আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এখন কার্যত প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জোট নেতারাই বলছেন এমন কথা। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, জোটের বৈঠক হয় ঠিকই, পরামর্শও দেওয়া-নেওয়া হয়, কিন্তু আমলে নেওয়া হয় না। ১৪ দলীয় জোটের নেতারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, মূলত আওয়ামী লীগ এবার ক্ষমতায় আসার পর জোটটি প্রায় অকার্যকর, একরকম নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে সভা হলেও সেখানে মূলত খোশগল্প, চা-নাশতা খাওয়া এসবই হয়।
তারা জানান, গত মঙ্গলবারও জোটের বৈঠক হয়েছে। সেখানেও খোশগল্প, চা-নাশতা খাওয়া হয়েছে। ফাঁকে সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে শরিক দলগুলো থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীনদের। তবে সেগুলোও ফলপ্রসূ হবে না আগের মতোই। কারণ, বৈঠকে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা থাকেনও না। ফলে পরামর্শগুলোও পৌঁছায় না ‘যথাযথ জায়গায়’।
তারা আরও জানান, বারবার চাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘদিন বৈঠক হয়নি জোটের। ফলে পরামর্শ পৌঁছাচ্ছে না তার কাছে। নানা উপলক্ষে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেও জোটের সঙ্গে ‘মিন’ করে বসা হয়নি দীর্ঘদিন। যদিও তারা বিভিন্ন সময়ে বৈঠক হওয়া জরুরি বলে অভিমত দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে শরিক দলের তিন নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, খোশগল্প হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই তিন নেতা আরও বলেন, সমাজে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে সেজন্য সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধের পরামর্শ দিয়েছি। তারা বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো যাবে না বলে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান না হলে বড় ধরনের অশান্তি ও সংকটের মুখোমুখি পড়তে হবে সরকারকেÑ সে সম্পর্কে অবহিত করেছি। তাদের একজন বলেন, ‘আমরা জানি, এর কোনোটিই বাস্তবায়ন হবে না। তবুও আমাদের পরামর্শ আমরা দিয়েছি।’
শরিক দলের নেতারা জানান, বিভিন্ন ইস্যুতে আগেও সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। শরিক দলের এক নেতা বলেন, ‘আমাদের সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমেরও কোনো কাজ নেই। তাই মিটিং-সিটিং করে সময় কাটানো হয়।’ তিনি বলেন, ‘মিটিংগুলো খেয়াল করলে দেখবেন, এখানে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাও উপস্থিত থাকেন না। জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও আসতে চান না মিটিংয়ে। এসব নানা কারণে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে জোটের কার্যক্রম।’
জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ১৪ দলীয় জোট অনেকটা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। তবুও বিভিন্ন সময় বৈঠক হয়; আলোচনা হয়। আমরা পরামর্শ তুলে ধরি। কিন্তু সেসব পরামর্শ চাপা পড়ে থাকে। কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ১৪ দলীয় জোট।’
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম দেশ রূপান্তরকে পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কারা বলে ১৪ দল অচল? আমাকে নাম বলেন। ১৪ দল সচল আছে। এগুলো মিডিয়ার কথা।’
জোট শরিক জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। এর গুরুত্বও এক সময়ে ছিল। কিন্তু এখন জোটের গুরুত্ব নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে মিটিং-সিটিং হয়। এখানে মূলত খোশগল্প হয়। ১৪ দলের বিভিন্ন নেতা কিছু বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেন ঠিকই, তবে তার কোনো সুফল আসে না। আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, জোটের সম্পর্ক অটুট আছে। তবে রাজপথে বিএনপি-জামায়াত যেহেতু সক্রিয় নয় তাই ১৪ দলীয় জোটও সক্রিয় নয়। তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে নেতারা যেসব পরামর্শ দেন সরকারের সেগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে। সেগুলো হয়তো সরকারের পলিসির সঙ্গে যায় না, তাই বাস্তবায়নও হয় না।
