সার্ভার ত্রুটিতে হজ ফ্লাইটে ইমিগ্রেশন জটিলতা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০১:৪৬ এএম

এ বছরই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের পাশাপাশি সৌদি আরবের ইমিগ্রেশনের (প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন) আনুষ্ঠানিকতা হযরত শাহজালাল

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হওয়ার কথা। কিন্তু সৌদি আরবের সার্ভার নষ্ট থাকায় এই নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কোনো হজযাত্রী প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সুবিধা পাননি। সবাইকে সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছে

ইমিগ্রেশন করতে হয়েছে। এদিকে সৌদির সার্ভারে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের সার্ভার সচল ছিল। এতে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। বিমান কর্র্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের সার্ভারও ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল বিকেল থেকে সৌদি আরবের সার্ভারের কার্যক্রম অনেকটা ঠিক হয়ে এলেও পুরোপুরি সচল হয়নি। এর আগে এদিন সকালে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে। 

সৌদির সার্ভার অচল হয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সৌদি ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ থেকেই করার কথা। প্রথম দিন তাদের সার্ভার সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটা বৈশ্বিক ইস্যু। এখানে আমাদেন কারও কোনো হাত ছিল না। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি নেই। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই সৌদি আরবের সার্ভার ঠিক হয়ে যাবে।’

অন্যদিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এবারের ডেডিকেটেড ফ্লাইটে হাজির সংখ্যা ৯০ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ৭০ হাজার ৫০২ জনের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন সুবিধা শাহজালাল থেকেই নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সৌদির সার্ভার নষ্ট থাকায় প্রথম কয়েকটি ফ্লাইটের যাত্রীরা ইমিগ্রেশন করতে পারেননি। ইলেকট্রনিক বিষয়ে তো কারও কোনো হাত নেই। আস্তে আস্তে সার্ভার ঠিক হয়ে যাচ্ছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে সার্ভার সচল হয়ে যাবে।’

বিমান কর্মকর্তারা জানান, সৌদি আরবের সার্ভার ত্রুটির কারণে গতকাল সকাল সোয়া ৭টার প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীরা প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন করাতে পারেননি। বেলা সোয়া ১১টায় দ্বিতীয় হজ ফ্লাইটেও এই সুবিধা পাননি যাত্রীরা। পরে তৃতীয় ফ্লাইটেও একই সমস্যা দেখা দেয়। তবে চতুর্থ ফ্লাইটের সময় সৌদি আরবের সার্ভার কিছুটা ঠিক হয়ে এলে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে গতি পায়। তবে তা পুরোপুরি সচল হয়নি।  ইমিগ্রেশন করতে না পেরে অনেকে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কয়েক হজযাত্রী জানান, প্রথম ফ্লাইটের কারণে বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় হজক্যাম্পে আসতে হয়েছে। কিন্তু সৌদি আরবের বুথগুলোতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সার্ভার নষ্ট থাকায় ইমিগ্রেশন করা যায়নি। জেদ্দায় গিয়ে ইমিগ্রেশন করতে বলা হয় তাদের।

বিমানের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল সাতটি ফ্লাইট হজযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়। তার মধ্যে বিমানের চারটি এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের তিনটি ফ্লাইট ছিল। এসব ফ্লাইটে ২ হাজার ৬০০ হজযাত্রী ঢাকা ছেড়ে যান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌদির সার্ভার আগের চেয়ে কিছুটা ঠিক হচ্ছে। তবে তা পুরোপুরি ঠিক হতে সময় লাগবে। যাত্রীদের ফ্লাইটের সময় কাছাকাছি চলে আসার পর সৌদি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় জেদ্দা গিয়ে ইমিগ্রেশন করতে হবে। পরে হজযাত্রীরা চলে যান। আজকালের মধ্যে সৌদি সার্ভার ঠিক হয়ে যাবে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ৪১৯ বাংলাদেশি হজযাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। সকালে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ। দুই মন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং যাত্রীদের বিদায় জানান।

আশকোনা হজক্যাম্পের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমানে যাবেন ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন। বাকিরা যাবেন সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সে। দুই মাসব্যাপী হজ ফ্লাইট পরিচালনায় শিডিউল ফ্লাইটসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। হজযাত্রী পরিবহনে বিমান নিজস্ব  চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীরা আশকোনা হজক্যাম্পে এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন। এবারও একই নিয়মে তারা আশকোনা হজক্যাম্প এবং শাহজালালে ইমিগ্রেশন শেষ করবেন। এরপর উভয় বিমানের হজযাত্রীদের শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি এক্সক্লুসিভ জোনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাদের সৌদি আরবের জেদ্দায় যে ইমিগ্রেশনের কাজ হতো, সেই সৌদি অংশের ইমিগ্রেশনের কাজ সেখানে করা হবে। এরপর হজযাত্রীরা স্ব-স্ব বিমানে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। এই এক্সক্লুসিভ জোনের সব কার্যক্রম থাকবে সৌদি আরব নিয়োজিত টেকনিক্যাল দলের হাতে। ফলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জেদ্দা বিমানবন্দরে আর ছয় থেকে সাত ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত