বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম ভরসার নাম অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আর বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে সময়ের সেরা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। একই ম্যাচে দুজনের হলো ভিন্ন দুই অর্জন। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ানডেতে নিজের ১০০তম উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। আর সাকিব নাম লিখিয়েছেন অলরাউন্ডার হিসেবে অন্তত ৫ হাজার রান, ২৫০ উইকেট আর ৫০ ক্যাচ নেওয়া খেলোয়াড়ের এলিট ক্লাবে।
বংলাদেশের ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নিলেন মোস্তাফিজ। এই মাইলফলকে পৌঁছতে তার লেগেছে ৫৪ ম্যাচ। যা বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম। আর ওয়ানডে ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম। মোস্তাফিজের সমান ৫৪ ম্যাচ লেগেছিল নিউজিল্যান্ডের পেসার শেন বন্ডের। সবচেয়ে কম ৪৪ ম্যাচে শততম উইকেট নিয়েছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান। মোস্তাফিজ পেছনে ফেলেছেন ব্রেট লি, ট্রেন্ট বোল্ট, মোহাম্মদ শামির মতো বোলারদের। হারিস সোহেলকে আউট করে নিজের ১০০ উইকেট পূর্ণ করেন মোস্তাফিজ। এক বিশ্বকাপ আসরে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের রেকর্ড আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষেই করেছিলেন। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আরও ৫ উইকেট নিয়ে ২০১৯ বিশ্বকাপ আসরে মোস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০-এ। যা তাকে পৌঁছে দিয়েছে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় দ্বিতীয়তে। পাঁচ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম ওঠানো প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হলেন মোস্তাফিজ।
পাঁচ উইকেট নেওয়ায় মোস্তাফিজ করেছেন আরও এক রেকর্ড। ৫৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ৫ উইকেট নিলেন দ্য ফিজ। যা বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন স্পিনার আবদুর রাজ্জাককে। আরও এক জায়গাতে রাজ্জাকের সমান হয়েছেন মোস্তাফিজ। আসরে মোট ২০ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এখন মোস্তাফিজ। অন্যজন রাজ্জাকই। ক্যারিয়ারে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিলেন মোস্তাফিজ দ্বিতীয়বারের মতো। এর আগে নিজের ওয়ানডে অভিষেক সিরিজে ভারতের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর বিশ্বকাপে নিলেন টানা দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট। আগেরটি ছিল ভারতের বিপক্ষে। তাই বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার পাঁচ উইকেট নেওয়া বোলারও এখন মোস্তাফিজ।
সাকিবের অর্জনও কম নয়। অভিজাত এক ক্লাবে যোগ দিতে তার দরকার ছিল মাত্র একটি ক্যাচ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচ নিয়ে এ অলরাউন্ডারের ক্যাচ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০টিতে। আর পাঁচ হাজারের বেশি রান ও আড়াইশোর বেশি উইকেট আগেই ছিল সাকিবের সংগ্রহে। ওয়ানডে ইতিহাসে এই অভিজাত তালিকাটিতে এর আগে মাত্র তিনজন অলরাউন্ডার জায়গা করে নিয়েছেন। সনাথ জয়াসুরিয়া (১৩৪৩০ রান, ৩২৩ উইকেট, ১২৩ ক্যাচ), জ্যাক ক্যালিস (১১৫৭৯ রান, ২৭৩ উইকেট, ১৩১ ক্যাচ) ও শহিদ আফ্রিদি (৮০৬৪ রান, ৩৯৫ উইকেট, ১২৭ ক্যাচ)। সাকিব বিশ্বের চতুর্থ অলরাউন্ডার হিসেবে ঢুকে গেলেন এই এলিট ক্লাবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে সাকিবের রান ছিল ৬২৫৯ ও উইকেটসংখ্যা ২৬০টি।
