‘তুমি কী চাও, রফিক?’

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ০১:০৬ এএম

মোহাম্মদ রফিককে চেনেন দেশের সব মানুষ। লড়াকু, অবিস্মরণীয় সব বোলিং স্পেল, মারকুটে ব্যাটিংয়ের জন্য পেয়েছেন কিংবদন্তি খ্যাতি। দেশের হয়ে প্রথম ১০০ টেস্ট ও ওয়ানডে উইকেট নিয়েছেন। তার ক্যারিয়ার ও জীবন তুলে ধরেছেন রিয়াজ হাসান

 

জন্ম পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জে। বুড়িগঙ্গার তীর জিঞ্জিরাতে। ছোট্ট এক ঘরে ১৯৭০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে আসে শিশুটি। তারও অনেক আগেই অনটন তাদের সঙ্গী হয়েছে। অভাবের ঘরে আলো হয়ে এসেছেন তিনি। রফিকের বাবা মারা গেলেন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তে পড়তে। মোহাম্মদ ইদ্রিস রহমানকে ভালো করে মনেও করতে পারেন না। এরপর থেকে নানির বাড়িতে মানুষ। লেখাপড়ায় অত মন নেই আশপাশের পরিবেশে। খেলায় ছিল যত মন। অভাব, অনটন-বেদনার দিনগুলোতে খেলাতেই মুক্তি পেয়েছিলেন। থাকতেন যেখানে, আশপাশে ছিল আগানগর ও কালীনি মাঠ। বস্তির ছেলে রফিক তার বয়সের বন্ধু, সিনিয়রদের সঙ্গে খেলতেন ফুটবল, কখনো ক্রিকেটও। তবে ক্রিকেটেই মাতলেন। তাদের আগানগর মাঠে ঢাকার বিভিন্ন দল খেলতে আসত। ম্যাচের আগে, অবসরে অনুশীলন হতো। তাদের খেলা দেখতে দেখতেই খেলতে শুরু করলেন ছোট্ট বালক। রফিকের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসার জন্ম এবং ক্রিকেট প্রেম শুরু হলো। শুরুতে পেস বোলার, ব্যাটসম্যানও মারদাঙ্গা। ফলে ভালো খেলোয়াড়টিকে আগানগর ক্রিকেট দল নিতে দেরি করলো না। শুরু হলো খেলোয়াড়ি জীবন।

পড়ার সুযোগ হয়নি। মাঠে রাখালের কাজ করে গরু চরিয়ে জীবন কাটাতেন। নেশাই ছিল খেলা। ক্রিকেটটাই একমাত্র ভালো খেলতেন। কোনো বন্ধু, সিনিয়র খেলোয়াড়ের কাছে শুনেছিলেন, নদীর ওপারে আছে রাজধানী; ঢাকায় অনেক দল ক্রিকেট খেলে। কোনো কোনোদিন গরুগুলোকে মাঠে চরতে দিয়ে নদীর জলে ভেসে থাকা নৌকায় চড়ে বসতেন মাঝিকে বলে। চলে যেতেন বুড়িগঙ্গার ওপারে। বেড়ানো নয়Ñএকমাত্র উদ্দেশ্য ঢাকার মাঠে ভালো খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাপ, ভালোভাবে খেলা। তখন তো ঢাকাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের কেন্দ্রভূমি। ফলে নদীর ওপারে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকল না।

ভালো খেলোয়াড় বলে মোহাম্মদ রফিককে চিনে নিতে দেরি হয়নি কারও। অনেকের নজরেও পড়ে গেলেন কিশোর খেলোয়াড়। তারা তাকে উৎসাহ দেন নিয়মিত। উসমান ও সৈয়দ আলতাফ হোসেন হাতে ধরে পেস বোলিংয়ের খুঁটিনাটি শেখালেন। রফিক হয়ে উঠলেন জাত বোলার। তারপরও ভালো কোনো সুযোগ এলো না। তবে তার জীবন বদলে গেল ১৯৮৮ সালে। এখনো আল্লাহকে সে জন্য ধন্যবাদ দেন। মনে পড়ে স্পষ্ট, বাংলাদেশ দলের নামকরা ক্রিকেটার ও দারুণ পেস বোলার ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম দুলু। ছেলেটির বোলিং ও তার ক্রিকেটের প্রতি নিবেদন দেখেই দুলুর মনে হলো, সে ভালো করবে। কদিনের খেলা দেখেই বাংলাদেশ বিমান নামের তখনকার অন্যতম সেরা দলে রফিককে খেলার সুযোগ দিলেন মহৎপ্রাণ এই ক্রিকেটার। শুরু হলো প্রিমিয়ার লিগে ‘মোহাম্মদ রফিক’ নামের অসাধারণ খেলোয়াড়ের জয়যাত্রা। এখনো দুলুকে মনে করেন। নিজে খেলোয়াড় বলে খেলা দিয়েই তার বিচার করেনÑ ‘দুলু ভাইয়ের মতো ভালো ফাস্ট বোলার এত দেশের এত ভালো খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেও খুব চোখে পড়েছে। তিনি রান কম দিয়ে রেগুলার উইকেট নিয়েছেন।’ ততদিনে স্পিনার হয়ে গেছেন রফিক। পাকিস্তানের পেস বোলার ওয়াসিম হায়দার দেখেছিলেন রফিকের বোলিং। পেস বোলারদের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান, তারা ফাস্ট বোলার দেখলেই বলে দিতে পারেন ভবিষ্যৎ। রফিকের বলের গতির চেয়ে অনেক বেশি টার্নÑ দেখলেন ওয়াসিম। বলেই বসলেন, ‘আমাদের দেশে অসাধারণ লেগ স্পিনার আবদুল কাদির খেলেছিলেন। তার বলের মতো টার্ন তোমার বলেও আছে। ফলে স্পিন বলের দিকে মনোযোগ দাও। তুমিও বিশ^সেরা হয়ে উঠতে পারবে।’ এরপর থেকে স্পিনার হতে লাগলেন। তার কোনো শিক্ষক ছিলেন না। রফিক নিজেই নিজেকে করেছেন ভালো অফ স্পিনার। প্রতিটি খেলায় ভালো করেছেন। ঢাকার সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে বিমানের হয়ে খেলায় আরও ভালো খেলোয়াড় হয়েছেন। প্রিমিয়ারে ভালোও করলেন খুব। ফলে ডাক এলো ‘এ’ দলে। ১৯৯৪ সালে খেললেন ‘সার্ক টুর্নামেন্ট’। সার্কের সহযোগী দেশ ও ক্রিকেট শাসকÑ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সেরা দলের পরের দলের ভালো সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলতে লাগলেন। বামহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক প্রথম আন্তর্জাতিক মঞ্চেই নিজেকে চিনিয়ে দিলেন। বিশ^ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দেশ ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জয়লাভ করেছে তার প্রাণপণ সংগ্রামে। সেই ম্যাচে রফিকের বোলিং স্পেল ছিল ১০-০-২৫-৩। ফলে পরের বছর লাল-সবুজ জার্সি তার গায়ে উঠল। রফিকের সম্মানে জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা বাজতে লাগল আকাশে। পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষের সামনে পরিচিত হতে লাগলেন তিনি। হলেন টাইগার টিমের অন্যতম সেরা। সেই দিনটির কথা কোনোদিন ভুলবেন না। এখনো বলেন, ‘কোনোদিন ক্রিকেটার হবো বা জীবনে কিছু হতেই হবে এমন উদ্দেশ্য কোনোকালেই ছিল না। তারপরও ভাগ্য ক্রিকেটের দৌলতে আমাকে অনেক দিয়েছে।’ মেধাবী ও আন্তরিকদের ভাগ্য বরাবরই ভালো। সেটিরই আরেক প্রমাণ হলেন। এরপর খেলা, মেধা ও ভাগ্য জড়িয়ে গেল জীবনে। 

নিজেকে চেনালেন এশিয়া কাপে। বাংলাদেশ দলের প্রথম ম্যাচ ছিল রফিকের জীবনের প্রথম জয়ের গল্পও। ভারতের গ্রেট ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারকে আউট করেই শুরু করলেন। মাস্টার ব্লাস্টার হেরে গেলেন বাংলার জলে, কাদায় স্বপ্ন বোনা ক্রিকেটারের রঙিন বাহুর কাছে। এরপর তো তাকে নিয়ে কোনোদিন কারও কোনো বক্তব্য ছিল না। সবাই চেয়েছেন, রফিক ভালো খেলুন। দুবাইয়ের খালিজ টাইমস পুরো আট কলাম ছবি ছেপেছে, ছিল ঘূর্ণি জাদুকরের অসাধারণ একটি ছবিও। এখনো ছবি ও লেখাটি আছে তার অনেক সংগ্রহের ভিড়ে, অনেক সম্মাননার অন্যতম হয়ে। আরও একবার টেস্টে ও দুবার একদিনের ম্যাচে রফিক আউট করেছেন লিটল মাস্টারকে। অথচ কে না জানেÑ এখনো ভারত স্পিনারদের রাজ্য। তাদের দেশের খেলোয়াড়রা স্পিন বল খেলেই বড় হন। শেন ওয়ার্নের মতো গ্রেটকেও তারা চার, ছক্কা যখন-তখন মেরেছেন। সেই সেরা ব্যাটসম্যানদের চেয়েও সেরা শচীন হেরে যান কেন মোহাম্মদ রফিকের কাছে? উত্তরটি শচীন টেন্ডুলকারই তার সহ-খেলোয়াড়দের দিয়ে দিয়েছিলেন ড্রেসিংরুমে, ‘বাংলাদেশের অন্যতম সেরা স্পিনার মোহাম্মদ রফিক খুব ভালো আর্ম বল করে। তাকে সবসময় সোজা ব্যাটে খেলে পার পাবে। নয়তো সে উইকেট খেয়ে নেবে।’ প্রায় সব খেলায় রফিক তার সেরাটি দিয়েছেন, এটিই তার সাফল্যের রহস্য। জীবনের ঝুলিতে পুরেছেন অনেক অর্জন। ১৯৯৭ সালে প্রথম তার দেশ একদিনের খেলায় জয় পেয়েছে। কেনিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম জয়ের সে গল্পটি হয়েছে ভারতের হায়দরাবাদে। রফিক ছিলেন আমাদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। মারকুটে বলে তাকে নামিয়ে দিয়েছিলেন কোচ। সেদিনের ৭৭ রানের ইনিংস যারা দেখেছেন, তারা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না। যেকোনো সেরা খেলোয়াড়ের মতোই ছিল ছন্দময় ক্রিকেট। চার মেরেছেন অরবিন্দ ডি সিলভার মতো। কে বলবেÑ কোনোদিন প্রথম চার বা পাঁচ ব্যাটসম্যানের তালিকায় তার নাম ছিল না, তিনি অলরাউন্ডার। এই জয় যেমন তার দেশকে সম্মানিত করেছে, তেমনি রফিক সারা জীবন এই গল্প করেছেন। বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ইনিংস নয়, দল লাল-সবুজ পতাকাকে আকাশে ওড়াতে পেরেছেÑ এটিই আমার সেদিনের সাফল্য।’ স্বপ্নের মতো ইনিংস কীভাবে খেললেন? ‘ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা পারলে আমরা কেন পারব নাÑ এই প্রশ্নটিই ছিল মনে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সবসময় চেষ্টা করেছি। জান দিয়ে লড়েছি।’ সেই বছরই বাংলাদেশ আইসিসি বিশ^কাপে জিতে টেস্ট খেলার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেই প্রতিযোগিতায় ১৯টি উইকেট নিয়েছেন। উইকেট প্রতি গড়ে রান দিয়েছেন মাত্র ১০। কোনোদিন কেউ ভাবতে পারেনÑ বোলিং এতটা ভালো হয় কারও! শুধু তাই নয়Ñ স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলায় ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ফাইনালে বৃষ্টিতে ব্যাট করতে নেমে ১৫ বলে করেছেন ১৬। তারপরও কৃতিত্বের অর্জন তাকে ঘিরে ধরতে পারে না। বারবার বলেন, ‘সবাইকেই সবার প্রয়োজন পড়ে। বাংলাদেশ দলের আমরা তেমন ছিলাম। কেউ ব্যাট, কেউ বল হাতে দলের জন্য ভালো করেছি। ম্যাচ জিতলে যেমন ১১ জনই খুশি হয়েছি, তেমনি ম্যাচ হারলে পুরো দলের খারাপ লেগেছে।’ আইসিসি জয় আমাদের খেলোয়াড়দের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে শ্যামল এই ক্রিকেটারের দৌলতে তার এলাকাবাসী ও পুরো দেশ পেয়েছে সেরা উপহার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চেয়েছিলেন তাদের সংবর্ধনা দেওয়ার সময়Ñ ‘তুমি কী চাও, রফিক?’ মাথা নিচু করে থাকা মোহাম্মদ রফিকের বস্তির জীবনটি এক পলকে সামনে চলে এলো। হাজার জনের বুকের ব্যথা তার বুকে বাজল। রক্ত চলাচল করতে লাগল। কেবল বললেন, ‘বুড়িগঙ্গার ওদিকে বাবুবাজারে ব্রিজ হলে আপা আমার এলাকার মানুষের যাতায়াতে খুব সুবিধা হতো।’ সেখানে দ্বিতীয় কেরানীগঞ্জ সেতু হয়েছে। হাজারো মানুষ ব্রিজ পেরিয়ে চলাচল করেন। চোখে পানি চলে আসে তার। মানুষ কথা রাখে!

মহৎ রফিকের মনটি আরও অনেক বড়। তাদের আইসিসি বিশ^কাপ জয়ী দলের সবাইকে সরকার থেকে জায়গা দেওয়া হয়েছিল বাড়ি করতে। সবাই বাড়ি করেছেন বা রেখেছেন নিজেদের জন্য। লেখাপড়া না জানা রফিক তার জায়গাটুকু দিয়েছেন স্কুল করতে। স্কুল হয়েছে, ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করে।

২০০০ সালে টেস্ট খেলা শুরু করলেন। প্রথম টেস্ট ম্যাচের পর জীবনটাই বদলে গেল। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলো। দল থেকেই বাদ পড়ে গেলেন। তবে এতটুকু হারেননি। টানা তিনটি বছর নিজের মতো করে খেলে গেছেন। আইসিসি তাকে আবার দেখে ভালো অ্যাকশন বলে রায় দিয়েছে। তিনি আরও ভয়ংকর বোলার হিসেবে দেশের হয়ে খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে তার ছয়টি উইকেটই সেই প্রমাণ। ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুটি সিরিজে ছিলেন সেরা বোলার। আরও দুঃখ আছে। ক্যারিয়ারের সেরা সময়েও রফিকের মতো বিরল ও কার্যকর বোলারকে না খেলিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। অভিযোগটি ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে সেটি নিয়ে কিছুই বলতে নারাজ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলারেরÑ ‘আমার চেয়ে যোগ্য কোনো খেলোয়াড় আমার জায়গায় দলে এলে দেশের উপকার হতো বলে মনে করতাম। সেটি ঘটেছে কি না সেই সাক্ষ্য তখনকার ক্রিকেটার, পত্রিকার খবর ও টেলিভিশনের ফুটেজ বলে। তারপরও দলে ফেরার জন্য খুব চেষ্টা করেছি। দলের তখনকার খেলোয়াড় রফিকের কী অভাব ছিল সেটি সেই সময়ের নির্বাচকরাই ভালো বলতে পারবেন।’ বসে থাকা, দলে ফেরার যুদ্ধের জবাব দিয়েছেন ২০০৭ সালের বিশ^কাপে। নিয়েছিলেন আটটি উইকেট। পরের বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই এই ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নির্বাচকদের সিদ্ধান্তটি খেলাকে জীবন দিয়ে ভালোবাসা রফিকের ভালো লাগেনি। আরও দুটি বছর খেলতে চেয়েছিলেন। ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছিল নতুনদের সুযোগ করে দিতে। জীবনে আশা, বেদনা পাশাপাশি চলে। সেটিই ঘটল দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজে। টেস্টে ১শ উইকেট নিয়ে ইতিহাসের খাতায় প্রথম বাংলাদেশি শততম টেস্ট উইকেটধারী হিসেবে নাম লেখালেন স্বর্ণালি বোলার। টেস্ট ও একদিনের ম্যাচে রান করেছেন এক হাজারের বেশি। আরও চারটি বছর ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশের প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন।  ব্যক্তিগত জীবনও গুছিয়ে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে বিদায় দেওয়ার পরের বছরই মাকে নিয়ে হজ করেছেন। আস্তে আস্তে ব্যবসা গুছিয়ে নিয়েছেন। এখন তিনি পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। তবে খেলাকে ছাড়তে পারেননি সবুজ রাজকুমার। এখন প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম দল রংপুর রাইডার্সের কোচ। বলেন, ‘ক্রিকেট আমাকে সব দিয়েছে। শূন্য থেকে রাজা বানিয়েছে। আর কিছুই ক্রিকেট থেকে পাওনা নেই।’ তবে দেশের কোনো কাজে তাকে ব্যবহার করা হয় নাÑএই বেদনা বয়ে বেড়ান ক্রিকেট অনুরাগীরা। সে নিয়েও তেমন অভিযোগ করতে নারাজ। কেবল মুখ ফুটে বের হয়েছেÑ ‘বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) যে সিদ্ধান্তই নিক, সেটিই দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো বলে খেলোয়াড়ি জীবন থেকে বিশ^াস করে এসেছি। সেই ধারণা এখনো আছে।’ সমাজের দায়ও পূরণ করে চলেছেন অসাধারণ মানুষ। আড়াই শতক জমি দান করেছেন মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের জন্য। সেই কাজে তার সঙ্গে আছেন জালাল মোল্লা নামের ভদ্রলোক। তাদের মাদ্রাসায় শ’খানেক শিশু লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হচ্ছে। প্রায় দিনই তাদের সঙ্গে খেতে বসে যান এই উজ্জ্বল তারকা। নিজের চার সন্তানের মতোই তাদের ভালোবাসেন। মানুষকে ভালোবাসার ও পাশে দাঁড়ানোর অনুভূতিটি তাকে দিয়েছিলেন নানু। তাকে সন্তানের মতো মানুষ করেছেন। অনেক কষ্টেও সুখে থাকা শিখিয়েছেন। তিনি ২০০৪ সালে চলে গেছেন দুনিয়া ছেড়ে। এখনো মনে পড়লে তার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় বুক ভাসান হার না মানা অদম্য ক্রিকেটার।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত