গড় আয়ু বৃদ্ধি, দরিদ্র ও অতিদরিদ্রের হার হ্রাস, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি ও শিশুমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। এগুলোর মতো আর্থ-সামাজিক খাতের প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও পিছিয়ে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর ক্ষেত্রে। অথচ যেকোনো দেশের উন্নয়নে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সূচকে বিশেষ জোর দিতে হবে। নইলে এসডিজি অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, আর্থ-সামাজিক খাতের সব সূচকে সাফল্য থাকলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তেমন একটা নেই। গত এক দশকে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়েছে। ২০০৯ সালে দেশে ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বেড়েছে। এরপর ২০১০ ও ২০১২ সালে এ হার ছিল ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে ২০১৩ সাল থেকে টানা
পাঁচ বছর দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশে স্থির হয়ে আছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. সামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সরকার অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রথম দিকে কষ্ট হলেও সর্বশেষ পাঁচ বছরে এটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থির রয়েছে। তিনি বলেন, এটাকে ধরে রাখতে হবে। নতুবা এসডিজি অর্জন অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জকে সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারলে এসডিজি অর্জনও সহজতর হবে। তাই এই কাজে গতি আনতে হবে।
বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে-২০১৪ অনুযায়ী, দেশে নেট প্রজনন হার দুই দশমিক তিন শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজননের এই হার কমিয়ে এক শতাংশের নিচে নিয়ে আসতে হবে।
ইউএনএফপিএর এক তথ্য বলছে, ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৯৬০ কোটি। ২০৪১ সালে আমাদের দেশের জনসংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়বে। ইউএনএফপিএর পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজর এম শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এক বিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। আবার এক বিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে লড়ছে। এজন্য যেকোনো দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জনংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জন্মহার কমাতে হবে। এজন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, উৎপাদনকারী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যমসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তবে দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) ব্রজ গোপাল ভৌমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার একই অবস্থায় স্থির রয়েছে। তবে ঢাকা শহরে ভাসমান লোকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এদের জন্য কাজে সমন্বয় আনতে হবে।
