কিশোরের গলা কেটে ইজিবাইক ছিনতাই

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩৮ এএম

ছিনতাইকারীদের আঘাতে জখম হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কিশোর শাহীন মন্ডল। চিকিৎসকরা বলছেন, এই যাত্রায় শাহীন হয়তো বেঁচে যাবে। ফিরতে পারবে মায়ের কোলে। কিন্তু মাগুরা সদর উপজেলার মহিষাডাঙ্গা গ্রামের আল আমিনের আর ঘরে ফেরা হবে না। ছিনতাইকারীরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে ছিনিয়ে নিয়েছে এনজিওথেকে নেওয়া ঋণের টাকায় কেনা ব্যাটারিচালিত একটি নতুন ইজিবাইক। একদিন নিখোঁজ থাকার পর গতকাল বুধবার উপজেলার কুকিলা গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার গলাকাটা মরদেহ।

আল আমিনের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখনই মারা যান বাবা হোসেন আলী। এর কিছুদিন পরেই অভাবের তাড়নায় মা আরেকজনকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। শিশু আল আমিনের ঠাঁই হয় নানা লিয়াকত আলীর সংসারে। নানার অভাবের সংসারে পড়ালেখার সুযোগ পায়নি আল আমিন। ছোটবেলা থেকেই উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়েছে তাকে। ছোটখাটো নানা ধরনের কাজ করত সে। যা আয় হতো দিত নানার সংসারে। গত মে মাসে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত একটি নতুন ইজিবাইক কেনে সে। মঙ্গলবার সেটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরেনি আল আমিন। বুধবার কুকিলা গ্রামের একটি পাটক্ষেতে পাওয়া গেছে তার গলাকাটা লাশ। একটি দুর্বৃত্ত চক্র তাকে হত্যা করে ইজিবাইকটি নিয়ে গেছে।

নিহতের মামা ইলিয়াস হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সর্বশেষ তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। তখন জানিয়েছিল সদর জগদল বাজার এলাকায় আছে সে। মাগুরা শহরের একটি ভাড়া পেয়েছে। নামিয়ে দিয়েই বাড়িতে ফিরবে। পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, সকালে পাটক্ষেতের মধ্যে নিহতের গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে সদর থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ ইজিবাইকটি উদ্ধারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত