওদের বেঁধে রাখতে পেরেছিলাম তাতে দিনশেষে ম্যাচটা আমাদের হওয়া উচিত ছিল। আমাদের ওপেনিং ভালো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যান ক্যারি করতে পারেনি। বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। এরকম ম্যাচে জিততে হলে একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি ইনিংস লাগেই। একজনকে সেঞ্চুরি করতে হয়। আর দুয়েকটা ফিফটি। সঙ্গে ২০ বলে ৪০-৫০ রানের কোনো ক্যামিও ইনিংস। এর পুরোটাই মিসিং ছিল বাংলাদেশের ইনিংসে। ভালো শুরুর পরও বড় ইনিংস খেলা হয়নি কারও। এটাই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের।

উইকেট যেহেতু ব্যবহৃত ছিল তাই আমার মনে হয়েছে এটা স্পিনারদের। যদিও দুই দল একজন করে স্পিনারকে ড্রপ করে বাড়তি সিমার খেলিয়েছে। ভারত একজন স্পিনার ড্রপ করায় তা আমাদের জন্য সুবিধার ছিল। আর আমার বিশ্বাস ছিল ওরা যে রানটা করেছিল তা তাড়া করে আমাদের পক্ষে জেতা সম্ভব ছিল। কারণ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই বিশ্বকাপেই ৪২ ওভারের মধ্যে আমরা ৩২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছি। ভারতীয় বোলিং অ্যাটাক ক্যারিবিয়ানদের চেয়ে কিছুটা ভালো। কিন্তু আমাদের শুরুটা ভালো হলে ওই রান তাড়া করে জেতা সম্ভব ছিল।

৩০ ওভারে ভারত ১৮০ রান করেছিল। কোনো উইকেট না হারিয়ে। সেখান থেকে তাদের ৩১৪ রানে আটকে রাখার কৃতিত্ব অনেক বড়। এই কৃতিত্ব বোলারদের দিতে হবে। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছে। সাকিব দুর্দান্তবল করেছে। ম্যাচটায় অসাধারণ বল করেছে মোস্তাফিজুর রহমানও। একজন বোলারের কাছ থেকে এমন কিছু আমাদের দরকার ছিল। এই দলের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে দুর্দান্ত মোস্তাফিজ। আরও একবার চমৎকার বল করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদের জন্য জয়টা এলো না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত