এই দিনে ৫ জুলাই

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ১০:২৯ পিএম

রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড় জেলার বোদায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আহমেদ সাদাকাতুল বারী ছিলেন শিক্ষাবিদ, তার মায়ের নাম তৈয়বন্নেসা। দিনাজপুরের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তেভাগার সংগ্রাম ও বাম আন্দোলনের ঐতিহ্যম-িত দিনাজপুরে গোপন পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং ১৯৫৪ সালে গ্রেপ্তার হয়ে আট মাস কারাভোগ করেন তিনি। ১৯৬২ সালে আইয়ুববিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদ। ছাত্র আন্দোলনে এই ভূমিকায় তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি গোপন কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য হন এবং ১৯৬৬ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নির্বাচিত হন। পার্টির নেতৃত্বে ছাত্র-আন্দোলন, নারী আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম প্রসারে মোহাম্মদ ফরহাদের মুখ্য ভূমিকা ছিল। কিন্তু এ সময় বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে বিভক্তির পর মোহাম্মদ ফরহাদ মস্কোপন্থি হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীর তরুণ নেতা হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে কমিউনিস্টদের সম্পৃক্ত হওয়ার পটভূমি তৈরিতেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়নের সম্মিলিত গেরিলা বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন ফরহাদ। স্বাধীন বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টি প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ লাভ করলে ১৯৭৩ সালে পার্টির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মোহাম্মদ ফরহাদ। বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে ফরহাদ একাধিকবার কারাবরণ করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় লড়ে মুক্তি পান। জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ১৫ দল ও ৭ দলের যুগপৎ কর্মসূচি প্রণয়ন ও আন্দোলন গড়ে তোলায় মোহাম্মদ ফরহাদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ১৫ দলীয় প্রার্থী হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালের ৭ অক্টোবর মস্কোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ ফরহাদ মৃত্যুবরণ করেন। মোহাম্মদ ফরহাদের একমাত্র প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ঊনসত্তুরের গণ-অভ্যুত্থান’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত