নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বাতলে দিলেন বিক্ষুব্ধরা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০১:২০ এএম

বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট ‘জট খোলার পথ বাতলে দিলেন’ সংগঠনটির বিক্ষুব্ধ নেতারা। তারা বলছেন, নতুন কমিটি গঠনে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবেক ছাত্রদল নেতাদের দিয়ে যে সার্চ কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন তারাই মূলত এই জট লাগিয়েছিলেন। নতুন কমিটি গঠনের ‘এই প্রক্রিয়ায়’ যে বা যারা বাধা সৃষ্টি করবেন তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা এসব কথা বলেন।

কী সেই প্রক্রিয়া জানতে তারা বলেন, ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্য থেকে একজনকে আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। আহ্বায়ক কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করে দেবে। এতে বিলুপ্ত কমিটির নেতারা যেমন সম্মানজনক বিদায় নিতে পারবেন, তেমনি বিএনপি পাবে তাদের প্রত্যাশিত ছাত্রদলের নতুন কমিটি।

ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা আরও বলেন, ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে সার্চ কমিটির নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে স্কাইপে বৈঠকে তারেক রহমান তা স্বীকারও করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কমিটি গঠনের যে প্রক্রিয়া বাতলে দেওয়া হয়েছে তা নিয়েও সার্চ কমিটি চক্রান্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। ওই আশঙ্কা সত্যি হলে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন তারা।

সার্চ কমিটির সদস্য বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য আগামী ১৫ জুলাই কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তা স্থগিত রাখা হয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের আন্দোলনের কারণ। এখন ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে কী প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়Ñ তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিক্ষুব্ধদের দেখানো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন নেতা গয়েশ^র চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিক্ষুব্ধরা একটা প্রক্রিয়া ঠিক করে দিয়েছেন। তাদের এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা এখন তার নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি জানান, বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বিকেলে গয়েশ^র যখন দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন তখন রাজধানীর নয়াপল্টনের নিজের অফিসে তার সামনে ছিলেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা।  

দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাছাকাছি সময়ে সার্চ কমিটির নেতারা গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন। বৈঠকে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সার্চ কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সমাধানে আসতে পারেননি। 

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর। তবে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিএনপির হাইকমান্ড। এমন পরিস্থিতিতে গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ ভোট না পাওয়ায় বিএনপির হাইকমান্ড ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের গুরুত্ব বুঝতে পারে। এরপরই ছাত্রদলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার অংশ হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে যারা এখন বিএনপির নেতা তাদের দিয়ে সার্চ কমিটি করে দেওয়া হয় নতুন কমিটি গঠনের জন্য। কিন্তু তারা দফায় দফায় বৈঠক করেও ব্যর্থ হন।

নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কী আলোচনা চলছে তা নিয়ে কথা হয় বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা ইখতিয়ার কবিরের সঙ্গে। গতকাল দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। তারা নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ঠিক করতে দফায় দফায় বৈঠক করে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ^র চন্দ্র রায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিক্ষুব্ধরা নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে দেন। তাতে সন্তুষ্ট হন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি কিংবা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। বিষয়টি দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য সার্চ কমিটির সদস্য ও তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি।

বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাদের তিনজনকে বাদ দিয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাকে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে।

বিলুপ্ত কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাকে দায়িত্ব দিলে বিক্ষুব্ধরা মেনে নেবে কি নাÑ জানতে চাইলে ওই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপির ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলন করেছি আমরা। এজন্য আমাদের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ১২ জনের যে কাউকে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করে দিলে সবাই তা মেনে নেবে বলে আমার বিশ^াস।’ আসাদ বলেন, ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটি যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করা হয়েছিল সে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০০ সালে এসএসসি কিংবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন। তাদের অবশ্যই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ছাত্র ও অবিবাহিত হতে হবে। বিএনপি যেভাবে ছাত্রদলের নতুন কমিটি চায় আমরাও সেভাবেই কমিটি করে দেব। এতে আমরা যেমন সম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে পারব, তেমনি বিএনপিও পাবে তাদের প্রত্যাশিত কমিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত